ঢাকাMonday , 13 April 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. আশাশুনি
  3. ই-পেপার
  4. কলারোয়া
  5. কালিগঞ্জ
  6. কৃষি
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. জুলাই শহীদ
  10. তালা
  11. দেবহাটা
  12. পরিবেশ ও জলবায়ু
  13. ফিচার
  14. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  15. বিনোদন

ঐক্যের বন্ধনে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ #সাতক্ষীরায় ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন

news_admin
April 13, 2026 10:05 pm
Link Copied!

আবু সাইদ বিশ্বাস: বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের বন্ধনে সারাদেশের ন্যায় সাতক্ষীরাতেও সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, সুন্দর, জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন হচ্ছে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা – এই চিরন্তন আকাঙ্ক্ষাকে বুকে নিয়ে আজ সোমবার সাতক্ষীরা জেলাতে উদযাপিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। বর্ষপরিক্রমায় চৈত্র সংক্রান্তির শেষ সূর্যাস্তের সাথে সাথেই বিদায় নেবে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, আর ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শুরু হবে নতুন বছর ১৪৩৩। দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা শহর ও সব উপজেলায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ মেলা ও শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা চলছে। এছাড়া, উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ইউনিয়নে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ আয়োজনসহ বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজন গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মসূচি অনুযায়ী, ০১ বৈশাখ ১৪৩৩ (১৪ এপ্রিল ২০২৬) মঙ্গলবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন কালেক্টরেট পার্কে জাতীয় সঙ্গীত ও “এসো হে বৈশাখ” গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপনের সূচনা হবে।

সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কালেক্টরেট পার্ক থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে, যা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে মিলিত হবে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য নির্ধারিত পোশাক হিসেবে ফতুয়া, পাঞ্জাবী ও পায়জামা, লুঙ্গি, লাল শাড়ি এবং বৈশাখী শাড়ি পরিধান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকাল ৮টায় শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। মেলায় থাকবে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পণ্য, হস্তশিল্প, খাবারসহ নানা আয়োজন। বিকাল ৪টায় সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে ঘুড়ি উৎসব ও লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। একই দিন বিকাল ৫টায় শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য পরিবেশনা উপস্থাপন করবেন। এছাড়া সুবিধাজনক সময়ে শিশু একাডেমি ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে ও যথাযথ আড়ম্বরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করবে। এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার এবং শিশু পরিবার (এতিমখানা)সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেশন করা হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলা নববর্ষের এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। উৎসব বরণ করতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন স্থানীয় চারু ও মৃৎশিল্পীরা। শহরের মোড় থেকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সবখানেই চলছে বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রস্তুতি। বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর কাগজের স্তর বসিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে বিশাল বাঘ, হাতি আর নানা লোকজ মোটিফ, যেন প্রতিটি ছাঁচে, প্রতিটি রঙে ফিরে আসছে গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ। শহরের প্রাণকেন্দ্র মিনিমার্কেটে শিল্পী রফিকুল ইসলাম তখন তুলির শেষ টান দিতে ব্যস্ত। ক্লান্তি আছে, তবু চোখে তৃপ্তির ঝিলিক। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরেই ঘুমহীন সময় কাটছে, তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাজ এগোচ্ছে দ্রুত। তাঁর কণ্ঠে একধরনের গর্ব—এই শিল্পের ভেতর দিয়েই তিনি তুলে ধরতে চান সাতক্ষীরার ঐতিহ্য। সেখানেই কথা হয় কণ্ঠশিল্পী চৈতালি মুখার্জীর সঙ্গে। তাঁর কাছে পয়লা বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, এটি শিকড়ে ফেরার দিন। এদিনই মনে করিয়ে দেয়, বহু শতাব্দীর পথ পেরিয়েও বাঙালির সম্প্রীতির বন্ধন অটুট আছে। বাঙালি সংস্কৃতি এগিয়ে চলছে। মানুষ শিকড় ভুলে যায় না, ফিরে আসে মাটির টানে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, ‘বৈশাখ উপলক্ষে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আশা করছি, বৈশাখী অনুষ্ঠান সাতক্ষীরার মানুষ এবার আনন্দঘন পরিবেশে উপভোগ করবে।’