Category: হোম পেজ লীড নিউজ

  • বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে আইনজীবী ফোরামকে স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল-সমাবেশ

    বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে আইনজীবী ফোরামকে স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল-সমাবেশ

    মোঃ হাফিজুল ইসলাম :বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিবন্ধিত সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনার চত্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল আদালত চত্বর ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    সংগঠনের জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আকবর আলীর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার।বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং আইনজীবীদের পেশাগত অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। গত ১৭ বছরে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট অন্যতম সক্রিয় ইউনিট হিসেবে কাজ করেছে বলেও তারা দাবি করেন।

    বক্তারা বলেন, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ সময় তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে দ্রুত বিএনপির নিবন্ধিত সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এ স্বীকৃতি পেলে আইনজীবীরা দলীয় কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আরও সুসংগঠিতভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

    সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। কারও বিরুদ্ধে অর্থ আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন।

    বক্তারা সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মতপার্থক্য থাকলে তা সংগঠনের অভ্যন্তরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। ব্যক্তিগত বা প্রকাশ্যে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য পরিহার করে সংগঠনের ঐক্য অটুট রেখে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু সাইদ রাজা, অ্যাডভোকেট এবিএম সেলিম, অ্যাডভোকেট ই. জে. সাহরিয়ার হাসিব, অ্যাডভোকেট জি. এম. ফিরোজ আহমেদ, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সরদার সাইফ, অ্যাডভোকেট আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন শাওন, অ্যাডভোকেট মাকফুর রহমান , অ্যাডভোকেট রেজওয়ান আলী, অ্যাডভোকেট আকরাম আলী, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বাপ্পি, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সোহেল, অ্যাডভোকেট শাহানা ইমরুজ, অ্যাডভোকেট আয়ুব আলী, অ্যাডভোকেট ইয়াছিন হাবিব, অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দীন, অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ডালিম, অ্যাডভোকেট শাহাজান জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট এবাদুল হক, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবু, অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বাবলু, অ্যাডভোকেট আলামিন আলম, অ্যাডভোকেট শেখ হেলালুজ্জামান হেলাল, অ্যাডভোকেট বখতিয়ার, অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ, অ্যাডভোকেট তারিক ইকবাল অপুসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শতাধিক আইনজীবী।

  • জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম থাবায় বিপর্যস্ত সাতক্ষীরা

    জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম থাবায় বিপর্যস্ত সাতক্ষীরা

    আবু সাইদ বিশ্বাস: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি। বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী এই জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি, কালীগঞ্জ, দেবহাটা ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা এবং সুপেয় পানির সংকটের মতো বহুমুখী পরিবেশগত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী ও খাল দখল, বন উজাড় এবং পরিবেশ দূষণের কারণে জেলার পরিবেশগত ভারসাম্য ক্রমেই নষ্ট হচ্ছে। একসময় কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা বর্তমানে পরিবেশগত নানা সংকটে জর্জরিত। ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, বুলবুল, আম্পান, ইয়াস, রেমালসহ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধ, রাস্তা, বসতভিটা ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। বহু এলাকায় নদীর বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি দীর্ঘ সময়ের জন্য অনাবাদি হয়ে পড়ে। অনেক পরিবার এখনও সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জ উপজেলার অনেক এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানিতেও লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মানুষকে দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেক পরিবার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বা পুকুরের পানি পরিশোধন করে ব্যবহার করছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি-সংক্রান্ত বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে চিকিৎসকরা জানান। পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষও জেলার পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষিজমিকে চিংড়ি ঘেরে রূপান্তরের ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক প্রাকৃতিক জলাশয় ও খাল দখল কিংবা ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সাতক্ষীরা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের একটি অংশ সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার পরিবর্তন এবং দূষণের কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া, হরিণ, পাখি ও উদ্ভিদের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, প্রতিবছর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘ খরা এবং অতিবৃষ্টির প্রবণতা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ধান, সবজি ও ফলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ করে লবণসহিষ্ণু জাতের ফসল চাষ করতে হচ্ছে। অনেকেই কৃষি ছেড়ে বিকল্প জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী হচ্ছেন, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের মতে, তা এখনও পর্যাপ্ত নয়। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী ও খাল পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধভাবে জলাশয় ভরাট বন্ধ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারিও অত্যন্ত জরুরি। নদী, খাল ও বন রক্ষায় আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাড়াতে হবে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সাতক্ষীরার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় আগামী কয়েক দশকে জেলার পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হবে।

