এবিএম কাইয়ুম রাজ: উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলায় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে লবণাক্ত পানির প্রভাব, যা স্থানীয় মানুষের জীবনে নীরব দুর্যোগ হিসেবে আঘাত হানছে। নদ-নদী, খাল-বিল থেকে শুরু করে পুকুর এমনকি ভূগর্ভস্থ পানিও দিন দিন লবণাক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানবজীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই হয়ে উঠেছে কঠিন সংগ্রাম। স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুম এলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। এ সময় নদীতে লবণাক্ত পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং তা আশপাশের জলাধার ও মাটির নিচের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অধিকাংশ নলকূপের পানি লবণাক্ত হয়ে যায়। অনেক স্থানে নলকূপ থাকলেও সেই পানি পানযোগ্য নয়। বাধ্য হয়ে মানুষকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামেই একই চিত্র দেখা যায়। কোথাও কোথাও একটি মাত্র মিঠা পানির উৎসের ওপর নির্ভর করে পুরো গ্রাম। ফলে ভোর থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নারী ও শিশুদের। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। কৈখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমাদের এখানে সুপেয় পানির খুব অভাব। প্রতিদিন অনেক দূরে গিয়ে পানি আনতে হয়। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পানি পাই না। তখন বাধ্য হয়ে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হয়। এতে আমাদের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।”এদিকে, অনেক পরিবার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে বছরের কিছু সময় পার করার চেষ্টা করে। কিন্তু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সেই পানি বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই পানির সংকটে ভুগতে হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, চর্মরোগ, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক ও কিডনি জটিলতার মতো নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে এসব রোগের প্রকোপ বেশি। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সচেতন মহল ও গণমাধ্যম কর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে দৈনিক সংগ্রামের উপজেলা সংবাদদাতা হুসাইন বিন আফতাব বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নতুন কিছু নয়, তবে এটি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন খুবই জরুরি।”এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় কিছু গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানি সরবরাহ প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অনেক স্থানে স্থাপিত নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে বা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে লবণাক্ততা ক্রমশ অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রবেশ করছে। এতে করে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টেকসই সমাধানের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ স্থাপন, আধুনিক পানি পরিশোধন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারাৃ। সবমিলিয়ে, শ্যামনগরের মানুষের জন্য সুপেয় পানির সংকট এখন একটি বড় মানবিক ও পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে। এই নীরব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Category: ফিচার
-

উপকূলীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গ্যাদন খেলা হারিয়ে যাচ্ছে
আবু সুফিয়ান, উপকূলীয় অঞ্চল প্রতিনিধি:
উপকূলীয় বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলা গ্যাদন খেলা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামবাংলার শিশু-কিশোরদের আনন্দের অন্যতম উৎস ছিল এই ঐতিহ্যবাহী খেলা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, প্রযুক্তির বিস্তার এবং খেলার মাঠ কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে এর চর্চা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
গ্রামের প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাদন খেলা শুধু বিনোদনের মাধ্যমই ছিল না; এটি ছিল এক ধরনের শারীরিক ব্যায়ামও। নিয়মিত খেলাধুলার কারণে শিশু-কিশোররা শারীরিকভাবে সুস্থ ও সবল থাকত এবং নানা ধরনের রোগবালাই থেকেও অনেকটা দূরে থাকত।
