Category: সাতক্ষীরা

  • বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে আইনজীবী ফোরামকে স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল-সমাবেশ

    বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে আইনজীবী ফোরামকে স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল-সমাবেশ

    মোঃ হাফিজুল ইসলাম :বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিবন্ধিত সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে সাতক্ষীরায় মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনার চত্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল আদালত চত্বর ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    সংগঠনের জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আকবর আলীর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার।বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং আইনজীবীদের পেশাগত অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। গত ১৭ বছরে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট অন্যতম সক্রিয় ইউনিট হিসেবে কাজ করেছে বলেও তারা দাবি করেন।

    বক্তারা বলেন, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ সময় তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে দ্রুত বিএনপির নিবন্ধিত সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এ স্বীকৃতি পেলে আইনজীবীরা দলীয় কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আরও সুসংগঠিতভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

    সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। কারও বিরুদ্ধে অর্থ আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন।

    বক্তারা সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মতপার্থক্য থাকলে তা সংগঠনের অভ্যন্তরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। ব্যক্তিগত বা প্রকাশ্যে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য পরিহার করে সংগঠনের ঐক্য অটুট রেখে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু সাইদ রাজা, অ্যাডভোকেট এবিএম সেলিম, অ্যাডভোকেট ই. জে. সাহরিয়ার হাসিব, অ্যাডভোকেট জি. এম. ফিরোজ আহমেদ, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সরদার সাইফ, অ্যাডভোকেট আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন শাওন, অ্যাডভোকেট মাকফুর রহমান , অ্যাডভোকেট রেজওয়ান আলী, অ্যাডভোকেট আকরাম আলী, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বাপ্পি, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সোহেল, অ্যাডভোকেট শাহানা ইমরুজ, অ্যাডভোকেট আয়ুব আলী, অ্যাডভোকেট ইয়াছিন হাবিব, অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দীন, অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ডালিম, অ্যাডভোকেট শাহাজান জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট এবাদুল হক, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবু, অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বাবলু, অ্যাডভোকেট আলামিন আলম, অ্যাডভোকেট শেখ হেলালুজ্জামান হেলাল, অ্যাডভোকেট বখতিয়ার, অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ, অ্যাডভোকেট তারিক ইকবাল অপুসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শতাধিক আইনজীবী।

  • জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম থাবায় বিপর্যস্ত সাতক্ষীরা

    জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম থাবায় বিপর্যস্ত সাতক্ষীরা

    আবু সাইদ বিশ্বাস: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি। বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী এই জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি, কালীগঞ্জ, দেবহাটা ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা এবং সুপেয় পানির সংকটের মতো বহুমুখী পরিবেশগত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী ও খাল দখল, বন উজাড় এবং পরিবেশ দূষণের কারণে জেলার পরিবেশগত ভারসাম্য ক্রমেই নষ্ট হচ্ছে। একসময় কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা বর্তমানে পরিবেশগত নানা সংকটে জর্জরিত। ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, বুলবুল, আম্পান, ইয়াস, রেমালসহ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধ, রাস্তা, বসতভিটা ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। বহু এলাকায় নদীর বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি দীর্ঘ সময়ের জন্য অনাবাদি হয়ে পড়ে। অনেক পরিবার এখনও সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জ উপজেলার অনেক এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানিতেও লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মানুষকে দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেক পরিবার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বা পুকুরের পানি পরিশোধন করে ব্যবহার করছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি-সংক্রান্ত বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে চিকিৎসকরা জানান। পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষও জেলার পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষিজমিকে চিংড়ি ঘেরে রূপান্তরের ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক প্রাকৃতিক জলাশয় ও খাল দখল কিংবা ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সাতক্ষীরা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের একটি অংশ সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার পরিবর্তন এবং দূষণের কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া, হরিণ, পাখি ও উদ্ভিদের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, প্রতিবছর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘ খরা এবং অতিবৃষ্টির প্রবণতা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ধান, সবজি ও ফলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ করে লবণসহিষ্ণু জাতের ফসল চাষ করতে হচ্ছে। অনেকেই কৃষি ছেড়ে বিকল্প জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী হচ্ছেন, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের মতে, তা এখনও পর্যাপ্ত নয়। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী ও খাল পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধভাবে জলাশয় ভরাট বন্ধ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারিও অত্যন্ত জরুরি। নদী, খাল ও বন রক্ষায় আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাড়াতে হবে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সাতক্ষীরার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় আগামী কয়েক দশকে জেলার পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হবে।

  • সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা, পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা

    সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা, পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা

    গাজী হাবিব, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বয়ারবাতান গ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

    ভুক্তভোগী মোঃ আক্তারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তিনি ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং বিদেশ থেকে পুরাতন গাড়ী ও গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির করে থাকেন।

    জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে তিনি নিজ গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদরের বয়ারবাতানে আসেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গভীর রাত ১টার দিকে বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে একদল সন্ত্রাসী তার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তিনি বাড়ীর ছাদের উপর থেকে ভিডিও ও ছবি উঠানোর চেষ্টা করেন।

    ব্যবসায়ী আক্তারুল ইসলাম বলেন- হামলাকারীদের মধ্যে একই এলাকার মৃত মাছুম গাজীর ছেলে শাহারুল গাজী, আজাহারুল গাজী, নজরুল ইসলাম, দাউদ গাজী, মাহমুদ আলী, চাপড়া এলাকার কালাম, তমেজউদ্দীনের ছেলে রবিউল ইসলাম ও জিয়ারুলসহ আরও কয়েকজন নেতৃত্বে ছিলেন। হামলাকারীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ দূর থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে বাড়ীর যথেষ্ট ক্ষতি করেন।

    তিনি আরো বলেন- বাড়ীতে আসার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত কোনদিন আমার ব্যবহৃত প্রাইভেট কার গ্যারেজে রাখিনি। কিন্তু গতকাল আমি ‌গ্যারেজে রাখছিলাম। হামলাকারীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাকে হত্যা করা এবং গাড়িটি নষ্ট করে দেয়া। কেননা, বেশ কিছুদিন আগে তারা আমার একটি মৎস্যঘের তারা দখল করে নিয়েছে।

    আক্তারুল ইসলাম বলেন- আমি তাদের হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে পৌছালে তারা পালিয়ে যায়। তবে আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে আছি। বাড়ীতে আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা থাকে। যেকোন সময় সন্ত্রাসীরা আবারো হামলা করতে পারে।

    পরে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মাহবুবের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের সহযোগিতায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান বলে জানান।

    মোঃ আক্তারুল ইসলাম আরও বলেন, অভিযুক্ত শাহারুল দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। অতীতেও একাধিকবার তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন।

    এ ঘটনায় তিনি সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে জানতে শাহারুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে জিয়ারুল ইসলাম বলেন- আমি হামলার সময় ছিলাম।
    জমিটা আমাদের। আক্তারুল জোরপূর্বক দখলে রেখেছে। তাই আমরা দখল নিতে গিয়েছিলাম।

    জানতে চাইলে ব্রহ্মরাজপুর ভূমি অফিসের নায়েব মোস্তফা মনিরুজ্জামান বলেন, মাত্র সাড়ে ১০ শতক জমির বিষয়ে এডিএমকোর্ট থেকে সরেজমিন প্রতিবেদন চেয়েছে। আমি গিয়েছিলাম কিন্তু একপক্ষ সেখানে উপস্থিত থাকলেও অপরপক্ষ উপস্থিত ছিলেন না।

    জমি বিরোধে একজনের বাড়ীতে রাত ১ টার পরে দলবল নিয়ে প্রবেশ করা এক ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম এ বিষয়ে জানতে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

  • লিডার্সের উদ্যোগে শ্যামনগরে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তন ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত।

    লিডার্সের উদ্যোগে শ্যামনগরে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তন ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত।

    আবু সুফিয়ান :

    সাতক্ষীরার শ্যামনগরে লবণাক্ততা, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহনশীল, স্মার্ট ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। লিডার্স এর “ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাট লোকাল লেভেল (কল) ” প্রকল্পের উদ্যোগে শ্যামনগর উপজেলার ১ নং ভুরুলিয়া ইউনিয়নের দেউলিয়া গ্রামে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তন উপলক্ষে এক প্রাণবন্ত, অংশগ্রহণমূলক ও তথ্যসমৃদ্ধ কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জলবায়ু সহনশীল কৃষি, জৈব কৃষি প্রযুক্তি ও সাসটেইনেবল খাদ্য উৎপাদনের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তোলে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃগাজীয়ার রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব মহিউদ্দিন । বিশেষ অতিথি জনাবা, আইরুননেছাদ, নারী উদ্যোক্তা এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ ক্লাইমেট জাস্টিস গ্রুপের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন

    মাঠ দিবসে জলবায়ু সহনশীল, লবণাক্ততা ও খরা সহিঞ্চু কৃষি প্রযুক্তি, স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনা, পানি সাশ্রয়ী চাষাবাদ এবং সাসটেইনেবল কৃষি উন্নয়ন নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কমলা সুন্দরী মিষ্টি আলুর সম্ভাবনা ও পুষ্টিগুণ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান চাষে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কৃষাক মোঃ মশিউর রহমান । তিনি জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেলেও ব্রি-৯৯ জাতের ধান কৃষকদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠছে।

    এসময় বায়োফর্টিফাইড জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-১০২ ধান নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন রেক্সোনা পারভীন । অন্যদিকে সবজি চাষ, জৈব সার ব্যবহার, পারিবারিক পুষ্টি বাগান ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য দেন মাসুদ রানা । বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জৈব কৃষি প্রযুক্তি, পানি সংরক্ষণ, বহুমুখী ফসল চাষ এবং আধুনিক স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও খরার ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের লবণসহনশীল ধান, ভুট্টা, সূর্যমুখীসহ বিকল্প ফসল চাষে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি পানি সাশ্রয়ী এডব্লিউডি (AWD) পদ্ধতি, খাল ও পুকুর খনন এবং টেকসই কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।” তিনি কৃষিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে জলবায়ু সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব, মোঃ মহিউদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তনের উদ্বোধন করেন এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অনুপ কুমার মন্ডল এবং সার্বিক সহোযোগিতা করেন মোঃ,কানিজুর রহমান, সালমা খাতুন কল প্রকল্প, লিডার্স।

    মাঠ দিবসে বিপুল সংখ্যক কৃষক কৃষানীর অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে স্মার্ট, জৈব ও সাসটেইনেবল কৃষি প্রযুক্তির বিস্তারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে আয়োজকরা জানান। কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল GAIN⁠ এবং বাস্তবায়নে ছিল LEDARS⁠।

  • ফসিল ফ্রি ভবিষ্যতের দাবিতে শ্যামনগরে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক

    ফসিল ফ্রি ভবিষ্যতের দাবিতে শ্যামনগরে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক

    এবিএম কাইয়ুম রাজ : জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিড়ালক্ষী খোলপেটুয়া নদীর তীরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে উপকূলীয় যুব সংগঠন শরুব ইয়ুথ টিম। কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে এ্যাকশনএইড বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের অর্ধশতাধিক তরুণ-তরুণী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেয় সুন্দরবন ইয়ুথ সলিডারিটি টিম ও এক্টিভিস্টা বাংলাদেশ। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী উপকূলীয় জনগোষ্ঠী হলেও এ সংকট তৈরিতে তাদের ভূমিকা নেই বললেই চলে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে বিশ্বকে দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। শরুব ইয়ুথ টিমের নির্বাহী পরিচালক এস এম জান্নাতুল নাঈম বলেন, উপকূলের মানুষ প্রতিনিয়ত লবণাক্ততা, পানির সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করছে। অথচ জলবায়ু সংকট সৃষ্টিতে তাদের অবদান খুবই সামান্য। তাই ফসিল ফ্রি ভবিষ্যতের দাবিতে বিশ্বব্যাপী আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা হচ্ছে। এস ওয়াই এস টি’র সভাপতি সাইদুল ইসলাম বলেন, যুবসমাজ এখন আর নীরব নয়। ভবিষ্যৎ রক্ষায় কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ গ্রহণে বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। শরুব ইয়ুথ টিমের কমিউনিকেশন ফোকাল জেবা তাসনিয়া বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তরুণদের আরও সংগঠিত হওয়া প্রয়োজন। উপকূলের বাস্তবতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। এসময় উপস্থিত ছিলেন শরুব ইয়ুথ টিমের ফাইন্যান্স ফোকাল এস এম রাশিদুল ইসলাম, মাসুদ রানা, রবিউল ইসলাম, শামীম হোসেন, নাহিদা সুলতানা, সালাম ও রাজীবসহ অন্যান্যরা।

