Category: জাতীয়

  • সাতক্ষীরায় ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

    সাতক্ষীরায় ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

    নিজস্ব প্রতিবেদক: গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই ঘোষণাপত্র কার্যকরের দাবিতে দেশব্যাপী ঘোষিত ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় কলারোয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি মো. জুবায়ের হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক জেলা সভাপতি মো. জিয়ারুল ইসলাম জিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মো. নাজমুল ইসলাম।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা অফিস সম্পাদক নাহিদ হাসান, জেলা অর্থ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা মাদ্রাসা সম্পাদক, জেলা বিজ্ঞান সম্পাদক ফয়সাল হোসেন, জেলা সহকারী অফিস সম্পাদক আহসান হাবীব ইমরোজ, কলারোয়া পৌর সভাপতি মোস্তাকিম বিল্লাহ, কলারোয়া পূর্ব সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, কলারোয়া পশ্চিম সভাপতি আবু রায়হানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ ও আহত ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি না করে অবিলম্বে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

    তারা আরও বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে ছাত্র-জনতা আবারও জুলাই অভ্যুত্থানের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। ছাত্র-জনতা পুনরায় মাঠে নামলে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলেও বক্তারা মন্তব্য করেন।

    সমাবেশে বক্তারা গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই ঘোষণাপত্র দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে এসব দাবিতে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

  • বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে আইনজীবী ফোরামকে স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল-সমাবেশ

    বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে আইনজীবী ফোরামকে স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল-সমাবেশ

    মোঃ হাফিজুল ইসলাম :বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিবন্ধিত সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনার চত্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল আদালত চত্বর ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    সংগঠনের জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আকবর আলীর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার।বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং আইনজীবীদের পেশাগত অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। গত ১৭ বছরে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট অন্যতম সক্রিয় ইউনিট হিসেবে কাজ করেছে বলেও তারা দাবি করেন।

    বক্তারা বলেন, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ সময় তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে দ্রুত বিএনপির নিবন্ধিত সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এ স্বীকৃতি পেলে আইনজীবীরা দলীয় কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আরও সুসংগঠিতভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

    সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। কারও বিরুদ্ধে অর্থ আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন।

    বক্তারা সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মতপার্থক্য থাকলে তা সংগঠনের অভ্যন্তরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। ব্যক্তিগত বা প্রকাশ্যে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য পরিহার করে সংগঠনের ঐক্য অটুট রেখে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু সাইদ রাজা, অ্যাডভোকেট এবিএম সেলিম, অ্যাডভোকেট ই. জে. সাহরিয়ার হাসিব, অ্যাডভোকেট জি. এম. ফিরোজ আহমেদ, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সরদার সাইফ, অ্যাডভোকেট আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন শাওন, অ্যাডভোকেট মাকফুর রহমান , অ্যাডভোকেট রেজওয়ান আলী, অ্যাডভোকেট আকরাম আলী, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বাপ্পি, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সোহেল, অ্যাডভোকেট শাহানা ইমরুজ, অ্যাডভোকেট আয়ুব আলী, অ্যাডভোকেট ইয়াছিন হাবিব, অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দীন, অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ডালিম, অ্যাডভোকেট শাহাজান জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট এবাদুল হক, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবু, অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বাবলু, অ্যাডভোকেট আলামিন আলম, অ্যাডভোকেট শেখ হেলালুজ্জামান হেলাল, অ্যাডভোকেট বখতিয়ার, অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ, অ্যাডভোকেট তারিক ইকবাল অপুসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শতাধিক আইনজীবী।

  • প্রাথমিক শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি পেলেন সাতক্ষীরার ১৩ গুণী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

    প্রাথমিক শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি পেলেন সাতক্ষীরার ১৩ গুণী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

