Category: সাতক্ষীরা শহর

  • বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে আইনজীবী ফোরামকে স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল-সমাবেশ

    বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে আইনজীবী ফোরামকে স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল-সমাবেশ

    মোঃ হাফিজুল ইসলাম :বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিবন্ধিত সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনার চত্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল আদালত চত্বর ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    সংগঠনের জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আকবর আলীর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার।বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং আইনজীবীদের পেশাগত অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। গত ১৭ বছরে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট অন্যতম সক্রিয় ইউনিট হিসেবে কাজ করেছে বলেও তারা দাবি করেন।

    বক্তারা বলেন, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ সময় তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে দ্রুত বিএনপির নিবন্ধিত সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এ স্বীকৃতি পেলে আইনজীবীরা দলীয় কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আরও সুসংগঠিতভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

    সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। কারও বিরুদ্ধে অর্থ আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন।

    বক্তারা সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মতপার্থক্য থাকলে তা সংগঠনের অভ্যন্তরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। ব্যক্তিগত বা প্রকাশ্যে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য পরিহার করে সংগঠনের ঐক্য অটুট রেখে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু সাইদ রাজা, অ্যাডভোকেট এবিএম সেলিম, অ্যাডভোকেট ই. জে. সাহরিয়ার হাসিব, অ্যাডভোকেট জি. এম. ফিরোজ আহমেদ, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সরদার সাইফ, অ্যাডভোকেট আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন শাওন, অ্যাডভোকেট মাকফুর রহমান , অ্যাডভোকেট রেজওয়ান আলী, অ্যাডভোকেট আকরাম আলী, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বাপ্পি, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সোহেল, অ্যাডভোকেট শাহানা ইমরুজ, অ্যাডভোকেট আয়ুব আলী, অ্যাডভোকেট ইয়াছিন হাবিব, অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দীন, অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ডালিম, অ্যাডভোকেট শাহাজান জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট এবাদুল হক, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবু, অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বাবলু, অ্যাডভোকেট আলামিন আলম, অ্যাডভোকেট শেখ হেলালুজ্জামান হেলাল, অ্যাডভোকেট বখতিয়ার, অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ, অ্যাডভোকেট তারিক ইকবাল অপুসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শতাধিক আইনজীবী।

  • জ্বালানি তেল সরবরাহে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার

    জ্বালানি তেল সরবরাহে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় জেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। সভায় জানানো হয়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ মাসে জেলায় প্রায় দেড় গুণ বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়েছে। সভায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার, অবৈধ মজুদদারির বিরুদ্ধে অভিযান বৃদ্ধি, যানজট নিরসনে বাস থামার নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিতকরণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে অভিযান বৃদ্ধি এবং সরকারি খাস জমি উদ্ধারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাঃ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস.এম. রাজু আহমেদ, জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সাতক্ষীরায় মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

    সাতক্ষীরায় মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে জেলা স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিদপ্তরের অনুমোদিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচির আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল। তিনি বলেন, খেলাধুলা শরীর সুস্থ রাখে এবং সাঁতার একটি জীবন রক্ষাকারী দক্ষতা। সাঁতার জানলে অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব। তাই সবাইকে সাঁতার শেখার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফুটবল কোচ ইকবাল কবির খান বাপ্পি, জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ শেখ মাসুদ আলী এবং সাঁতার প্রশিক্ষক জাহিদ হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আয়োজকেরা জানান, মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণে জেলার আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাঁতারে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি তাদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে।

  • এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সাতক্ষীরার সবকটি কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সাতক্ষীরার সবকটি কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা

    স্টাফ রিপোটার: আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রত্যেক কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা। একই সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি নজরদারি এবং প্রশ্নপত্রের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের পাবলিক পরীক্ষা। এই নীতির আওতায় শুধু পরীক্ষার্থীরাই নয়, কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছে না। সেই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার খাতায় কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অনুকম্পার সুযোগ থাকবে না; শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই প্রকৃত নম্বর প্রদান করা হবে। মেধার এই লড়াইকে স্বচ্ছ করতে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে আনা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নজরবন্দিতে। শুধু ক্যামেরা স্থাপনই নয়, ধারণকৃত ফুটেজ প্রতি সাত দিন অন্তর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রশ্নপত্র সুরক্ষায় এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নগুলো প্রথমে বিশেষ ‘ফয়েল প্যাকে’ এবং পরবর্তীতে একটি ‘ওয়ান টাইম’ সিকিউরিটি খামে ভরা হচ্ছে। এই খামটি এমনভাবে তৈরি যে, একবার খোলা হলে তা আর পুনরায় লাগানো সম্ভব নয়। ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন কেন্দ্রে নেওয়ার সময় একজন ট্যাগ অফিসার সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন এবং পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সবার উপস্থিতিতে খাম খোলা হবে। ফলে প্রশ্ন ফাঁসের চিরাচরিত ছিদ্রপথগুলো এবার পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার পরীক্ষার্থীদের ওপর থাকছে কঠোর বিধিনিষেধ। কোনো পরীক্ষার্থীই নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে পারবে না। কেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিবিড় ‘নিরাপত্তা চেক’ পার হতে হবে। পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে; নারী পরীক্ষার্থীদের তল্লাশির জন্য নারী শিক্ষকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। সাইবার নজরদারি ও গুজব রোধ: পরীক্ষার আগে গুজব ও ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে সাইবার নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে যারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক জেল- জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশেষ শাখা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। পরিদর্শন ও মনিটরিং টিম: শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রতিটি কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো ও প্রস্তুতি যাচাই করতে বিশেষ পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নকলের প্রবণতা বন্ধে এবার বিশেষ ‘লাইভ মনিটরিং’ সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি ‘কেন্দ্র কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পরীক্ষা পরিচালনার যাবতীয় বিষয়গুলো পরিচালনা করবে। যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা: এসএসসি পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, আমরা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নকলমুক্ত এবং প্রশ্নফাঁসের নূন্যতম সুযোগহীন পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এবার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং সেই ফুটেজ নিয়মিত বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির এই নিশ্চিন্ন পাহারায় কোনো ধরনের অনিয়ম ঢাকা পড়ার সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্রের সুরক্ষায় আমরা এবার ফয়েল প্যাক এবং ওয়ান টাইম সিকিউরিটি খাম ব্যবহার করছি, যা শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যদি কোনো কেন্দ্রে বা কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ধরা পড়ে, তবে কেবল পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ অন্যদিকে, আসন্ন দাখিল পরীক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই এই পরীক্ষা কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁস, নকল বা অনিয়মের মাধ্যমে বিতর্কিত হতে দেওয়া যাবে না। সরকার এক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং আমরাও সেটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করব। তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন ও নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কেন্দ্রসচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে— এই বার্তা আমরা এরই মধ্যে পৌঁছে দিয়েছি।’ পরীক্ষার আগেই সচল করতে হবে সব সিসিটিভি ক্যামেরা : মাউশি। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ১১টি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১. এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ গ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচিত প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্র এবং কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। ২. যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা অচল বা অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে, সেসব কেন্দ্রের ক্যামেরা পরীক্ষা শুরুর আগেই সচল করতে হবে। ৩. সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা সব ভিডিও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহ করতে হবে। ৪. প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে দেয়ালঘড়ি (কাঁটাওয়ালা) স্থাপন করতে হবে। ৫. স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করতে হবে। ৬. কেন্দ্রসচিব ছাড়া পরীক্ষার হলে কোনো শিক্ষক বা পরীক্ষার্থী যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। ৭. কোনো পরীক্ষার্থী যাতে নকল বা অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে এবং ছাত্রীদের ক্ষেত্রে মহিলা শিক্ষকের মাধ্যমে তল্লাশির ব্যবস্থা করতে হবে। ৮. পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কেন্দ্রের প্রধান ফটকে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা টাঙিয়ে দিতে হবে। ৯. প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ১০. সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক কেন্দ্রসচিবদের দেওয়া নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। ১১. উপরোক্ত নির্দেশনাসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে; কোনো অবহেলা বা গাফিলতির কারণে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাউশি জানিয়েছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে সব ধরনের অনিয়ম রোধে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মাউশি স্পষ্ট জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মহাদেব চন্দ্র সাধুরর প্রতারণায় দুই ব্যবসায়ী খুয়ালেন ১৯ কোটি টাকা

