Category: সারাদেশ

  • বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে আইনজীবী ফোরামকে স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল-সমাবেশ

    বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে আইনজীবী ফোরামকে স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল-সমাবেশ

    মোঃ হাফিজুল ইসলাম :বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিবন্ধিত সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনার চত্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল আদালত চত্বর ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    সংগঠনের জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আকবর আলীর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার।বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং আইনজীবীদের পেশাগত অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। গত ১৭ বছরে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট অন্যতম সক্রিয় ইউনিট হিসেবে কাজ করেছে বলেও তারা দাবি করেন।

    বক্তারা বলেন, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ সময় তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে দ্রুত বিএনপির নিবন্ধিত সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এ স্বীকৃতি পেলে আইনজীবীরা দলীয় কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আরও সুসংগঠিতভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

    সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। কারও বিরুদ্ধে অর্থ আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন।

    বক্তারা সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মতপার্থক্য থাকলে তা সংগঠনের অভ্যন্তরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। ব্যক্তিগত বা প্রকাশ্যে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য পরিহার করে সংগঠনের ঐক্য অটুট রেখে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু সাইদ রাজা, অ্যাডভোকেট এবিএম সেলিম, অ্যাডভোকেট ই. জে. সাহরিয়ার হাসিব, অ্যাডভোকেট জি. এম. ফিরোজ আহমেদ, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সরদার সাইফ, অ্যাডভোকেট আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন শাওন, অ্যাডভোকেট মাকফুর রহমান , অ্যাডভোকেট রেজওয়ান আলী, অ্যাডভোকেট আকরাম আলী, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বাপ্পি, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সোহেল, অ্যাডভোকেট শাহানা ইমরুজ, অ্যাডভোকেট আয়ুব আলী, অ্যাডভোকেট ইয়াছিন হাবিব, অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দীন, অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ডালিম, অ্যাডভোকেট শাহাজান জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট এবাদুল হক, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবু, অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বাবলু, অ্যাডভোকেট আলামিন আলম, অ্যাডভোকেট শেখ হেলালুজ্জামান হেলাল, অ্যাডভোকেট বখতিয়ার, অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ, অ্যাডভোকেট তারিক ইকবাল অপুসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শতাধিক আইনজীবী।

  • লিডার্সের উদ্যোগে শ্যামনগরে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তন ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত।

    লিডার্সের উদ্যোগে শ্যামনগরে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তন ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত।

    আবু সুফিয়ান :

    সাতক্ষীরার শ্যামনগরে লবণাক্ততা, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহনশীল, স্মার্ট ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। লিডার্স এর “ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাট লোকাল লেভেল (কল) ” প্রকল্পের উদ্যোগে শ্যামনগর উপজেলার ১ নং ভুরুলিয়া ইউনিয়নের দেউলিয়া গ্রামে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তন উপলক্ষে এক প্রাণবন্ত, অংশগ্রহণমূলক ও তথ্যসমৃদ্ধ কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জলবায়ু সহনশীল কৃষি, জৈব কৃষি প্রযুক্তি ও সাসটেইনেবল খাদ্য উৎপাদনের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তোলে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃগাজীয়ার রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব মহিউদ্দিন । বিশেষ অতিথি জনাবা, আইরুননেছাদ, নারী উদ্যোক্তা এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ ক্লাইমেট জাস্টিস গ্রুপের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন

    মাঠ দিবসে জলবায়ু সহনশীল, লবণাক্ততা ও খরা সহিঞ্চু কৃষি প্রযুক্তি, স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনা, পানি সাশ্রয়ী চাষাবাদ এবং সাসটেইনেবল কৃষি উন্নয়ন নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কমলা সুন্দরী মিষ্টি আলুর সম্ভাবনা ও পুষ্টিগুণ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান চাষে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কৃষাক মোঃ মশিউর রহমান । তিনি জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেলেও ব্রি-৯৯ জাতের ধান কৃষকদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠছে।