    আব্দুর রহমান: প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সৃজনশীল উদ্যোগে বিশেষ অবদান রাখায় সাতক্ষীরার বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এবার সম্মানিত করা হচ্ছে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬’-এ। জেলার শিক্ষা অঙ্গনে আলো ছড়ানো এসব মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন স্বাক্ষরিত তালিকায় জেলার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (পুরুষ) নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ সিরাজুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরা সদরের সাতানী ভাদড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। অন্যদিকে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (মহিলা) হয়েছেন শিউলি খাতুন, যিনি খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (পুরুষ) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ মনজুরুল ইসলাম। তিনি কলারোয়া উপজেলার রামভদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। একই বিভাগে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হয়েছেন মোছাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি সদর উপজেলার বাটকেখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কাব কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (পুরুষ) হয়েছেন মোঃ অলিউল ইসলাম এবং শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হয়েছেন শেখ মর্জিনা খাতুন। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন নাজমা সুলতানা। শ্রেষ্ঠ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ শাহজাহান আলী। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ ইন্সট্রাক্টর (ইউপিইটিসি) নির্বাচিত হয়েছেন বৈদ্যনাথ সরকার। আর পিটিআই পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইন্সট্রাক্টর হয়েছেন প্রভাষ কুমার বিশ্বাস। জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ মাসুদুর রহমান। একই সঙ্গে শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন অর্ণব দত্ত। অন্যদিকে জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে ফিংড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬-এর বিভাগীয় পর্যায়ের বাছাই কার্যক্রম আগামী ২৩ মে খুলনায় অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলার নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৩ মে শনিবার সকাল ৯টায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এ বিভাগীয় পর্যায়ের বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এতে সাতক্ষীরাসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা অংশ নেবেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নির্বাচিতদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণসহ যথাসময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা শুরু

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা শুরু

    স্টাফ রিপোর্টার: দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হয়েছে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয় পর্যায় থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত ধাপে ধাপে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা) জারি করা এক স্মারকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ এবং কাবিং- এই চারটি বিভাগে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। ক্রীড়া বিভাগে ১০০ মিটার দৌড়, দীর্ঘ লাফ, উচ্চ লাফসহ বিভিন্ন ইভেন্ট রয়েছে। সাংস্কৃতিক বিভাগে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, নৃত্য, গান, গল্প বলা, উপস্থিত বক্তৃতা ও বিতর্কসহ মোট ১১টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে কুইজ প্রতিযোগিতা। সময়সূচি অনুযায়ী, বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করে ১৯ মে’র মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা পাঠাতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ১৯-২০ মে, উপজেলা পর্যায় ২২-২৩ মে, জেলা পর্যায় ৬-৭ জুন এবং বিভাগীয় পর্যায় ৮-৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, শুধুমাত্র তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে এবং ছেলে-মেয়ে পৃথক গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। প্রতিযোগিতার সব ধাপ প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান নীতিমালা-২০২৬ অনুসরণ করে আয়োজন করতে হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ১৯৮৫ সাল থেকে চালু থাকা এ পদক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সৃজনশীল অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

  • এসএসসির পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে জামায়াত আমির

    এসএসসির পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে জামায়াত আমির

    এফএনএস: এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুর-১০ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, কাজীপাড়া সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় বিরোধীদলীয় নেতা পরীক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজখবর নেন এবং তাদের সুস্থতা ও ভালোভাবে পরীক্ষা দিয়ে সফলতার জন্য মহান রবের দরবারে দোয়া করেন। এ সময় তিনি কেন্দ্র সচিবকে পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে পরামর্শ দেন এবং পরীক্ষাকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা। কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের বসার জন্য যে ছাউনি এবং প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণার্তদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেটিও তিনি পরিদর্শন করেন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে কথা বলেন।

  • ঐক্যের বন্ধনে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ #সাতক্ষীরায় ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন

    ঐক্যের বন্ধনে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ #সাতক্ষীরায় ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন

    আবু সাইদ বিশ্বাস: বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের বন্ধনে সারাদেশের ন্যায় সাতক্ষীরাতেও সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, সুন্দর, জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন হচ্ছে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা – এই চিরন্তন আকাঙ্ক্ষাকে বুকে নিয়ে আজ সোমবার সাতক্ষীরা জেলাতে উদযাপিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। বর্ষপরিক্রমায় চৈত্র সংক্রান্তির শেষ সূর্যাস্তের সাথে সাথেই বিদায় নেবে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, আর ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শুরু হবে নতুন বছর ১৪৩৩। দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা শহর ও সব উপজেলায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ মেলা ও শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা চলছে। এছাড়া, উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ইউনিয়নে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ আয়োজনসহ বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে।
    বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজন গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মসূচি অনুযায়ী, ০১ বৈশাখ ১৪৩৩ (১৪ এপ্রিল ২০২৬) মঙ্গলবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন কালেক্টরেট পার্কে জাতীয় সঙ্গীত ও “এসো হে বৈশাখ” গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপনের সূচনা হবে।

    সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কালেক্টরেট পার্ক থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে, যা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে মিলিত হবে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য নির্ধারিত পোশাক হিসেবে ফতুয়া, পাঞ্জাবী ও পায়জামা, লুঙ্গি, লাল শাড়ি এবং বৈশাখী শাড়ি পরিধান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকাল ৮টায় শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। মেলায় থাকবে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পণ্য, হস্তশিল্প, খাবারসহ নানা আয়োজন। বিকাল ৪টায় সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে ঘুড়ি উৎসব ও লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। একই দিন বিকাল ৫টায় শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য পরিবেশনা উপস্থাপন করবেন। এছাড়া সুবিধাজনক সময়ে শিশু একাডেমি ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে ও যথাযথ আড়ম্বরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করবে। এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার এবং শিশু পরিবার (এতিমখানা)সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেশন করা হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলা নববর্ষের এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। উৎসব বরণ করতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন স্থানীয় চারু ও মৃৎশিল্পীরা। শহরের মোড় থেকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সবখানেই চলছে বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রস্তুতি। বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর কাগজের স্তর বসিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে বিশাল বাঘ, হাতি আর নানা লোকজ মোটিফ, যেন প্রতিটি ছাঁচে, প্রতিটি রঙে ফিরে আসছে গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ। শহরের প্রাণকেন্দ্র মিনিমার্কেটে শিল্পী রফিকুল ইসলাম তখন তুলির শেষ টান দিতে ব্যস্ত। ক্লান্তি আছে, তবু চোখে তৃপ্তির ঝিলিক। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরেই ঘুমহীন সময় কাটছে, তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাজ এগোচ্ছে দ্রুত। তাঁর কণ্ঠে একধরনের গর্ব—এই শিল্পের ভেতর দিয়েই তিনি তুলে ধরতে চান সাতক্ষীরার ঐতিহ্য। সেখানেই কথা হয় কণ্ঠশিল্পী চৈতালি মুখার্জীর সঙ্গে। তাঁর কাছে পয়লা বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, এটি শিকড়ে ফেরার দিন। এদিনই মনে করিয়ে দেয়, বহু শতাব্দীর পথ পেরিয়েও বাঙালির সম্প্রীতির বন্ধন অটুট আছে। বাঙালি সংস্কৃতি এগিয়ে চলছে। মানুষ শিকড় ভুলে যায় না, ফিরে আসে মাটির টানে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, ‘বৈশাখ উপলক্ষে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আশা করছি, বৈশাখী অনুষ্ঠান সাতক্ষীরার মানুষ এবার আনন্দঘন পরিবেশে উপভোগ করবে।’

     

     

  • সাতক্ষীরায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প স্থাপনের দাবী জানালেন এমপি ইজ্জত উল্লাহ

    সাতক্ষীরায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প স্থাপনের দাবী জানালেন এমপি ইজ্জত উল্লাহ

    স্টাফ রিপোর্টার: ভোলায় উৎপাদিত গ্যাস সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে শিল্পকারখানা স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না- তা জানতে চেয়েছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংসদে বিদ্যুমন্ত্রী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের নিকট সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে প্রশ্ন করেন তিনি। সাতক্ষীরা ১ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ভোলায় যে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। সেখান থেকে আমাদের সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সরবরাহ করে কোন ইন্ড্রাস্ট্রি করার পরিকল্পনার কথা জানতে চান। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ বিষয়ে জানতে চান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুমন্ত্রী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এটি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