    মহাদেব চন্দ্র সাধুরর প্রতারণায় দুই ব্যবসায়ী খুয়ালেন ১৯ কোটি টাকা

    স্টাফ রিপোটার: মেসার্স সাধু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর প্রতারণার শিকার হয়ে দুই ব্যবসায়ী খুইয়েছেন ১৯ কোটি টাকা। ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতনের ১৫ কোটি টাকা এবং মানিকগঞ্জের ব্যবসায়ী লিটন কুমার আইজের ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। জানা গেছে, ডিও ব্যবসার আড়ালে এই টাকা হাতিয়ে নেয় মাহাদেব সাহা। টাকা পরিশোধ না করে উল্টো মামলা করে হয়রানির করা হচ্ছে ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতন ও লিটন কুমার আইজকে। মামলার হয়রানি থেকে বাঁচাতে ও জীবনের নিরাপত্তা এবং প্রতারক মাহাদেব সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাহাবার এগ্রোর স্বত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন রতন ও রাধিকা ডাল মিল অ্যান্ড ওয়েল কোম্পানির মালিক লিটন কুমার আইজ। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল হোসেন রতন দাবি করেন, প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর বিরুদ্ধে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, সাতক্ষীরা, পাবনা, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যবসায়িক লেনদেনের নামে প্রতারণা, চেক ডিজঅনার, নারী ধর্ষণ, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১৬টির বেশি মামলা রয়েছে। তারপর ভিন্ন কৌশলে ব্যবসার নামে প্রতারণা করে উল্টো ব্যবসায়ীদের নামে মামলা দিয়ে র্দীঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে। মহাদেব চন্দ্র সাধু ও তার ভাগিনাসহ ১৫ -১৬ জনের একটি চক্র এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। লিখিত অভিযোগে ইসমাইল হোসেন রতন জানান, ২০২৫ সালে চট্টগামের জনৈক ব্যবসায়ী ওয়াহেদ মাহমুদের মাধ্যমে টেলিফোনে পরিচয় হয় প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধুর সঙ্গে। মাহদেব চন্দ্র সাধু নিজেকে খুলনার ডুমুরিয়ার প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী জয়দেব সাহার নাম ব্যবহার করে মিথ্যা পরিচয় দেন। পরে জয়দেব সাহা নামে আমার কাছ থেকে ভুট্টা নেয়ার মাধ্যমে লেনদেন শুরু করেন। ভুট্টার পাশাপাশি মুসর ডাল, সরিষাসহ বিভিন্ন পণ্যের ডিও ক্রয়-বিক্রয় শুরু করেন। পরে বিভিন্ন কৌশলে এক থেকে দেড় বছরে প্রায় ১৫ কেটি টাকার পণ্য নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি চুয়াডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন কথিত জয়দেব সাহা। পরে ওই থানায় গিয়ে প্রথমে জানতে পারি সে জয়দেব সাহা নয়, তার আসল নাম মহাদেব চন্দ্র সাহা। শুধু আমার সঙ্গে নয়, দেশের আরও অনেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাহা। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট প্রতারক মহাদেব সাহা ও তার সহযোগীদের আসামি করে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করি। মামলার পর মহাদেব সাহা ও তার সহযোগীরা আদালতে অপরাধ স্বীকার করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করবে মর্মে আদালত থেকে জামিন নেন; কিন্তু নির্ধারিত সময়ে মধ্যে টাকা পরিশোধ না করে উল্টো নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মহাদেব সাহা ও তার ভাগিনা শুভ সাহা অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাতক্ষীরা থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ আমাকে (ইসমাইল হোসেন রতন) গ্রেফতার করে। ১০ দিনের জেল খেটে ১৭ মার্চ জামিন পান। ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা সদর থানায় আমার বিরুদ্ধে আরও একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ইসমাইল অভিযোগ করেন, প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাধু বর্তমানে টাকা যাতে আমাকে পরিশোধ করতে না হয় এজন্য আমাকে এবং আমার পরিবারকে চিরতরে মেরে ফেলার জন্য চক্রান্ত করছে। এ অবস্থায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতারক মহাদেব চন্দ্র সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান প্রশাসনের কাছে। এ সময় তার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাহাবার এগ্রোর কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, রাধিকা ডাল অ্যান্ড ওয়েল মিলের মালিক লিটন কুমার আইজ, আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন নাহিদ, বালু লাল চক্রবতীসহ অনেকে।

  • ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের বহুমুখী যোগ্যতা অর্জন করতে হবে : শফিকুল ইসলাম

    ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের বহুমুখী যোগ্যতা অর্জন করতে হবে : শফিকুল ইসলাম

    সাতক্ষীরা জামায়াতের দিনব্যাপী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

    ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের বহুমুখী যোগ্যতা অর্জন করতে হবে : শফিকুল ইসলাম

    সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা.শফিকুল ইসলাম বলেছেন, এই দেশের জনগণ রক্ত দিয়ে ৫ আগস্ট একটি ঐতিহাসিক বিপ্লব সাধন করেছে, বহু মানুষের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই বিপ্লব কোনো অবস্থাতেই বেহাত হতে দেয়া যাবে না।

    ২৮ মার্চ শনিবার বিকেলে সাতক্ষীরা আল আমিন ট্রাস্টের কাযী শামসুর রহমান মিলনায়তনে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াত কর্মীদের বহুমুখী যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। বর্তমান পৃথিবীতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে, দায়িত্বশীলদের দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে দেশের সকল মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমাদের ইউনিয়ন দায়িত্বশীলগণ এই দেশের সম্মানিত অভিভাবক, তাদেরও মানুষের পরিবর্তনের কাজে উৎসাহিত করতে হবে। তিনি বলেন,নতুন প্রেক্ষাপটে আমরা সকল জায়গায় দাওয়াত পৌঁছানোর যে সুযোগ পাচ্ছি এটাকে গণিমত হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
    জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা:মাহমুদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণভিত্তি অর্জন ও সংগঠনকে মজবুত করতে হবে। গণভিত্তি গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকতার সাথে মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তার যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা ও সামাজিক কাজের কোনো বিকল্প নেই।
    শিক্ষা শিবিরে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের জেলা নায়েবে আমীর শেখ নূরুল হুদা, ডা: মাহমুদুল হক, জেলা সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারী মাহবুবুল আলম,প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ, প্রভাষক ওমর ফারুক, অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী, মাওলানা ওসমান গনি, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এড. আজিজুল ইসলাম, অফিস সেক্রেটারী মাওলানা রুহুল আমিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