  • ‘গরুর স্কুল’ তকমায় কালিগঞ্জের সোনাটিকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী এখন ২৪ জন

    ‘গরুর স্কুল’ তকমায় কালিগঞ্জের সোনাটিকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী এখন ২৪ জন

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সোনাটিকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিয়মিত গরু-ছাগল বেঁধে রাখা, গোবর ও আবর্জনা ফেলা এবং পয়োনিষ্কাশনের উন্মুক্ত ড্রেন তৈরির কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী কমতে কমতে বর্তমানে মাত্র ২৪ জনে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনিক ও পুলিশি হস্তক্ষেপ চেয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর চিঠি দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পরিদর্শন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার একাধিক পরিদর্শন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম নিয়মিত বিদ্যালয়ের সামনে গরু-ছাগল বেঁধে রাখেন। পাশাপাশি মাঠে গোবর, খড়কুটা, গাছের পাতা ও পরিত্যক্ত আসবাবপত্র ফেলে রাখেন। এমনকি তাঁর বাড়ির পয়োনিষ্কাশনের জন্য বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে উন্মুক্ত ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নোংরা হয়ে পড়ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষকরা একাধিকবার নিষেধ করলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও পরিদর্শনের সময় তাঁকে সতর্ক করলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরেজমিনে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার অনেক সচেতন অভিভাবক বিদ্যালয়টিকে ‘গরুর স্কুল’ বলে অভিহিত করেন। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে তাঁরা সন্তানদের ওই বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে আগ্রহী নন। এর প্রভাবেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে বর্তমানে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়সংলগ্ন কয়েকজন বাসিন্দার বাঁশঝাড় বিদ্যালয় ভবন ও শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। শিক্ষকরা বাঁশঝাড় অপসারণের অনুরোধ জানালেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাতে সাড়া দেননি। চিঠিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস উল্লেখ করেছেন, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশি সহায়তা প্রয়োজন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামসহ অন্যদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

  • সাতক্ষীরায় এআই বিষয়ক সাংবাদিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    সাতক্ষীরায় এআই বিষয়ক সাংবাদিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকার উদ্যোগে “সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এর ব্যবহার ও সম্ভাবনা” শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকার প্রধান উপদেষ্টা ও জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সাইদ বিশ্বাসের সঞ্চালনায় এবং পত্রিকাটির প্রকাশক শেখ নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকার চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, আলোর পরশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক অধাপক ওবায়ল্লাহ, আলোর পরশ পত্রিকার আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আজিজুল ইসলাম, মাওলা হাবিবুর রহমান, আলোর পরশ পত্রিকার মনেজার মাহমুদ হোসেন প্রমুখ। কর্মশালায় সাংবাদিকতায় এআই প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক, তথ্য যাচাই, কনটেন্ট তৈরি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে প্রষিক্ষণ প্রদান করেন, সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলু, আব্দুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি উপাধ্যক্ষক শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার আদায়ে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাতক্ষীরার মৎস্যসম্পদ, কৃষি ও সম্ভাবনাময় অর্থনীতিকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের অন্যতম দাবি রেললাইন স্থাপনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে । সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধান অতিথি আরও বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। এ পেশায় সত্যনিষ্ঠা, নীতিনৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কোনো ধরনের গুজব, অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করতে হবে। একজন সাংবাদিকের কলম মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়। তাই বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, আধুনিক সাংবাদিকতায় এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার গণমাধ্যমকে আরও গতিশীল ও তথ্যসমৃদ্ধ করে তুলবে।

  • ৬২ বছর পর সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের ঈদ পুনর্মিলনী