স্থানীয়দের মতে, গ্যাদন খেলাটির ইতিহাস বেশ পুরোনো। গ্রামবাংলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় শিশু-কিশোররা দল বেঁধে এই খেলায় অংশ নিত। খেলাটির মাধ্যমে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে উঠত।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। অনেক এলাকায় খেলার মাঠের অভাব দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি স্মার্টফোন ও আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে শিশু-কিশোররা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কেউ কেউ মোবাইল গেম কিংবা অন্যান্য অনলাইন বিনোদনের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। ফলে গ্যাদন খেলার মতো গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এই পরিবর্তন শুধু একটি খেলার বিলুপ্তিই নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। তাদের মতে, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম, আর সেই খেলাধুলা যদি নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া থেকে শুরু হয়, তবে তা সমাজ ও সংস্কৃতির জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
এ অবস্থায় উপকূলীয় অঞ্চলের তরুণদের প্রতি গ্যাদন খেলা পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় উৎসব, গ্রামীণ মেলা কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গ্যাদন খেলার প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে এই খেলাকে আবারও পরিচিত করে তোলার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হলে গ্যাদন খেলা শুধু একটি গ্রামীণ খেলাই নয়, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আবারও নতুন প্রজন্মের মাঝে স্থান করে নিতে পারবে।
-

প্লাস্টিক-মেটালের দাপটে বিলুপ্তির পথে কাঠের হাতলের ছাতা
খুলনা ব্যুরো: একসময় গ্রামজুড়ে কাঠ কেটে ছাতার বাঁট বা হাতল তৈরির কাজ চলত। সেই ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে। আধুনিক প্লাস্টিক ও মেটালের ছাতার দাপটে কমে গেছে কাঠের বাঁটের চাহিদা। ফলে একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এই শিল্পের কারখানাগুলো। খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার নেহালপুর গ্রামের মিস্ত্রিপাড়ায় এখনও কয়েকটি কারখানা টিকে আছে, তবে সেগুলোও টিকে থাকার লড়াই করছে। ছাতার বাঁট তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন অশোক দাস। প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি এ পেশায় যুক্ত। তিনি বলেন, “বংশপরম্পরায় এই কাজ করছি। আগে কাজ বেশি ছিল, এখন নেই। প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকা আয় হয়, তা দিয়ে কষ্টে সংসার চালাতে হয়।” তিনি জানান, আগে ২৫০-৩০০ শ্রমিক এই পেশায় যুক্ত থাকলেও বর্তমানে সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এখন মাত্র ৩-৪টি কারখানা চালু রয়েছে। মিস্ত্রি মো. ইব্রাহীম শেখ বলেন, কাঠের বাঁটের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেকেই পেশা পরিবর্তন করেছেন। কেউ ভ্যান চালাচ্ছেন, কেউ অন্য কাজ করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী বাপ্পি কুমার দাস বলেন, কাঠের বাঁট দীর্ঘস্থায়ী হলেও আধুনিকতার কারণে এর ব্যবহার কমেছে। প্রতি পিস বাঁট তৈরিতে খরচ হয় ১৬ টাকা, বিক্রি হয় ২০ টাকায়। প্রতিদিন ৫০-৬০ ডজন বাঁট তৈরি করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। তিনি আরও বলেন, সরকারি সহায়তা না থাকায় অনেকেই ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন। স্বল্প সুদে ঋণ পেলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব। কারখানার মালিক পিন্টু দাস বলেন, বিদেশি ছাতার কারণে ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমে গেছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প বিলুপ্তির পথে।
-

সাতক্ষীরায় আমনের বাম্পার ফলন
আবু সাইদ বিশ^াস, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় ২০২৪—২০২৫ মওসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন চাষীরা। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ ভাগের বেশি ধান কাটা শেষ হয়েছে। জলাবদ্ধতা থাকার পরও লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে অতিরিক্ত ধান উৎপাদন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। চলতি মওসুমে আমন ফসলের উৎপাদিত ধানের বাজার মূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় তিন ৫৮ হাজার ৫৫০ লাখ চাষী পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ চাষী পরিবার আমন চাষে যুক্ত। চলতি বছর জেলায় ৭৮ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জন হয়েছে প্রায় ৮৩ হাজার ৪৯৫ হেক্টর। যা গত মৌসুমের তুলনায় ৪২৭ হেক্টর জমি বেশি।