  • মশার উপদ্রের প্রতিকার চেয়ে পৌর ছাত্রদলের স্মারকলিপি

    মশার উপদ্রের প্রতিকার চেয়ে পৌর ছাত্রদলের স্মারকলিপি

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মশার ভয়াবহ উপদ্রব থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সাতক্ষীরা শহর ছাত্রদল। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, সাতক্ষীরা একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ১নং ওয়ার্ডের কাটিয়া টাউন বাজার, মধ্য কাটিয়া, ঝুটিতলা, ২নং ওয়ার্ডের কাছারীপাড়া, সরকারপাড়া, মুনজিতপুর, ৩নং ওয়ার্ডের পুরাতন সাতক্ষীরা, ৪নং ওয়ার্ডের সুলতানপুর বড় বাজার, ৫নং ওয়ার্ডের চালতেতলা, ৬নং ওয়ার্ডের কুখরালী, ৭নং ওয়ার্ডের ইটাগাছা, ৮নং ওয়ার্ডের কামালনগর এবং ৯নং ওয়ার্ডের রসুলপুর ও চৌরঙ্গী মোড়সহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশার কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি তীব্র গরমে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন মশার এই উপদ্রব মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন পৌরবাসী। শহর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয় জানিয়ে অনতিবিলম্বে পৌরসভার পক্ষ থেকে ফগার মেশিন ও কার্যকর ওষুধ ছিটানোর দাবি জানানো হয়। শহর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শাহীন ইসলামের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদুল আলম, সহসভাপতি আকবর হোসেন, দিবা নৈশ কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব তামিম রশিদ, শহর ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য শরিফুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, শহর ছাত্রদল নেতা জুবায়ের, সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতা শেখ ইমরান আহমেদ, ফাহিম হোসেন ও এবং সবুজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এসময় পৌর কর্তৃপক্ষ স্মারকলিপি গ্রহণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। শহর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন।

  • সাতক্ষীরায় কৃষিক্ষেত্রে সূর্যমুখী চাষ নতুন দিগন্তের সূচনা:  আবাদ বেড়েছে দ্বিগুণ

    সাতক্ষীরায় কৃষিক্ষেত্রে সূর্যমুখী চাষ নতুন দিগন্তের সূচনা: আবাদ বেড়েছে দ্বিগুণ

    আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরাঃ সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার লবণাক্ত পতিত জমি ও তালার নিম্ন এলাকার জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষে সফলতা এসেছে। ফলে উৎকৃষ্টমানের তেলের চাহিদা পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এতে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক। তালা পাটকেলঘাটার কপোতাক্ষ পাড়ে ভারশার মাঠগুলোতে দূর থেকে দেখলে মনে হবে, বিশাল আকারের হলুদগালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কাছে গেলে চোখে পড়ে হাজারো সূর্যমুখী ফুল। বাতাসে দোল খেয়ে ফুলগুলো যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। চলতি মৌসুমে জেলাতে ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে যা যে কোন বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার ও বীজে প্রণোদনা দেয়ায় সাধারণ কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
    সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২৭ হেক্টর, কলারোয়ায় উপজেলায় ২২ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৬৩ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৭ হেক্টর, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৩৪ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ১৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ৬০ হেক্টর। তবে গেল বছর জেলায় এ ফসলটি চাষ হয়েছিল ১০৯ হেক্টর জমিতে। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলায় সুর্যমুখির আবাদ বেড়েছে ১১৯ হেক্টর পরিমান।
    সরুলিয়া ইউনিয়নের ভারশা গ্রামে ও উপজেলার বিভিন্ন সূর্যমুখী চাষ করা জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটে থাকা সূর্যমুখী ফুলের সমাহারে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছিরা ছুটছেন এক ফুল থেকে অন্য ফুলে তাতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের জমি। এটি যেন ফসলি জমি নয়, এ এক দৃষ্টিনন্দন বাগান।
    ভারশা গ্রামের সূর্যমুখি চাষি মো: আকবর হোসেন জানান, সূর্যমুখী ফুল চাষের লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়। মূলত ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ চাষ করা হচ্ছে। তাই অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি জানান, সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয়। তেল উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের।
    সাতক্ষীরা সদর কৃষি কর্মকর্তা মনির জানান, সূর্যমুখী চাষের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ‘কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে সার, বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে সূর্যমুখীর আবাদ ভালো হলে কৃষিক্ষেত্রে তা নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।’
    সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, উৎপাদন বাড়াতে চলতি রবি মৌসুমে জেলাতে ৬০০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে জন প্রতি এক কেজি করে টিএসএফ জাতের সুর্যমুখি বীজ দেয়া হয়েছে। সঙ্গে দুই প্রকার ১০+১০=২০ কেজি করে সারও দেয়া হয়েছে এসব কৃষককে। বীজ ও সার মিলে মোট ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এসব সুর্যমুখি চাষীদের।