  • পানিতে ডুবে একই পরিবারের ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

    পানিতে ডুবে একই পরিবারের ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

    ডেস্ক রিপোর্ট: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় ক্ষেতের জমির পানিতে খেলতে গিয়ে একই পরিবারের ৩ শিশু শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ফটিকগুলি গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে আশপাশের কৃষিজমি পানিতে টইটুম্বুর হয়ে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি থামার পর দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকগুলি গ্রামের শিপার আহমদের ছেলে জিসান আহমেদ (১২), আশিক আলীর ছেলে ইমাদ আহমেদ (৯) এবং শাহেব আলীর ছেলে লাবিব আহমেদ (৭) বাড়ির পাশের জমিতে জমে থাকা পানিতে খেলতে নামে। খেলার একপর্যায়ে তারা সদ্য মাটি কেটে নিচু করা একটি জমিতে নেমে পড়ে এবং হঠাৎ পা পিছলে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। এসময় এক পথচারী বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে রবির বাজারে এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৩ শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান মোল্লাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ মর্মান্তিক ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

  • সাতক্ষীরায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল জব্দ: কারাদণ্ড, জরিমানা

    সাতক্ষীরায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল জব্দ: কারাদণ্ড, জরিমানা

    আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরায় অবৈধভাবে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মজুত এবং বিক্রির অপরাধে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে অবৈধভাবে জ্বালানি পরিবহনের সময় ৭ হাজার লিটার পেট্রোলসহ যমুনা পেট্রোলিয়ামের লোগোযুক্ত একটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চালকসহ চারজন ডিলারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোররাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার গাভা এলাকা থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। আটক চালক মো. রিপন শেখ (৩৮)। তিনি খুলনার খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে গাভা এলাকায় একটি ট্রাক সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ট্রাকটির কাগজপত্র যাচাই করতে চাইলে চালক তা দেখাতে পারেননি। পরে অবৈধভাবে জ্বালানি পরিবহনের অভিযোগে ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয় এবং চালককে আটক করা হয়। জব্দ করা পেট্রোলের উৎস ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান, ৭ হাজার লিটার পেট্রোলসহ জব্দ করা ট্রাকটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আটক চালককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস জানান, যমুনা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছে, ওই পেট্রোল তাদের ওখান থেকে বের হয়নি। এ কারণে পেট্রোলের দাবিদার ওই চারজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সোমবার বিকেলে জব্দ করা ৭ হাজার লিটার পেট্রোলের দাবিদার চার ডিলারকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তারা হলেন- মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম, মেসার্স আলেয়া অয়েল সাপ্লাইয়ের মো. ইউনুস আলী মৃধা, মেসার্স সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের ইউসুফ আলী এবং মেসার্স এম এ জলিল এন্টারপ্রাইজের মো. জলিল। জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, এদিকে বেশী দামে তেল বিক্রির অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত সোমবার দুপুরে শহরের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা সিআরবি’র সহযোগিতায় ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পলাশপোল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে পলাশপোল শাহাজুদ্দিনের পুত্র আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে রক্ষিত ৩০ লিটার পেট্টোল ও অকটেন পাওয়া যায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, এসব পেট্টোল ৩শ থেকে ৫শ টাকা লিটারে বিক্রি করে আসছিলেন। অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ৩০ লিটার তেল জব্দ করা হয়। এছাড়া আনোয়ার হোসেনকে ৫হাজার টাকা জরিমানা এবং ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। মোবাইল কোর্ট অভিযানে পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন খোকনকে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত ও বিক্রির দায়ে আটক করা হয়। পরে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬ অনুযায়ী ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানান, অবৈধ জ্বালানি মজুত ও বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • মহাদেব চন্দ্র সাধুরর প্রতারণায় দুই ব্যবসায়ী খুয়ালেন ১৯ কোটি টাকা