কয়েকদিন পূর্বে ও সাতক্ষীরার মাঠ ছিল সবুজের সমারোহের বেড়াজালে। তারপর হলুদাভাব, স্নিগ্ধ হওয়ায় মন মাতানো উদাসী দোলায় মাঠময় ঝিকিরমিকির এক অন্য প্রকৃতি দেখতে দেখতে সবুজ, আর হলুদাভাবের সেই গোছায় গোছা ধান গাছ পাকা ধানে পরিপূর্ণতা পেয়ে বর্তমানে তা কৃষকের ঘরে যেতে চলেছে। পাকা ধান কাটার শুরু হয়েছে মহাউৎসব, এ দৃশ্য সাতক্ষীরার দিগন্ত বিস্তৃ মাঠে। শস্য ভান্ডার সাতক্ষীরার কৃষকরা তাদের স্বপ্ন সাধ পুরনে ব্যস্ত, অবিরাম, ক্লান্তহীন ভাবে কেটে চলেছে আমন ধান। সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরোদমে চলছে ধানকাটা, গোছানো। মহা ব্যস্ততায় কৃষকরা। কাকডাকা ভোরে আবার কেউ কেউ সকালে গাতার খেয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান কেটেই চলেছে দৃশ্যতঃ সাতক্ষীরার গ্রামীন অর্থনীতিতে আমন ধান নির্ভর অর্থনীতির সুবাতাস বইছে। কৃষক এবং কৃষি কাজের সাথে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ধান কাটা, বাছা, গোছানো এবং মাড়াই করার কাজে নিয়োজিত। উৎপাদনের ঘাটতি নেই, বলা চলে এবার সাতক্ষীরায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে, কিন্তু ধানের দাম কিছুটা কম এমন হতাশা ময় কথা বললেন কৃষক সুলাইমান। তিনি জানান বীজ সার কিছুটা কৃষি দপ্তর হতে বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও শ্রমিক মজুরী সহ অপরাপর খরচ পরবর্তি খুববেশী লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমান সময়ে আমন ধান ওঠা শুরু হওয়ায় ধানের বাজার কিছুটা নিন্মমুখি, কোন কোন এলাকায় বস্তা প্রতি পনেরশত। কৃষকরা ধানের পাশাপাশি বিচুলী বিক্রয়ে অর্থ পাচ্ছে। সাতক্ষীরার বিভিন্ন ধানকাটা মাঠ পরিদর্শনে দেখা গেছে ক্ষেতে মধ্যেই কৃষক আধুনিক পদ্ধতিতে মেশিনের সাহায্যে ধান মাড়াই করে সেখান থেকেই চিক্রি করছে। তবে এমন দৃশ্য খুব কম, অধিকাংশ কৃষক ধান কেটে বাগের সাহায্যে ছাড়াও ভ্যান, ঠেলাগাড়ী সহ বিভিন্ন যানবাহনে বাড়ীতে নিচ্ছে। আমন ধানের সোদা গন্ধে গ্রামের মেঠো পথ হতে শুরু করে কৃষকের বাড়ী পর্যন্ত মৌ মৌ সুসভিত গন্ধে ভরপুর। কৃষকের পাশাপাশি কৃষাণীরাও মহাব্যস্ত সময় অতিক্রম করছে। ধান সিদ্ধ, শুকানো এবং মাড়াই করার জন্য প্রস্তুত করতে কৃষাণীরা গভীর রাতে উঠছে সূর্য উঠতে না উঠতে ধান সিদ্ধ শেষ করে দৌড়ে শুকাচ্ছে। ধান, সিদ্ধ, রৌদ্রে শুকানো, মাড়াই করা সব মিলে গ্রামীন জনপদ এক ধরনের কমংযজ্ঞে চিত্র চিত্রায়িত হচ্ছে। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে তাদের অনেকে মহাজন সহ বিভিন্ন এনজিও হতে ঋন গ্রহন করে ধান চাষে নেমেছে। আমন ধান ঘরে তুলেছে কিন্তু ঘরে থাকার সুযোগ কই? ধান বিক্রি করে ঋন পরিশোধ করছে এবং বাদ বাকি ধান সারা বছরের খোরাকির জন্য রাখতে হচ্ছে। আমন ধানের চালের আটার মেহমানদারী এবং আথিথেয়তা হবে। শীত পড়তে শুরু করেছে। গ্রামীন জনপদে শীতের সময় গুলোতে পিঠা পায়েস তৈরীর ধুম পড়ে এই ধানের উপস্থিতি পিঠা পায়েসের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। সবমিলে কৃষক খুশি, লাভ লোকসান বড় কথা নয়, নতুন ধান উঠেছে তাই সর্বত্র বইছে আনন্দ স্রোত। ধান চাষে লাভবানই হচ্ছে কৃষকরা, তবে আরও বেশী লাভবান হতেন যদি না প্রনোদনা এবং বিনা সুদে কৃষি ধানের ব্যবস্থা করা হতো।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ—পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে, যা গত মৌসুমে ছিল ৭৮ হাজার ৬৮ হেক্টর জমি। তাদের সার্বিক সহযোগীতার কারণে এবার আমনে বাম্পার ফলন পেয়েছে চাষিরা।
-

সন্তানের ছবি হাতে কাঁদছে বাবা-মা
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কাজলদীঘি কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের গমনা পাড়া এলাকার বাসিন্দা সুজন আলী (২৫)। কাজ শেষে গিয়েছিলেন স্ত্রী-সন্তানকে দেখতে শ্বশুরবাড়ি। তবে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরেননি নিজ বাড়িতে। গত দুইমাস ধরে সুজন আলী নিখোঁজ থাকায় দিনমজুর বাবা ও গৃহিণী মায়ের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। সন্তানের ছবি হাতে কাঁদতে কাঁদতে তাদের চোখের পানিও শুকিয়ে গেছে। তাকে ফিরে পেতে দেশবাসীসহ প্রশাসনের কাছে আকুতিও জানিয়েছেন তারা। এদিকে সন্তানকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে গত ১৩ই জুলাই বোদা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন নিখোঁজ সুজন আলীর বাবা রফিজুল ইসলাম। জানা গেছে, নিখোঁজ সুজন পেশায় একজন হোটেল শ্রমিক। তিনি পঞ্চগড় টুনিরহাট বাজারে হোটেল কারিগরের কাজ করতেন। সুজনের বাবা রফিজুল ইসলাম জানান, ছেলের স্ত্রী আকলিমা বাবার বাড়িতে থাকায়, গত পহেলা জুলাই সকালে বাড়ি থেকে কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে হাড়িভাসার মহনবাগান গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে যায়।
বিজ্ঞাপনজানতে পারি সন্তানকে দেখে সেখান থেকে ফিরে এসে বোদা উপজেলার কাজলদীঘি কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের উৎকুড়া বাজার ও টুনিরহাট বাজারের উদ্দেশ্যে যায়। এরপর থেকে তার কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। আমার সন্তানকে ফিরে পেতে সহায়তা করেন। এদিকে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করার পর তাকে খুঁজে পেতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