    ৬২ বছর পর সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের ঈদ পুনর্মিলনী

    এসএম আশরাফুল ইসলাম: ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় বকচরা আহমাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বকচরা আহমাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাবেক সুপার মাওলানা আবু দাউদ, সাবেক শিক্ষক খলিলুর রহমান, আব্দুল গফুর, মাওলানা আব্দুস সামাদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানের ৬২ বছরের ইতিহাসে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন আয়োজন তাঁদের গর্বিত করেছে। তাঁরা এ ধরনের পুনর্মিলনী প্রতি বছর আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তবে তাঁরা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব না হওয়ায় সেটি বকচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে করতে হয়েছে, যা তাঁদের কষ্ট দিয়েছে। ভবিষ্যতে নিজ প্রতিষ্ঠানে এ আয়োজন করার আশা প্রকাশ করেন তাঁরা। পুনর্মিলনীতে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আড্ডায় অংশ নেন। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

  • দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘ভূমিসেবা কেন্দ্রসমৃদ্ধ’ জেলা সাতক্ষীরা: জেলা প্রশাসক

    দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘ভূমিসেবা কেন্দ্রসমৃদ্ধ’ জেলা সাতক্ষীরা: জেলা প্রশাসক

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা জেলা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভূমিসেবা কেন্দ্রসমৃদ্ধ জেলা হিসেবে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। তিনি বলেন, এ জেলায় বর্তমানে মোট ৪৩টি ভূমিসেবা কেন্দ্র রয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনদিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ প্রেসব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক জানান, ভূমিসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলায় ৭টি উপজেলা ভূমি অফিস, ২টি পৌর ভূমি অফিস এবং ৫৬টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী ১৯ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ভূমিসেবা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় মোট ১৬টি স্টল থাকবে, যেখানে নাগরিকদের সরাসরি ভূমিসেবা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করে তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, মেলার দ্বিতীয় দিনে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এদিন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভূমি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। তৃতীয় দিন বিকেলে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরীফ আসিফ রহমানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

  • নতুন সরকারের ব্যর্থতায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে: এমপি আব্দুল খালেক

    নতুন সরকারের ব্যর্থতায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে: এমপি আব্দুল খালেক

    স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন সরকারের দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতায় জনদুর্ভোগ ক্রমশই দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি জুলাই সনদ উপেক্ষা করছে এবং গণভোটের রায় নিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা শুরু করছে। দলীয় সিন্ডিকেটের কারণে দেশে জ্বালানি নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে ২ বারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী এমপিরা ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে উল্টো জাতিকে নিয়ে তামাশা করছে। এভাবে কোন দেশ চলতে পারেনা। তিনি হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, দেশে আর কোন ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সমাজে ইনসাফ কায়েমের লড়াইয়ে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হলে সকলকে সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে ময়দানে কাজ করতে হবে। বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিটি দায়িত্বশীলকে ধৈর্যের সাথে জনগণের পাশে থাকতে হবে। শুক্রবার (৮ মে) সকালে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত উপজেলা মজলিসে শূরা ও ইউনিয়ন আমীর, সভাপতি-সেক্রেটারি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি। খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন ও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও গাউসুল আযম হাদি, কর্মপরিষদ সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, মুহা. আশরাফুল আলম। শিক্ষশিবিরে দারসুল কুরআন পেশ করেন মাওলানা মুহা. মনিরুজ্জামান। মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক আত্মসমালোচনার সুরে বলেন, ‘আল্লাহ তা’আলা আমাদের এখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দান করেননিÑএর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো আমরা এখনো সেই বিশাল গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের যথাযথভাবে যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারিনি। আমাদের চারিত্রিক ও আদর্শিক মানে আরো উন্নতি সাধন করতে হবে।’ তিনি ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাহাবায়ে কেরামদের (রা.) অতুলনীয় ত্যাগ ও কুরবানির উদাহরণ টেনে দয়িত্বশীলদের সেই আদর্শ ও দৃঢ়তা নিজেদের জীবনে প্রতিফলিত করার আহ্বান জানান।
    মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াত কর্মীদের বহুমুখী যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। বর্তমান পৃথিবীতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে, রুকনদের দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে দেশের সকল মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমাদের আলেম সমাজ এই দেশের সম্মানিত অভিভাবক, তাদেরও মানুষের পরিবর্তনের কাজে উৎসাহিত করতে হবে। অনেক সাহাবীদের হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্তের ব্যাপারে আপত্তি সত্ত্বেও আল্লাহর রাসূল সেই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে হুদাইবিয়ার সন্ধিকে কার্যকর করেছিলেন এবং সমস্ত আরব বিশ্বে দাওয়াতের বাণীকে ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। নতুন প্রেক্ষাপটে আমরা সকল জায়গায় দাওয়াত পৌঁছানোর যে সুযোগ পাচ্ছি এটাকে গণিমত হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণভিত্তি অর্জন ও সংগঠনকে মজবুত করতে হবে। গণভিত্তি গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকতার সাথে মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তার যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা ও সামাজিক কাজের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, সংগঠনকে মজবুত করতে অবশ্যই যোগ্য কর্মী প্রয়োজন, তা না হলে সংগঠনিক মজবুতি অর্জন করা সম্ভব না।