    মহাদেব চন্দ্র সাধুরর প্রতারণায় দুই ব্যবসায়ী খুয়ালেন ১৯ কোটি টাকা

    স্টাফ রিপোটার: মেসার্স সাধু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর প্রতারণার শিকার হয়ে দুই ব্যবসায়ী খুইয়েছেন ১৯ কোটি টাকা। ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতনের ১৫ কোটি টাকা এবং মানিকগঞ্জের ব্যবসায়ী লিটন কুমার আইজের ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। জানা গেছে, ডিও ব্যবসার আড়ালে এই টাকা হাতিয়ে নেয় মাহাদেব সাহা। টাকা পরিশোধ না করে উল্টো মামলা করে হয়রানির করা হচ্ছে ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতন ও লিটন কুমার আইজকে। মামলার হয়রানি থেকে বাঁচাতে ও জীবনের নিরাপত্তা এবং প্রতারক মাহাদেব সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাহাবার এগ্রোর স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন রতন ও রাধিকা ডাল মিল অ্যান্ড ওয়েল কোম্পানির মালিক লিটন কুমার আইজ। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল হোসেন রতন দাবি করেন, প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর বিরুদ্ধে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরা, পাবনা, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যবসায়িক লেনদেনের নামে প্রতারণা, চেক ডিজঅনার, নারী ধর্ষণ, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১৬টির বেশি মামলা রয়েছে। তারপর ভিন্ন কৌশলে ব্যবসার নামে প্রতারণা করে উল্টো ব্যবসায়ীদের নামে মামলা দিয়ে র্দীঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে। মহাদেব চন্দ্র সাধু ও তার ভাগিনাসহ ১৫ -১৬ জনের একটি চক্র এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। লিখিত অভিযোগে ইসমাইল হোসেন রতন জানান, ২০২৫ সালে চট্টগামের জনৈক ব্যবসায়ী ওয়াহেদ মাহমুদের মাধ্যমে টেলিফোনে পরিচয় হয় প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর সঙ্গে। মাহদেব চন্দ্র সাধু নিজেকে খুলনার ডুমুরিয়ার প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী জয়দেব সাহার নাম ব্যবহার করে মিথ্যা পরিচয় দেন। পরে জয়দেব সাহা নামে আমার কাছ থেকে ভুট্টা নেয়ার মাধ্যমে লেনদেন শুরু করেন। ভুট্টার পাশাপাশি মুসর ডাল, সরিষাসহ বিভিন্ন পণ্যের ডিও ক্রয়-বিক্রয় শুরু করেন। পরে বিভিন্ন কৌশলে এক থেকে দেড় বছরে প্রায় ১৫ কেটি টাকার পণ্য নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি চুয়াডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন কথিত জয়দেব সাহা। পরে ওই থানায় গিয়ে প্রথমে জানতে পারি সে জয়দেব সাহা নয়, তার আসল নাম মহাদেব চন্দ্র সাহা। শুধু আমার সঙ্গে নয়, দেশের আরও অনেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাহা। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট প্রতারক মহাদেব সাহা ও তার সহযোগীদের আসামি করে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করি। মামলার পর মহাদেব সাহা ও তার সহযোগীরা আদালতে অপরাধ স্বীকার করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করবে মর্মে আদালত থেকে জামিন নেন; কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মধ্যে টাকা পরিশোধ না করে উল্টো নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মহাদেব সাহা ও তার ভাগিনা শুভ সাহা অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাতক্ষীরা থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ আমাকে (ইসমাইল হোসেন রতন) গ্রেফতার করে। ১০ দিনের জেল খেটে ১৭ মার্চ জামিন পান। ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা সদর থানায় আমার বিরুদ্ধে আরও একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ইসমাইল অভিযোগ করেন, প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধু বর্তমানে টাকা যাতে আমাকে পরিশোধ করতে না হয় এজন্য আমাকে এবং আমার পরিবারকে চিরতরে মেরে ফেলার জন্য চক্রান্ত করছে। এ অবস্থায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান প্রশাসনের কাছে। এ সময় তার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাহাবার এগ্রোর কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, রাধিকা ডাল অ্যান্ড ওয়েল মিলের মালিক লিটন কুমার আইজ, আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন নাহিদ, বালু লাল চক্রবতীসহ অনেকে।