  • স্বাদে-গন্ধে অনন্য সাতক্ষীরার আম, দেশজুড়ে বাড়ছে চাহিদা

    স্বাদে-গন্ধে অনন্য সাতক্ষীরার আম, দেশজুড়ে বাড়ছে চাহিদা

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা একসময় সুন্দরবন, নদী ও চিংড়ি শিল্পের জন্য বেশি পরিচিত থাকলেও বর্তমানে গাছপাকা সুস্বাদু আমের জন্যও দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে। গ্রীষ্ম মৌসুম এলেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা বিশেষ করে শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, দেবহাটা, তালা, আশাশুনি ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা যায় আমের সমারোহ। ছোট-বড় অসংখ্য বাগানে ঝুলতে থাকে নানা জাতের আম, আর সেই আমকে ঘিরেই শুরু হয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ব্যস্ততা। সাতক্ষীরার আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের কারণে এখানকার আমে পাওয়া যায় আলাদা স্বাদ ও ঘ্রাণ। বিশেষ করে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাস, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও ফজলি জাতের আম স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেক চাষি এখন রাসায়নিক ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে আম উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে নিরাপদ ও গাছপাকা আমের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাগানে চলছে আম সংগ্রহ, বাছাই ও প্যাকেটজাত করার কাজ। মৌসুমি এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে অস্থায়ী কর্মসংস্থানও। অনেক শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষ মৌসুমজুড়ে আম বাগানে কাজ করে অতিরিক্ত আয় করছেন। এছাড়া পরিবহন, প্যাকেজিং ও অনলাইন ডেলিভারি খাতেও বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া এলাকার আম বাগান মালিক হাবিবুর মোড়ল বলেন, “আমরা চেষ্টা করি সম্পূর্ণ গাছপাকা ও নিরাপদ আম ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দিতে। সাতক্ষীরার আমের স্বাদ একবার যারা খায়, তারা প্রতিবছর আবারও অর্ডার করে।” কালিগঞ্জ উপজেলার আমচাষি হাফিজুর রহমান জানান, “এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় আমের ফলনও ভালো হয়েছে। তবে ঝড়-বৃষ্টি না হলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন।” স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক বছর আগেও সাতক্ষীরার আম দেশের বড় বাজারে তেমন পরিচিত ছিল না। কিন্তু বর্তমানে ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা, অনলাইন অর্ডার ও কুরিয়ার সার্ভিস সহজ হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সরাসরি সাতক্ষীরার আমের চাহিদা বাড়ছে। প্রতিদিন ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনায় যাচ্ছে শত শত কেজি গাছপাকা আম। তবে আমচাষিদের দুশ্চিন্তাও কম নয়। বৈরী আবহাওয়া, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি ও তীব্র তাপদাহের কারণে অনেক সময় বাগানে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কথাও জানিয়েছেন তারা। কৃষকদের দাবি, সরকারি সহায়তা ও সহজ ঋণ সুবিধা বাড়ানো হলে আমচাষ আরও সম্প্রসারণ সম্ভব হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সাতক্ষীরায় প্রতিবছর আম চাষের পরিধি বাড়ছে। কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ ফল উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সাতক্ষীরার আমকে একটি স্বতন্ত্র ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে  সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক মানের বিপণন নিশ্চিত করা গেলে খুব শিগগিরই সাতক্ষীরার গাছপাকা আম দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশের বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা শুরু

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা শুরু

    স্টাফ রিপোর্টার: দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হয়েছে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয় পর্যায় থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত ধাপে ধাপে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা) জারি করা এক স্মারকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ এবং কাবিং- এই চারটি বিভাগে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। ক্রীড়া বিভাগে ১০০ মিটার দৌড়, দীর্ঘ লাফ, উচ্চ লাফসহ বিভিন্ন ইভেন্ট রয়েছে। সাংস্কৃতিক বিভাগে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, নৃত্য, গান, গল্প বলা, উপস্থিত বক্তৃতা ও বিতর্কসহ মোট ১১টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে কুইজ প্রতিযোগিতা। সময়সূচি অনুযায়ী, বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করে ১৯ মে’র মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা পাঠাতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ১৯-২০ মে, উপজেলা পর্যায় ২২-২৩ মে, জেলা পর্যায় ৬-৭ জুন এবং বিভাগীয় পর্যায় ৮-৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, শুধুমাত্র তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে এবং ছেলে-মেয়ে পৃথক গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। প্রতিযোগিতার সব ধাপ প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান নীতিমালা-২০২৬ অনুসরণ করে আয়োজন করতে হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ১৯৮৫ সাল থেকে চালু থাকা এ পদক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সৃজনশীল অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

  • সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

    সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

    স্টাফ রিপোর্টার: ‘রুখবো দুর্নীতি, গড়বো দেশ, হবে সোনার বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকালে লেকভিউ কনভেনশন সেন্টারে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, খুলনার আয়োজনে জেলা ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলা। প্রধান অতিথি ছিলেন দুদকের বিভাগীয় পরিচালক মো. ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার উপপরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী, বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আতিকুর রহমান, জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম, উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন ও মো. মহসীন আলী। কর্মশালার শুরুতে অতিথিদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান।

  • নবজীবনে নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইফারি শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ

    নবজীবনে নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইফারি শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ

    শাহ জাহান আলী মিটন: নবজীবন নার্সিং ইনস্টিটিউট ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইফারি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের স্বাগতম উপলক্ষে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৩ মে) সকালে শহরের মুন্সিপাড়াস্ত নবজীবন নার্সিং ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এ নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়। নবজীবন নার্সিং ইনস্টিটিউট এর চেয়ারম্যান তারেকুজ্জামান খান’র সভাপতিত্বে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিস ডা. জয়ন্ত সরকার, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজ সাতক্ষীরার নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ সুরাইয়া ইয়াসমিন, নবজীবন নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ শামসুল আলম খান চৌধুরী, ডা. অরুণ ব্যানার্জি, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজ সাতক্ষীরার নার্সিং ইন্সট্রাক্টর তপতী রানী কুন্ড, ডিস্ট্রিক্ট পাবলিক হেলথ নার্স শিরিন সুলতানা। নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, নার্সিং এর প্রথম কথায় হচ্ছে ‘মানবতার মানব সেবায় মহান ব্রত’। আমরা যেন সবসময় এই কথাটাই ধারণ করি এবং বাস্তবায়ন করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তিনি আরো বলেন, সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্য সেবায় কাজ করে যাচ্ছে নবজীবন নার্সিং ইনস্টিটিউট। দেশের সরকারি স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবায় এই প্রতিষ্ঠান মানসম্মত ভূমিকা রাখবে বলে আমি সার্বিক সফলতা কামনা করি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবজীবন নির্বাহী কমিটির সদস্য অহিদুজ্জামান খান, পাবলিক রিলেশন অফিসার মাতিনুল হামিদসহ নবজীবন নার্সিং ইনস্টিটিউট এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নবজীবন নার্সিং ইনস্টিটিউট এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম ও নার্সিং ইন্সট্রাক্টর সৈয়েদা যাহারা।

  • প্রাণসায়ের খাল রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন

    স্টাফ রিপোর্টার: “প্রাণ সায়ের খালকে আমরা আর ময়লার ভাগাড় হতে দেব না। আজ থেকে কোনো বাসা-বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য এই খালে ফেলতে দেওয়া হবে না।” সাতক্ষীরা শহরকে দূষণমুক্ত ও সবুজ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এভাবেই নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা জানান বক্তারা। রবিবার (০৩ মে) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ‘অ্যাকশন ফর ট্রান্সফরমেশন’ (এ৪টি) প্রকল্পের আওতায় পরিবেশ দূষণ রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের দাবিতে এই যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সমর্থনে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করে সিডো ও সিডিওডব্লিউ সাতক্ষীরা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার দীর্ঘদিনের উদাসীনতায় ঐতিহ্যের প্রাণ সায়ের খাল আজ অস্তিত্ব সংকটে। খালের দুই পাশে অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। বক্তারা অবিলম্বে পরিকল্পিত ডাম্পিং স্পট নির্মাণ এবং খাল থেকে বর্জ্য অপসারণের দাবি জানান। অন্যথায় সাতক্ষীরা পৌরসভার সামনে বিশাল মানববন্ধনসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এই সময় উপস্থিত ছিলেন শফিক উদ দ্দৌলা সাগর, পল্টু বাসার, ফরিদা আক্তার বিউটি, শ্যামল কুমার বিশ্বাস, মো. তহিদুজ্জামান, প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার প্রমুখ। পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানববন্ধন থেকে জানানো হয়, শহরের প্রতিটি পয়েন্টে ডাস্টবিন নিশ্চিত করা এবং যেখানে-সেখানে বর্জ্য স্তূপ করা বন্ধ করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।