  • ঝুঁকির মুখে শ্যামনগরের উপকূল

    ঝুঁকির মুখে শ্যামনগরের উপকূল

    আবু কওছার, শ্যামনগর: শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নদীভাঙন, জোয়ার-ভাটার চাপ এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৭০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৪ কিলোমিটার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্প্রতি চুনকুড়ি নদীর তীরে সিংহড়তলী এলাকায় কয়েক দশ মিটারজুড়ে ফাটল দেখা দেয় এবং পরে বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ে। একই সময়ে খোলপেটুয়া নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানেও ক্ষয় ও দুর্বলতা দেখা গেছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত জোয়ার-ভাটার প্রভাবে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মে মাস থেকে ঘূর্ণিঝড় মৌসুম শুরু হওয়ায় ঝুঁকির বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। অতীতে ‘সিডর’, ‘আইলা’, ‘আম্পান’ ও ‘ইয়াস’ ঘূর্ণিঝড়ের সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও মৎস্যঘের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাবুরা ইউনিয়নের পল্লী চিকিৎসক আশরাফুল আলম জানান, ২০০৯ সালের আইলা ঘূর্ণিঝড়ে বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয় এবং তার ওষুধের ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা সূর্য বিবি পানিতে ডুবে মারা যান। কামাল শেখ জানান, জলোচ্ছ্বাসে তার গবাদিপশু ভেসে যায়। এছাড়া সোরা এলাকায় বাঁধ ভেঙে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, আইলার সময় প্রায় ৮০ কিলোমিটার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার অনেকাংশ এখনো পুরোপুরি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। প্রায় এক হাজার ঘরবাড়ি ভেসে যায় এবং ওই দুর্যোগে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগরসহ সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের বেশ কিছু বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সংস্কার কাজ চলমান থাকলেও কিছু এলাকায় তা এখনো অসম্পূর্ণ। উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরকার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ৪ কিলোমিটার বাঁধ সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি রয়েছে। উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী সুমন বলেন, জরুরি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থানীয়ভাবে মজুদ রাখা হয়েছে।
    এদিকে ‘সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার-১৫ পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় গাবুরা ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ উন্নয়ন কাজ চলছে। প্রায় ১০২০ দশমিক ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৯ দশমিক ২০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ৫টি রেগুলেটার প্রতিস্থাপন এবং ৯টি ইনলেট নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটির অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩৪৪১ হেক্টর এলাকা সুরক্ষা পাবে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং চলমান প্রকল্প দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • বাজারে আসছে সাতক্ষীরার আম

