এবিএম কাইয়ুম রাজ: উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলায় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে লবণাক্ত পানির প্রভাব, যা স্থানীয় মানুষের জীবনে নীরব দুর্যোগ হিসেবে আঘাত হানছে। নদ-নদী, খাল-বিল থেকে শুরু করে পুকুর এমনকি ভূগর্ভস্থ পানিও দিন দিন লবণাক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানবজীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই হয়ে উঠেছে কঠিন সংগ্রাম। স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুম এলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। এ সময় নদীতে লবণাক্ত পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং তা আশপাশের জলাধার ও মাটির নিচের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অধিকাংশ নলকূপের পানি লবণাক্ত হয়ে যায়। অনেক স্থানে নলকূপ থাকলেও সেই পানি পানযোগ্য নয়। বাধ্য হয়ে মানুষকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামেই একই চিত্র দেখা যায়। কোথাও কোথাও একটি মাত্র মিঠা পানির উৎসের ওপর নির্ভর করে পুরো গ্রাম। ফলে ভোর থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নারী ও শিশুদের। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। কৈখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমাদের এখানে সুপেয় পানির খুব অভাব। প্রতিদিন অনেক দূরে গিয়ে পানি আনতে হয়। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পানি পাই না। তখন বাধ্য হয়ে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হয়। এতে আমাদের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।”এদিকে, অনেক পরিবার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে বছরের কিছু সময় পার করার চেষ্টা করে। কিন্তু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সেই পানি বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই পানির সংকটে ভুগতে হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, চর্মরোগ, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক ও কিডনি জটিলতার মতো নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে এসব রোগের প্রকোপ বেশি। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সচেতন মহল ও গণমাধ্যম কর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে দৈনিক সংগ্রামের উপজেলা সংবাদদাতা হুসাইন বিন আফতাব বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নতুন কিছু নয়, তবে এটি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন খুবই জরুরি।”এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় কিছু গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানি সরবরাহ প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অনেক স্থানে স্থাপিত নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে বা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে লবণাক্ততা ক্রমশ অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রবেশ করছে। এতে করে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টেকসই সমাধানের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ স্থাপন, আধুনিক পানি পরিশোধন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারাৃ। সবমিলিয়ে, শ্যামনগরের মানুষের জন্য সুপেয় পানির সংকট এখন একটি বড় মানবিক ও পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে। এই নীরব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Category: সুন্দরবন
-

উপকূলীয় অঞ্চলে চার কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কা
খুলনা ব্যুরো: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ উপকূলীয় অঞ্চল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে এসব অঞ্চলে কৃষিজমি কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশ এবং মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীতে মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. খন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষ বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়ছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে দেশে প্রায় চার কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের তিন জেলায় কৃষিজমি প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে সুপেয় পানির সংকট, দারিদ্র্য বৃদ্ধি এবং জীবিকার পরিবর্তন ঘটছে। লবণাক্ততার কারণে কৃষি, ডেইরি ও পোলট্রি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেচের প্রয়োজন বেড়েছে এবং কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ জীবিকা হারিয়ে শহরমুখী হচ্ছে। খুলনার দাকোপ উপজেলার আনিস মোল্লা জানান, ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলায় সব হারিয়ে দীর্ঘদিন বেড়িবাঁধে বসবাস করতে হয়েছে এবং সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশে ১৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের জনজীবন, কৃষি, পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
-

বনদস্যু আতঙ্কে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ, দুবলারচরে জেলেদের মধ্যে ভয়
স্টাফ রিপোর্টার: বনদস্যুদের আতঙ্কে সুন্দরবন উপকূলের দুবলারচরে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন ১০ হাজারের বেশি শুঁটকিকরণ জেলে। সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। নিরাপত্তার অভাবে জেলেরা চরে অবস্থান নিয়ে বসে থাকায় রাজস্ব ঘাটতি ও স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহের বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলেদের সংগঠন দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে বনদস্যুদের হাতে অপহরণের ভয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে জেলেরা সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন। মৌসুমের শেষ সময়ে এমন পরিস্থিতিতে আয়-রোজগার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। তিনি দাবি করেন, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে চারটি বনদস্যু গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। টাকা দিতে না পারলে মারধরের অভিযোগও করেন তিনি। গত সপ্তাহে দস্যুদের হামলায় আহত চার জেলে বর্তমানে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান। আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিল ‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’, এখন যুক্ত হয়েছে ‘সাগরে গেলে ডাকাত’। গত ১৫ দিনে বহু জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। বর্তমানে শতাধিক জেলে দস্যুদের কব্জায় রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সোমবার রাতে অপহরণের সময় দস্যুরা একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে গেলেও এখনো যোগাযোগে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সুন্দরবন বন বিভাগের জেলেপল্লি দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান জানান, বনদস্যু আতঙ্কে জেলেরা সুন্দরবনে মাছ ধরার জন্য পাস নিচ্ছেন না। এতে মাসিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। শরণখোলা বাজারের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর ও রিপন হাওলাদার বলেন, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় তাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন।
-

বংশীপুরে গভীর রাতে ককটেল বিস্ফোরণ
শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণ এবং সড়কে টায়ারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং রাতভর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি ব্যানার এবং কয়েকটি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ড. ইউনুস ও জামাত বিএনপি’র অবৈধ্য পাতানো নির্বাচন বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল’। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, কারা এই ঘটনায় জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
-

পপ তারকার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি: ইরানের বিচার বিভাগ
নিউজ অনলাইন: রাষ্ট্র পরিচালিত একটি মিডিয়ায় প্রচারিত পপ তারকা তাতালুর মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের বিচার বিভাগ।
আজ সোমবার (২০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যশনাল। এর আগে, রোববার (১৯ জানুয়ারি) তাতালুর মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জামে জাম। তবে বিচার বিভাগের গণমাধ্যম অফিস এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাতালুর চূড়ান্ত রায় এখনও দেয়া হয়নি।