    আবু সাইদ বিশ্বাস
    সাতক্ষীরা
    ১৯/২/২৬
    ০১৭১২৩৩৩২৯৯

     

     

  • সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জলের সুস্থ্যতা কামনা

    সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জলের সুস্থ্যতা কামনা

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমাদের সময়, মাছরাঙা টেলিভিশনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল সড়ক দূঘটনায় আহত হয়ে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন। তার আশু সুস্থ্যতা কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম মনিরুল ইসলাম মিনি, সহ-সভাপতি ফারুক মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল বারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ বিশ্বাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, অর্থ সম্পাদক মুহা. জিললুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক আল ইমরান, নির্বাহী সদস্য আবু নাসের মোঃ আবু সাঈদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুল গফুর সরদার ও এম জিললুর রহমানসহ সদস্য সদস্যবৃন্দ। অপরদিকে, সুস্থ্যতা কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা সাংবাদিক ফোরাম (রেজিঃ নং ৫৮৩/০৪) এর নেতৃবৃন্দ।

  • সাতক্ষীরা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক ‘প্রান্তিক যুব সংঘ’-কে নিবন্ধন সনদ প্রদান

    সাতক্ষীরা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক ‘প্রান্তিক যুব সংঘ’-কে নিবন্ধন সনদ প্রদান

    মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন সাতক্ষীরা।।সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চালতেতলা গ্রামভিত্তিক সামাজিক সংগঠন ‘প্রান্তিক যুব সংঘ’
    আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি নিবন্ধন লাভ করেছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয় থেকে সংগঠনটিকে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। যুব সংগঠন (নিবন্ধন এবং পরিচালনা) আইন, ২০১৫-এর ৪ ধারা এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ২০১৭ অনুযায়ী সংগঠনটিকে নিবন্ধিত করা হয়েছে, যার সরকারি নিবন্ধন নম্বর: যুউ অ/সাতঃ নিঃ-১২৮।

    গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঙ্গীত কুমার দাস স্বাক্ষরিত সনদটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। নিবন্ধন পাওয়ার ফলে সংগঠনটি এখন থেকে সরকারি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, অনুদান এবং যুব ঋণের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে স্থানীয় বেকারত্ব দূরীকরণে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারবে।

    দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ, দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ এবং দুস্থদের সহায়তায় কাজ করে আসছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় তাদের কার্যক্রম প্রশংসিত হয়েছে। নতুন এই স্বীকৃতি তাদের কাজের পরিধি ও দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    নিবন্ধন সনদ গ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি হৃদয় মন্ডল, সহ-সভাপতি ইফতি জামিল, সাধারণ সম্পাদক নূরজাহান খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া খাতুন, অর্থ সম্পাদক মারুফুজ্জামান সম্রাট, ক্রীড়া সম্পাদক হাসনা আক্তার ইতি এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক শ্রেয়া সরদার। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, ইমতি জামিল, তাপস সরকার, মুছাব্বির রহমান ইমন, বিচিত্র মন্ডল ও আজমিরা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।

    উপপরিচালক সঙ্গীত কুমার দাস জানান, নিবন্ধিত সংগঠনগুলোকে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘প্রান্তিক যুব সংঘ’ তাদের গঠনতন্ত্র মেনে যুব সমাজের নৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই তারা এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং কারিগরি শিক্ষা প্রসারে নতুন প্রকল্প হাতে নেবে। এই অর্জনে চালতেতলা ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে।