গাজী নূরুল আমিন: শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের একাধিক গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের তুলনায় কার্পেটিং (পাকা) সড়কের দিক থেকেও অনেক পিছিয়ে থাকা এ ইউনিয়নে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও কৃষকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, জয়াখালী মহাজেরিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মিজান গাজীর বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ভাঙাচোরা। বড় গর্ত ও উঠে যাওয়া ইটের কারণে বর্ষা মৌসুমে চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এছাড়া জয়াখালী চেয়ারম্যানের মোড় থেকে সাবেক মেম্বারের বাড়ি হয়ে সাতের খেয়াঘাট পর্যন্ত সড়কটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সবচেয়ে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে শেখ আব্দুর রহমান (আবুর) বাড়ি থেকে রাশেদিয়া মাদ্রাসার পাশ দিয়ে হায়দারের ব্রিজ হয়ে বিডিআর সড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি। এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রায় চলাচলের অযোগ্য। স্থানীয়রা জানান, এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা চলাচল করেন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও তরমুজ পরিবহনের জন্য এ রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও যাতায়াতের ভোগান্তি বাড়ছে। এলাকাবাসীর মতে, শ্যামনগর উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে ইতোমধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কার্পেটিং করা হয়েছে, কিন্তু কৈখালী ইউনিয়নে অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক এখনো কাঁচা বা ইটের সোলিং অবস্থায় রয়েছে। তারা আশাবাদী, নির্বাচনের আগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম কৈখালীকে “প্রাণের ইউনিয়ন” উল্লেখ করে অবহেলিত সড়কগুলোর উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম জানান, ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের খারাপ অবস্থার তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার ও কার্পেটিং কাজ শুরু করা হবে। স্থানীয়রা দ্রুত সড়ক সংস্কার ও নতুন কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