    বাজারে আসছে সাতক্ষীরার আম

    আবু সাইদ বিশ্বাস: বাজারে আসছে সাতক্ষীরার আম। স্বাদে ও মানে অন্যন্য হওয়ায় সাতক্ষীরার আমের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা শীর্ষে, রপ্তানি হয় বিদেশেও। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে দেশের মধ্যে প্রথম বাজারে আসে এ জেলার আম। তাই জেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাঝে এখন উৎসবের আমেজ। জেলা প্রশাসন ঘোষিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামীকাল (৫ মে) গাছ থেকে ভাঙা শুরু হবে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম। আর ১৫ মে হিমসাগর, ২৭ মে ল্যাংড়া এবং আম্রপালি জাতের আম বাজারজাত করা যাবে ৫ জুন। এদিকে আম ব্যবসাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা অবস্থান নিয়েছেন সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায়। তারা বাজার ও বাগান ঘুরে দেখছেন। ‘আগামী এক মাসে তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো কোটি টাকার আম বেচাকেনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।’
    কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় আম বাগানের সংখ্যা ৩২০টি, চাষি ও ব্যবসায়ী রয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার টন, বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ টন আম।
    পারকুকরালী এলাকার আম চাষি মোহাম্মদ আলী জানান, তার ২৫ লাখ টাকার আম বাগান বিক্রি হয়েছে। বাগানে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৪০ লক্ষাধিক টাকার আম বেচাকেনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
    অপরিপক্ব আম ভাঙা ও কৃত্রিমভাবে পাকানোর প্রবণতা রোধে জেলা প্রশাসন কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা বাগানিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। ফলে ভালো দামের আশায় আছেন স্থানীয় চাষিরা।
    সাতক্ষীরা বড় বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি বোঝার জন্য ঘুরছেন। এখনই দাম বলা যাবে না। আগামীকাল সকাল থেকে প্রশাসন ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম বাজারে আসার পর জাত ও শ্রেণিভেদে কোন আম প্রতি মণ কত দামে বিক্রি হচ্ছে, তখন বলা যাবে।’
    সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, আগামীকাল ৫ মে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি আম বাগান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম সংগ্রহ শুরু হবে।
    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়ার কারণে এখানকার আম স্বাদে ও ঘ্রাণে অনন্য। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কোনো প্রকার কেমিক্যাল-মিশ্রিত আম বাজারজাত করা যাবে না। ধরা পড়লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনা একটাই: পরিপক্ব, নিরাপদ, বিষমুক্ত আম বাজারজাত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আগামী এক মাসে তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো কোটি টাকার আম বেচাকেনা হবে সাতক্ষীরায়।’