মিডিয়াটি দাবি করেছিল, নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে ‘তাতালু’ নামে পরিচিত বিতর্কিত গায়ক আমির হোসেন মাগসুদলুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, সম্প্রতি এই গায়ক ‘আইনি ধারায় ছাড়পত্র পাওয়ার যোগ্য’ হয়ে উঠেছেন। ফৌজদারি আদালতের নবম শাখার রায়ে প্রসিকিউটর আপত্তি জানানোর পর তার বিরুদ্ধে ওঠা একটি অভিযোগ খারিজ করা হয়। এরপর মামলা অন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
২০১৮ সাল থেকে ইস্তাম্বুলে বসবাস করছিলেন ৩৭ বছর বয়সী তাতালু। এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তুর্কি কর্তৃপক্ষ তাকে ইরানে ফেরত পাঠায়। তাকে ‘পতিতাবৃত্তি প্রচার’, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ‘প্রচার’ এবং ‘অশ্লীল বিষয়বস্তু’ প্রকাশের অভিযোগসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
২০১৭ সালে অতি-রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে টেলিভিশনে একটি বৈঠকেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। মাগসুদলু তার ট্যাটু ও পপ সঙ্গীতের জন্য ভক্তদের কাছে বেশি পরিচিত। ২০১৫ সালে তাতালু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সমর্থনে একটি গানও প্রকাশ করেন।/এএম
-

পাল্টে যাচ্ছে পুলিশ, র্যাব, আনসারের পোশাক
নিউজ অনলাইন: পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনীর পোশাকে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বৈঠকে আয়রন, রয়েল ব্লু, ডিপখাকি, ডিপব্লু, জলপাইসহ কয়েকটি রংয়ের পোশাকের মডেল উপস্থাপন করা হয়। সেখান থেকে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তিন বাহিনীর জন্য আলাদা আলাদা রংয়ের পোশাক চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশের পোশাকের রং হচ্ছে ‘আয়রন’। র্যাবের পোশাক হচ্ছে জলপাই বা অলিভ রংয়ের এবং আনসারের পোশাকের রং হচ্ছে ‘গোল্ডেন হুইট’।
এর আগে, বিভিন্ন স্যাম্পলের পোশাক উপস্থাপন করা হয় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে এই বৈঠকে যুব ও ক্রীড়া, পরিবেশ, বিদ্যুৎ জ্বালানি, শিল্পসহ অন্যান্য উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন রঙয়ের পোশাক পরিয়ে বৈঠকে উপস্থিত করা হয়। সেখান থেকে এক এক বাহিনী নিজেদের জন্য এক এক রঙয়ের পোশাক নির্ধারণ করে নেয়। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয় পুলিশ, র্যাব ও আনসারের নতুন পোশাক। -

বিজিবির শক্ত অবস্থানে ভারত বেড়া নির্মাণ বন্ধে বাধ্য হয়েছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
নিউজ অনলাইন: বিজিবি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের শক্ত অবস্থানের কারণে ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এই কথা বলেন।
সম্প্রতি সীমান্তের পাঁচটি জায়গায় ভারত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কাজ শুরু করেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিজিবি এবং স্থানীয় মানুষের শক্ত অবস্থানের কারণে ভারত ওই সব স্থানে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে ২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভারত সীমান্তে কিছু অসম কাজ করেছে, যেগুলো ভারতের করা উচিত হয়নি। কিন্তু আমাদের আগের সরকার সেই সুযোগ দিয়েছে। -

মাস্টার হাফিজুর রহমানের শ্বশুরের ইন্তেকাল, জানাযা সম্পন্ন
শফিকুল ইসলাম, লাঙ্গলঝাড়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার হাফিজুর রহমানের শ্বশুর মাস্টার আব্দুল আজিজ (৮০) ইন্তেকাল করেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রজিউন। বুধবার (১ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় বার্ধক্য জনিত কারণে নিজ বাড়ি কলারোয়ার লাঙ্গলঝাড়ায় ইন্তেকাল করেন।
জানাযা পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মাওলানা ওমর আলী, মাস্টার হাফিজুর রহমান, লাঙ্গল ঝড়া জামে মসজিদের ইমাম আজহারুল ইসলাম, মরহুমের ছোট ছেলে অধ্যাপক মহসিন রেজা পিন্টু প্রমুখ।
-

সাতক্ষীরায় ঐতিহাসিক কর্মী সম্মেলন জীবন দিবো দেশের এক ইঞ্চি মাটি দিবো না ——————————————————— ডা. শফিকুর রহমান
আবু সাঈদ বিশ^াস, শাহজান, মুজাহিদ: জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে ইস্পাত কঠিন ঐক্য চাইলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন দেশের আকাশে কালো মেঘ জমেছে। দেশের আাকাশে কালো শকুন দেখা যাচ্ছে। তাদেরকে কোনরকম সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