    এসময় বায়োফর্টিফাইড জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-১০২ ধান নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন রেক্সোনা পারভীন । অন্যদিকে সবজি চাষ, জৈব সার ব্যবহার, পারিবারিক পুষ্টি বাগান ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য দেন মাসুদ রানা । বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জৈব কৃষি প্রযুক্তি, পানি সংরক্ষণ, বহুমুখী ফসল চাষ এবং আধুনিক স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও খরার ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের লবণসহনশীল ধান, ভুট্টা, সূর্যমুখীসহ বিকল্প ফসল চাষে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি পানি সাশ্রয়ী এডব্লিউডি (AWD) পদ্ধতি, খাল ও পুকুর খনন এবং টেকসই কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।” তিনি কৃষিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে জলবায়ু সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব, মোঃ মহিউদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তনের উদ্বোধন করেন এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অনুপ কুমার মন্ডল এবং সার্বিক সহোযোগিতা করেন মোঃ,কানিজুর রহমান, সালমা খাতুন কল প্রকল্প, লিডার্স।

    মাঠ দিবসে বিপুল সংখ্যক কৃষক কৃষানীর অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে স্মার্ট, জৈব ও সাসটেইনেবল কৃষি প্রযুক্তির বিস্তারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে আয়োজকরা জানান। কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল GAIN⁠ এবং বাস্তবায়নে ছিল LEDARS⁠।

  • খুলনা প্রেসক্লাবের বার্ষিক নির্বাচনে মোস্তফা সরোয়ার সভাপতি তরিকুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক

    খুলনা প্রেসক্লাবের বার্ষিক নির্বাচনে মোস্তফা সরোয়ার সভাপতি তরিকুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক

    স্টাফ রিপোর্টার: খুলনা প্রেসক্লাবের বার্ষিক নির্বাচনে দৈনিক প্রবর্তন সম্পাদক মোস্তফা সরোয়ার সভাপতি এবং দৈনিক সময়ের খবর সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ১৭২ জন ভোটারের মধ্যে ১৬৭ জন ভোট প্রদান করেন। বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ শেষে সাথে সাথে গননার পর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে মোস্তফা সরোয়ার ১১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি দৈনিক খুলনাঞ্চল সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন পেয়েছেন ৪২ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে মো. তরিকুল ইসলাম ৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলা ট্রিবিউনের মো. হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা পেয়েছেন ৫০ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে বিমল সাহা ১০৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিনিয়র ফটো সাংবাদিক এম এ হাসান পেয়েছেন ৬০ ভোট। এছাড়া সহ-সভাপতির তিনটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন সোহরাব হোসেন (১১৯ ভোট), মো. জাহিদুল ইসলাম (১০৫ ভোট) এবং কাজী শামিম আহমেদ (৯৬ ভোট)। যুগ্ম-সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন মো. বেল্লাল হোসেন সজল এবং পাঠাগার, প্রকাশনা ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বশির হোসেন। নির্বাহী সদস্যের ৬টি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. মাকসুদুর রহমান মাকসুদ, কাজী মোতাহার রহমান, মহেন্দ্রনাথ সেন, সোহেল মাহমুদ, মো. আনিস উদ্দিন ও কে এম জিয়াউস সাদাত । এর আগে, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মোহাম্মদ মিলন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালন করেন খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও কমিটির চেয়ারম্যান মো. আরিফুল ইসলাম।

  • ঐক্যের বন্ধনে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ #সাতক্ষীরায় ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন

    ঐক্যের বন্ধনে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ #সাতক্ষীরায় ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন

    আবু সাইদ বিশ্বাস: বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের বন্ধনে সারাদেশের ন্যায় সাতক্ষীরাতেও সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, সুন্দর, জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন হচ্ছে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা – এই চিরন্তন আকাঙ্ক্ষাকে বুকে নিয়ে আজ সোমবার সাতক্ষীরা জেলাতে উদযাপিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। বর্ষপরিক্রমায় চৈত্র সংক্রান্তির শেষ সূর্যাস্তের সাথে সাথেই বিদায় নেবে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, আর ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শুরু হবে নতুন বছর ১৪৩৩। দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা শহর ও সব উপজেলায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ মেলা ও শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা চলছে। এছাড়া, উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ইউনিয়নে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ আয়োজনসহ বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে।
    বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজন গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মসূচি অনুযায়ী, ০১ বৈশাখ ১৪৩৩ (১৪ এপ্রিল ২০২৬) মঙ্গলবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন কালেক্টরেট পার্কে জাতীয় সঙ্গীত ও “এসো হে বৈশাখ” গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপনের সূচনা হবে।

    সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কালেক্টরেট পার্ক থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে, যা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে মিলিত হবে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য নির্ধারিত পোশাক হিসেবে ফতুয়া, পাঞ্জাবী ও পায়জামা, লুঙ্গি, লাল শাড়ি এবং বৈশাখী শাড়ি পরিধান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকাল ৮টায় শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। মেলায় থাকবে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পণ্য, হস্তশিল্প, খাবারসহ নানা আয়োজন। বিকাল ৪টায় সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে ঘুড়ি উৎসব ও লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। একই দিন বিকাল ৫টায় শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য ও অন্যান্য পরিবেশনা উপস্থাপন করবেন। এছাড়া সুবিধাজনক সময়ে শিশু একাডেমি ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে ও যথাযথ আড়ম্বরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করবে। এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার এবং শিশু পরিবার (এতিমখানা)সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেশন করা হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলা নববর্ষের এই আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। উৎসব বরণ করতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন স্থানীয় চারু ও মৃৎশিল্পীরা। শহরের মোড় থেকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সবখানেই চলছে বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রস্তুতি। বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর কাগজের স্তর বসিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে বিশাল বাঘ, হাতি আর নানা লোকজ মোটিফ, যেন প্রতিটি ছাঁচে, প্রতিটি রঙে ফিরে আসছে গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ। শহরের প্রাণকেন্দ্র মিনিমার্কেটে শিল্পী রফিকুল ইসলাম তখন তুলির শেষ টান দিতে ব্যস্ত। ক্লান্তি আছে, তবু চোখে তৃপ্তির ঝিলিক। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরেই ঘুমহীন সময় কাটছে, তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাজ এগোচ্ছে দ্রুত। তাঁর কণ্ঠে একধরনের গর্ব—এই শিল্পের ভেতর দিয়েই তিনি তুলে ধরতে চান সাতক্ষীরার ঐতিহ্য। সেখানেই কথা হয় কণ্ঠশিল্পী চৈতালি মুখার্জীর সঙ্গে। তাঁর কাছে পয়লা বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, এটি শিকড়ে ফেরার দিন। এদিনই মনে করিয়ে দেয়, বহু শতাব্দীর পথ পেরিয়েও বাঙালির সম্প্রীতির বন্ধন অটুট আছে। বাঙালি সংস্কৃতি এগিয়ে চলছে। মানুষ শিকড় ভুলে যায় না, ফিরে আসে মাটির টানে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, ‘বৈশাখ উপলক্ষে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আশা করছি, বৈশাখী অনুষ্ঠান সাতক্ষীরার মানুষ এবার আনন্দঘন পরিবেশে উপভোগ করবে।’

     

     

  • খালিশপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

    খালিশপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

    খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার খালিশপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে নগরীর খালিশপুরের ক্রিসেন্ট জুট মিলস গেট সংলগ্ন এলাকায় এ সহায়তা বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, জামায়াত সবসময় দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। সংগঠনের চার দফা কর্মসূচির অন্যতম হলো সমাজসেবা ও সমাজ সংস্কার। মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে তারা ঈমানি দায়িত্ব হিসেবে মনে করেন। তিনি আরও বলেন, যেকোনো দুর্যোগ ও বিপদে জামায়াতে ইসলামী মানুষের পাশে থাকে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গত ৮ এপ্রিল রাতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে ওই এলাকায় কয়েকটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় অটোচালক মোহাম্মদ রিপন, ভ্যানচালক মোহাম্মদ বাবু ও বাসের হেলপার মোহাম্মদ সাকিব ক্ষতিগ্রস্ত হন। সহায়তা বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, খালিশপুর থানা আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, সেক্রেটারি আব্দুল আউয়ালসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