  • সাতক্ষীরায় হ্রাস পাচ্ছে পাটের আবাদ

    সাতক্ষীরায় হ্রাস পাচ্ছে পাটের আবাদ

    আবু সাইদ বিশ্বাস: অধিক তাপমাত্রা, কড়া রোদ্রোজ্জ¦ল ও অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টিসহ লবণাক্তার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে পাট চাষ ঝুঁকিপূণ হয়ে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে জমিতে সাগরের লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশের ফলে লবণাক্ত জমির পরিমাণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। গত তিন বছরে শুধু সাতক্ষীরা জেলাতে পাটের আবাদ হ্রাস পেয়েছে এক হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। এছাড়া নায্য দাম না পেয়ে চাষিরা পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, লবণাক্ততাজনিত কারণে পাট বীজের অংকুরোদগম মারাত্মকভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হয়। এসব কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে পাট চাষ করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেজ্ঞরা বলছে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ১৮ জেলায় পরিকল্পিতভাবে কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা গেলে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনের চিত্র বদলে যাবে। এরই মধ্যে সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে লবণাক্তসহিষ্ণু পাটের চাষ কৃষকদের মাঝে আগ্রহ থাকলেও প্রচারণার অভাবে তা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে না। প্রতি বছর খরিফ-১ মৌসুমে এই বিশাল পরিমাণ জমি পতিত পড়ে থাকে। এই পতিত জমিতেই গত পাঁচ বছর ধরে বিজেআরআই উদ্ভাবিত লবণসহিষ্ণু দেশি পাট-৮ চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে কৃষকরা। পাট বিশেজ্ঞরা বলছে, লবণসহিষ্ণু দেশি পাট-৮ এখন উপকূলীয় অঞ্চলের চাষীদের নতুন স্বপ্ন দেখাতে পারে। এক ফসলী জমিতে এখন দুটি ফসল আবাদ করতে পারবে চাষিরা। ফলে পাট চাষে উপকূলের গুরুত্ব বাড়বে কয়েক গুণ। সরকারি হিসাব মতে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের আয়তন এ দেশের মোট আয়তনের প্রায় ২০% এবং এ অঞ্চলে দেশের প্রায় ৩০% আবাদযোগ্য জমি রয়েছে যার পরিমাণ প্রায় ২৬.৫০ লাখ হেক্টর। উপকূলীয় অঞ্চলে মোট লবণাক্ত জমির পরিমাণ প্রায় ১০.৬০ লাখ হেক্টর। এ পরিস্থিতিতে লবণাক্ততা সমস্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে বিবেচনায় রেখে উপকূলীয় অঞ্চলে পাট চাষ সম্প্রসারণের জন্য বিশেষ কিছু কৌশল অনুসরণ করলে লবণাক্ত অঞ্চলে একদিকে যেমন পাট চাষ সম্প্রসারিত হবে তেমনি ওই অঞ্চলের শস্য নিবিড়তাও বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। গবেষণার রির্পোটে বলছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি জেলার ৬টি উপজেলায় পাটের আঁশ ও বীজ ফসল উৎপাদনের উপর একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে বলা হয় বিভিন্ন এলাকায় পাটের বীজ বপনের সময় পরিবর্তন করে জমিতে লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বেই শুষ্ক মৌসুমে স্বাদু পানি দ্বারা সেচ দিয়ে জমি তৈরি করে যদি বীজ বপন করা যায় তবে বীজের অংকুরোদগম স্বাভাবিক লবণাক্ততা অবস্থার তুলনায় প্রায় ২০% বৃদ্ধি পায় এবং তুলনামূলকভাবে পাটের ভালো ফলন পাওয়া যায়। কারণ দেরিতে বীজ বপন করলে পাট ফসল অধিক মাত্রার লবণাক্ততার ঝুঁকিতে পড়ে ও বীজের অংকুরোদগম মারাত্মকভাবে ক্ষতি” গ্রস্থ হয়। এর ফলে পাটের ফলন প্রায় ৫০% কমে যায়। বাংলাদেশে ১৯৭০-৭১ অর্থবছরে ৯ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়ে ছিল। বিগত ২০২৪-২৫অর্থবছরে দেশে পাটের আবাদের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ২০হাজার হেক্টর জমিতে। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, চলতি মৌসুুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ১১ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ৫০২০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৩ হাজার ২৫৫, তালায় ৩ হাজার ১১০, দেবহাটায় ২০, কালীগঞ্জে ১০১, আশাশুনিতে ৯৫ এবং শ্যামনগর উপজেলায় ৯ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধাণ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৪৩ হাজার হেক্টর কম আবাদ হয়েছে। সূত্রটি আরো জানায়, গত ২০২৩-২৪ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ১২ হাজার ৮২০ হেক্টর। জেলায় এবার দেড় লাখ বেল্ট পাট উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গেল তিন বছরের মধ্যে জেলাতে পাটের আবাদ কমেছে এক হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। এছাড়া ৩ মে পর্যন্ত জেলাতে পাটের আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৫৩৮ হেক্টর জমিতে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে এখনো পাট আবাদ হচ্ছে। বাকি সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে যাবে।
    সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নারানজাল গ্রামের পাটচাষী পলাশ হোসেন জানান, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় চলতি মৌসুমে পাট উৎপাদনে খরচ বেশি পড়ছে। গত বছর বিঘাপ্রতি ১৫-১৬ হাজার টাকার মতো খরচ হলেও চলতি বছর ১৯-২০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। সেখানে একই জমির পাট বিক্রি করতে হচ্ছে ১৪-১৫ হাজার টাকা।
    সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, পাট একটি লাভজনক ফসল। নতুন জাতের লবণসহিষ্ণু দেশি পাট-৮ চাষের মধ্য দিয়ে উপকূলের অর্থনীতিতে পাট খাতে একটি বিপ্লব সাধিত হচ্ছে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্রমশ আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত জমিতে অধিক সংখ্যক প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবস আয়োজন ইত্যাদির মাধ্যমে লবণাক্তসহিষ্ণু পাটের চাষাবাদ প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় করে তুলতে কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানিয়েছেন, দেশে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির আলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ পরিকল্পনায় উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত মানসম্পন্ন পাট ও পাটবীজের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি, আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, সামগ্রিকভাবে উল্লিখিত উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান উন্নয়ন, বাজারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং কৃষক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাটখাতকে একটি টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তর করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।