গতকাল শনিবার সাতক্ষীরা জেলার ঐতিহাসিন কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা সদরের সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোরআনের কথা বলতে গিয়ে, আল্লাহর দ্বীনের কথা বলতে গিয়ে সত্য কথা গিয়ে বাংলাদেশের কোন জেলা এতো জীবন এবং রক্ত উপহার দেয়নি। সাতক্ষীরার মতো বাংলাদেশের কোন জেলা সাতক্ষীরার মতো এত রক্ত উপহার দেয়নি। এজন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাছে সাতক্ষীরা মর্যাদা অনন্য উচ্চতায়। আল্লাহ যেন এই জেলার মর্যাদা যেন ক্রমাগত বৃদ্ধি করে দেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানি। দুনিয়ের খুব কম জায়গাতেই এমন দেশ রয়েছে। আমরা এমন একটি দেশ পেয়েছি; মাটির উপর অফুরন্ত সম্পদ। মাটির গর্ভে অফুরন্ত সম্পদ, সমুদ্রেও অফুরন্ত সম্পদ। কিন্তু আমাদের সম্পদগুলো জনগণের উপকারে আসছে না। যারা জনগণের কর্তা হয়ে ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন সময় দেশ শাসন করেছেন; তারা জনগনের সম্পদ সুকৌশলে চুরি করে লুন্ঠন করে পকেটে ঢুকিয়েছেন। এজন্য বাংলাদেশের জনগণ তাদের হিস্যা পায়নি।
আমীরে জামায়াত উল্লেখ করেন ২০১৫ সালে শহীদ পরিবারের সাথে দেখা করতে এসেছিলাম। সকাল ৯/১০ থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত আমি দেখেছি এই জেলার রাস্তাঘাট ভাঙ্গাচুরা দেখেছি। মোটর সাইকেলে করে সারা জেলা ঘুরার চেষ্টা করেছি। তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম——— উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসছে ? জোয়ারের সামান্য ছিটেফোটা কি এখানে আসে না ?তারা জানায়না আসে না। তারা জানায় বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী সাতক্ষীরাকে বাংলাদেশের অংশ মনে করে না। আপনাদের ওপর তারা জুলুম করেছে।
তারা জনগণের অধিকার দেয়নি। সাতকীরার ওপর জুলুম করেছে। খুন—গুম করেছে। ইজ্জতের ওপর হাত দিয়েছে। সম্পদ লুন্ঠন করেছে মানুষকে তারা দাসে পরিণত করেছে। সবচেয়ে খারাপ করেছে সাতক্ষীরায়।শুধু দ্বীনের পক্ষ নেওয়ায় যদি এই অবস্থা হয় তাহলে হে আল্লাহ দুনিয়া এবং আখেরাতে এই জেলার মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান ওয়াদা করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের মানুষের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। সুষম উন্নয়ন দিতে চাই। কেউ চাইলেও. না চাইলেও তার অধিকার পাবে। লক্ষ যুবক বেকার থাকবে না। শিক্ষা সমাপনির সাথে সাথে কাজ ধরিয়ে দেওয়া হবে। নৈতিক এবং জাগিতিক শিক্ষার সমন্বয় হবে।
তিনি বলেন আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে মাবোনেরা ঘরে এবং বাইরে নিরাপদে থাকবে। তারা কর্মস্থল এবং রাস্তাঘাটে সুরক্ষা পাবেন. নিরাপদে থাকবেন। দক্ষতা দিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। নবী যুদ্ধক্ষেত্রেও নারীদের যুক্ত করেছেন।
তিনি ইতিহাস টেনে বলেন. বিশেষ করে বদরের যুদ্ধের কঠিন দিনে তিনি নারীকে যুক্ত করেছেন। যখন কাফেররা খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল হত্যা করার জন্য। যখন পরুষযোদ্ধারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। তখন একজন নারী আল্লাহর রাসুল (সা) কে ঘুরে ঘুরে সুরক্ষা দিয়েছিলেন। তার শরীরে ৩৭ তীর ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। রাসুল সা. বলেছেন যখনই শক্র আমার প্রতি তীর নিক্ষেপ করেছেন তখনই ওই নারী তীর আমার শরীরে লাগতে দেননি। যখনই তীর এসেছে ওই নারী ঘুরে ঘুরে তিনি নবীকে সেফ করেছেন। তিনি হলেন মুসাইবা (রা :)। রাছুল যদি নারীকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে নারীকে কর্ম দিয়ে থাকেন তাহলে আমরা কে ? যে তাদের হাত বন্ধ করার।
আমাদের ব্যাপারে ইসলামের প্রতিপক্ষ শত্রুরা অপপ্রচার চালায়, জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে মহিলাদের ঘর থেকে বের হতে দিবে না। আর যদি দেয়ও তাদের জোর করে একটা বোরকা পরিয়ে দিবে।
জামায়াতের আমীর নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, জামায়াতে ক্ষমতায় গেলে কারো ওপর জোর খাটানো হবে না। যখন ইসলাম কায়েম হবে তখন মা বোনেরা আনন্দের সাথে ইজ্জত রক্ষার জর্য পর্দা পালন করবে। এরপরও যদি কোন মা বোন পোশাকের ক্ষেত্রে আপত্তি থাকে তাদের কোন রকম বাধ্য করা হবে না। এদেশে অন্য ধর্মের মানুষ বসবাস করে। অন্য ধর্মের মানুষকে ধর্ম গ্রহন করতে বাধ্য করা হবে না। মন্দির গির্জা পাহারা লাগবে না।