  • কলারোয়ায় সিভিল সার্জনের অভিযানে পাঁচটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা

    কলারোয়ায় সিভিল সার্জনের অভিযানে পাঁচটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়ে পাঁচটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছেন। বিভিন্ন অনিয়ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কলারোয়ার গয়ড়া বাজারের ডাক্তার রমজান আলীর আছিয়া মেমোরিয়াল ক্লিনিক, ডাক্তার কবিরুল ইসলামের মায়ের হাসি ক্লিনিক, কলারোয়া পৌর সদরের জনসেবা ক্লিনিক এবং গরু হাটখোলা মোড়ের দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স ও কাগজপত্র যাচাই বাণিজ্যিক নিয়ম মেনে হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জনের এই পদক্ষেপের পর এলাকার সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, তবে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেননি।

  • সাতক্ষীরায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প স্থাপনের দাবী জানালেন এমপি ইজ্জত উল্লাহ

    সাতক্ষীরায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প স্থাপনের দাবী জানালেন এমপি ইজ্জত উল্লাহ

    স্টাফ রিপোর্টার: ভোলায় উৎপাদিত গ্যাস সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে শিল্পকারখানা স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না- তা জানতে চেয়েছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংসদে বিদ্যুমন্ত্রী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের নিকট সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে প্রশ্ন করেন তিনি। সাতক্ষীরা ১ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ভোলায় যে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। সেখান থেকে আমাদের সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সরবরাহ করে কোন ইন্ড্রাস্ট্রি করার পরিকল্পনার কথা জানতে চান। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ বিষয়ে জানতে চান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুমন্ত্রী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এটি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

  • কমিউনিটি তথ্য সংগ্রহে ‘আবির্ভাব’ টিমের মাঠ কার্যক্রম জোরদার

    কমিউনিটি তথ্য সংগ্রহে ‘আবির্ভাব’ টিমের মাঠ কার্যক্রম জোরদার

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর জেলে পাড়ায় দুর্যোগকালীন প্রয়োজন নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ‘আবির্ভাব’ টিম। সোমবার সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে টিমের সদস্যরা সরাসরি স্থানীয় জেলে ও তাদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার প্রভাবসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা, ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে লিপিবদ্ধ করা হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, স্যানিটেশন, নিরাপদ পানির সংকট এবং জরুরি খাদ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের ঘাটতি তাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া নারী ও কিশোরীদের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবও প্রকট আকার ধারণ করে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ‘আবির্ভাব’-এর কো-ফাউন্ডার এস এম জান্নাতুল নাঈমসহ সুজয় চক্রবর্তী, জেবা তাসনিয়া, হাসনা হেনা ও খালিদ হোসেন। তারা জানান, মাঠ পর্যায়ের এই তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি কার্যকর ও প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ‘আবির্ভাব’ টিম জানায়, উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগকালীন সময়ে নারী ও শিশুদের জন্য পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও প্রয়োজনভিত্তিক কিট নিশ্চিত করতে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

  • নীরব এক সংগ্রামী আলোকবর্তিকা- এবিএম কাইয়ুম রাজ

    নীরব এক সংগ্রামী আলোকবর্তিকা- এবিএম কাইয়ুম রাজ

    সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পথে যিনি অবিচল—তিনি এবিএম কাইয়ুম রাজ। শ্যামনগরের কৈখালী থেকে উঠে আসা এই তরুণ শুধু একজন সাংবাদিক নন, বরং তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষের আত্মার আত্মীয়, সময়ের দর্পণে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।

    ছোটবেলা থেকেই বই আর বাস্তবতার হাত ধরে যাঁর যাত্রা, সেই কাইয়ুম রাজ নিজের জীবনকে গড়ে তুলেছেন সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এক নীরব বিপ্লবী হিসেবে। কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিষ্পাপ শৈশব থেকে শুরু করে গুমানতলী কামিল মাদ্রাসার কঠোর শিক্ষাজীবন, সবকিছুর পেছনে ছিল একটি লক্ষ্য—মানুষের জন্য কিছু করা।

    তিনি এখন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠ-এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাঁর পরিচয় শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রভাত বার্তা, দক্ষিণের বার্তা এবং দেশ জনতা’র মতো পত্রিকায় লেখালেখি করে তিনি সমাজের নানা দিক তুলে ধরছেন সাহসিকতার সঙ্গে।

    তাঁর কলম শুধু সংবাদ লেখে না, লেখে প্রান্তিক মানুষের না-বলা কষ্ট, প্রতিবাদহীন অন্যায় আর অবহেলিত জনপদের বুকচেরা গল্প। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের নদীভাঙা জনপদের কষ্টকে তুলে ধরতে গিয়ে কখনো তিনি হয়ে ওঠেন মাঠের কর্মী, কখনো মানবিক সহায়ক, আবার কখনো দুর্নীতির প্রতিবাদে বজ্রকণ্ঠ।

    কেবল পেশাগত দায়িত্ব নয়—কাইয়ুম রাজের মধ্যে আছে সমাজের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতা। শিক্ষার্থীদের সহায়তা, অসহায় পরিবারে খাবার পৌঁছে দেওয়া, কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো—সবখানেই দেখা যায় তাঁর আন্তরিক অংশগ্রহণ।

    তিনি বিশ্বাস করেন, “সাংবাদিকতা কেবল তথ্য জানানোর মাধ্যম নয়, এটি হতে পারে সমাজ বদলের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।” সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রতিদিন লিখে চলেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে, প্রান্তিক মানুষের পক্ষে।

    এবিএম কাইয়ুম রাজ রাজনীতির মাঠে নেই, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন একজন নীরব আলোকবর্তিকা হিসেবে। যাঁরা তাঁকে চেনেন, বলেন—“এই ছেলেটার চোখে যেমন স্বপ্ন আছে, তেমনি হৃদয়ে আছে মানুষের ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা।”

    এই তরুণের নিরলস পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—পরিবর্তনের জন্য বয়স নয়, প্রয়োজন একান্ত ইচ্ছা, সাহসিকতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মন। এবিএম কাইয়ুম রাজ হোক বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা, কলমধারীদের আদর্শ, এবং শ্যামনগরের গর্ব।

  • কোস্টগার্ডের অভিযানে অস্ত্র-গোলাবারুদ ও ককটেলসহ আটক ৭

    কোস্টগার্ডের অভিযানে অস্ত্র-গোলাবারুদ ও ককটেলসহ আটক ৭

    খুলনা ব্যুরো: খুলনা জেলার দিঘলিয়ায় কোস্টগার্ডের অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ককটেলসহ সন্ত্রাসী খবির মোল্লা গ্রুপের সাত সদস্যকে আটক করা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। আটক ব্যক্তিরা হলেনÑ মো. সিরাজ মোল্লা (৫৫), মো. মিজানুর ফকির (৫৫), তুহিন মোল্লা (২৪), ইমরান মোল্লা (২৩), আশিক মোল্লা (২০), নাছিম শেখ (২১) এবং জনি মোল্লা (৩৭)। তাদের সবার বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া থানায়। কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার ভোর ৫টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন রূপসা কর্তৃক খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানার গাজীরহাট এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একটি একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি ককটেলসহ খবির মোল্লা গ্রুপের সাত সদস্যকে আটক করা হয়। আরও জানা যায়, জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।