বাগানে মাঝে মাঝে হুতুম পেঁচা ঢুকে পড়ে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আশরাফুর মাখলুকাত হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হবে না। পরিচ্ছন্ন কর্মীরাও আমাদের কাছে ভিআইপি। রিকশাওয়ালাকে স্যালুট জানাই। তাদের কাজের মর্যাদা দেওয়া হবে। কৃষক আপমর জনতা মর্যাদা এবঙ দায়িত্বের সাথে কাজ করবে।
চমৎকার সাম্প্রদায়িক দেশ আমাদের। কিন্তু আমাদের বাগানে মাঝে মধ্যে হুতুম পেঁচা ঢু ক পরে। হুতুম পেচাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সম্পৃতি নষ্ট হতে দিবো না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই; সব মানুষকে কাজের মর্যাদা দিবো। আমরা যদি এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই তাহলে সবাই কাজ করতে হবে। আমরা চাই, জাতীয় স্বার্থে সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে ইস্পাত কঠিন ঐক্য চাই।
তিনি বলেন, এই যে ২৪ এর স্বাধীনতা এমনি এমনিতে আসেনি। ২০০৬ সালে ২৮অক্টোবর প্রকাশ্যে দিবালোকে লগি বৈঠা দিয়ে হত্যা করে আমার সন্তানদের ওপর খুনিরা লাফালাফি করেছে। সেইদিন বাংলাদেশপথ হারিয়েছিল। সেই পথহারা বাংলাদেশ দীর্ঘ পথ পরিক্রমার পর ২০২৪ সালে আবার তার পথে ফিরে এসেছে। এরমাঝে অনেক রক্ত দিতে হয়েছে। ৫৭ জন চৌকস সেনা অফিসারকে খুন করা হয়েছে। এরপর জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দকে খুন করা হয়েছে। শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বিচারের নামে জুলুম করে হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়া আপনাদের পাশ^র্বর্তী জেলা ঝিনাইদাহ খুনের তান্ডব চালানো হয়েছে। সবশেষ ২০২৪ পর্যন্ত খুনের রক্তে ভাসতে হয়েছে। এসব অভিযোগে ছাত্র—জনতা রাস্তায় নেমে এসেছিল। ছাত্রদের হাতে কোন আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। এমনকি তাদের হাতে কোনইট পাথরও ছিল না। কোটা সংস্কারের জন্য; কোটা বাতিলের জন্যও না। তারা বলেছিল কোটার নামে জাতির সাথে মেধার সাথে তামাশা করবেন তা আমরা মানবো না।
কিন্তু সরকার একদিকে তাদের বাহিনীকে নামিয়ে দিলো; আরেকদিকে সরকার তাদের স্বশস্ত্র গোন্ডাদের নামিয়ে দিলো। এতে দেড় হাজারের বেশি আমাদের সন্তান ছোট সময়ের মধ্যে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোর থেকে ২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত জালিমদের অত্যাচারে যারা বিদায় নিয়েছেন, আমরা আল্লার দরবারে দোয়া করি তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করুন।
তিনি বলেন, আসার পথে দেখলাম রাস্তাঘাটে উপচেপড়া মানুষ। বাঙলাদেশকে প্রাণ উজার করে ভালবাসি। জুলুম করা হলেও দেশ থেকে পালিয়ে যাইনি। যারা দেশকে ভালবাসে তারা পালিয়ে যেতে পারে না। এখানে বাঁচতে চাই। লড়াই করতে চাই। এবং এই দেশকে দুনিয়ার একটি শ্রেষ্ঠ দেশে পরিণত করতে চাই।
তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন আপনারা প্রস্তুত? লাখো কন্ঠে জবাব আসে জি¦ পৃস্তুত। সারাদেশে আওয়াজ উঠেছে। জীবন দিবো দেশের এক ইঞ্চি মাটি দিবো না। যারা বুক চিতিয়ে দিয়েছে তাদের নূর দা¦রা পরিপূর্ণ করে দাও। মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। যুবসমাজের হাতে তুলে দিতে চাই্। যারা বয়স্করা কি বেজার হয়েছেন। না। ছেলের কৃতিত্ব বাবার কাছে অটোমেটিক হয়ে যাবে।
গরে ঘরে আওয়াজ ছড়িয়ে দিন। পৃথিবীর শ্রেষ্ট দেশ গড়তে চাই। শকৃনকে মাটিতে নামতে দেওয়া যাবে না। কেউ কেউ সুরসুরি দেয়। প্রতিপক্ষ বলে ৫ লাখ লোক হত্যা করা হবে বলা হয়েছিল। হত্যা করা কি হয়েছে? না।
উস্কানি দেওয়া হলেও পাতানো ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। দেশে বিদেশে সমান তালে লড়াই করেছে। বিদেশে যারা আছেন তাদের অভিবাদন জানাই। তাদের আত্মীয় স্বজনকে হয়রাণি করা হয়েছে।
এরা পশু। পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। ঐজাত থেকে চিরমুক্তি চাই। এরা যেন ফিরে না আসতে পারে। এক টুকরা কোরআনের বাংলাদেশ কবুল করুন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ইনসাফপূর্ণ সমাজের জন্য গণঅভ্যুত্থান সফল করতে হলে সৎ নেতৃত্বে কায়েমের বিকল্প নাই। সকল পর্যায়ের নেতৃত্বে ,সৎ মানুষের সমাহার ঘটাতে হবে। নইলে আমরা প্রতারিত হতে হবে। ৪৭ সালে ৭১ সালে এবং ২৪ স্বাধীনতায় আমরা স্বাধীন হতে পারেনি। আমরা কাঙ্খিত সমাজ পেতে সাতক্ষীরা জেলার ৪টি আসন সহ সবখানে যোগ্য মানুষের নেতৃত্ব যেন কায়েম করি।
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা অঞ্চলের পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের মৃত্যুর ভয় দেখাতে চেয়েছিল। কিন্তু মাওলানা নিজামী প্রমাণ করেছেন যে আমরা মৃত্যুকে ভয় করি না। তারা মূলত বাঘের লেজে পা দিয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলার সাবেক আমীর ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন— জালিম সরকার বিচারিক হত্যা করেছে। মিথ্যা মামলায় হয়রাণি করেছে। বার বার নেতার পরিবর্তন হলেও নীতির পরিবর্তন হয়নি। স্বাধীনতা এখনো বাকী রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরাতে আমাদের ৪৬ জন ভাইকে শহীদ করেছে। কিন্তু আমাদের নরম করতে পারেনি। ইসলামী আন্দোলনের জন্য সাতক্ষীরা দেশের মডেল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাবেক এমপি ও জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করেছিল এই দেশ থেকে জামায়াত শিবির উৎখাত করবে। কিন্তু তারা নিজেরাই উৎখাত হয়ে গেছে।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেদ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানী, জেলা নায়েবে আমীর নুরুল হুদা, ডা. মাহমুদুর হক, খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান, খুলনা মহানগর আমীর অধ্যাপক মাফুজুর রহমান,বাগের হাট জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম প্রমূখ।
কর্মী সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলার আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল।
জেলা সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ তিনবার ভোট চুরি ডাকাতি এবং প্রশাসনের লোকজনকে দিয়ে করিয়েছে। দেশের মানুষের অধিকার হরণ করেছে। তিনি বলেন নতুন বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ।
কর্মী সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সহকারী সেক্রেটারি গাজী সুজাআত আলীম অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, মাওলানা ওসমানগণি, সাতক্ষীরা শহর শাখা সভাপতি আল—মামুন ও জেলা শাখা শিবিরের সভাপতি ইমামুল ইসলাম প্রমূখ।
বেলা তিনটায় ডা. শফিকুর রহমান সম্মেলনের সভামঞ্চে আসেন। ততক্ষণে কর্মী সম্মেলনের মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের অলিগলি মানুষে মানুষে সয়লাব হয়ে যায়। শহরের অলিগলি পেরিয়ে বাসাবাড়ীর ছাদে ওঠেও কর্মী সম্মেলনের ভাষণ শোনার চেষ্টা করেন। এসময় পুরো সাতক্ষীরা শহর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।
এদিকে এর আগে জেলা শহরের পল্লীমঙ্গল হাইস্কুল মাঠে রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান। সেখাানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রমূখ। ##
-

আর কোন ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ মেনে নিবে নাঃ রুকন সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান
হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমান বলেছেন, যাদের হাতে বাংলাদেশের মানুষ নিরাপদ নয় সে ধরনের কোন সংস্থা দেশের মানুষ দেখতে চাই না। তাদের বিয়য়ে রাষ্ট্র সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এমনটাই আশা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি বলেন রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র যে ভাবেই হোক না কেন তাদেরকে কুপকাত করবে দেশের জনগন।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা পল্লিমঙ্গল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাতক্ষীরা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে ও সেক্রটারী মাওলানা আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিসদষদ সদস্য মোবারক হোসেন, অধ্যক্ষ মুহাঃ ইজ্জতউল্লাহ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারী ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সেক্রেটারী মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, শুরা সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার, খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য শফিকুল আলম, খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির শেখ নুরুল হুদা, ডা,মাহমুদুল হক, সহকারী সেক্রেটারি প্রফেসর ওবায়দুল্লাহ, প্রফেসর ওমর ফারুক, মাহবুবুল আলম, মাওলানা ওসমান গণি, সহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ। প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, শহীদরা আমাদের সম্পদ, তাদের আদর্শ অনুপ্রেরনা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
