স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার মার্কেট ও বিপণি বিতানগুলো উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। শহরের বিভিন্ন মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণীদের পছন্দের ফারসি ও সারারা ড্রেস ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা উন্মাদনা। নতুন ডিজাইন ও রঙের সমাহারে সাজানো দোকানগুলোতে তরুণীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বিপণিবিতানগুলোতে নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের পদচারণা বাড়ছে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অনেকে। তীব্র গরম উপেক্ষা করেও ক্রেতা ও বিক্রেতারা কেনাকাটায় ব্যস্ত।
রোববার (৮ মার্চ) শহরের আসাদুল চেয়ারম্যান মার্কেটে দেখা গেছে, দোকানজুড়ে সাজানো হয়েছে বাহারি পোশাকের পসরা। তৈরি পোশাকের দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পছন্দের পোশাক কিনতে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। পাশাপাশি কসমেটিকস, জুতা ও ফ্যাশন সামগ্রীর দোকানেও ছিল চোখে পড়ার মতো ব্যস্ততা।
ক্রেতা মারিয়াম শান্তা বলেন, “ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মাকে সঙ্গে নিয়ে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। মার্কেটে অনেক ভিড়, তবে পোশাকের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। তবুও ঈদের আনন্দের জন্য কিনতেই হচ্ছে।”
শহরের ‘নিউ ফ্যাশন কিং’ দোকানের বিক্রেতা সাব্বির আহমেদ জানান, এবারের ঈদে ফারসি ও সারারা ড্রেসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এসব পোশাকের দাম ১,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে। সুতির ড্রেসের দাম ৮০০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো। বিশেষ করে ইফতারের পর ক্রেতাদের সমাগম আরও বেড়ে যায়।”
সাতক্ষীরা জেলা বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জি এম সোহরাব হোসেন জানান, এবারের ঈদকে ঘিরে মার্কেটে ক্রেতার উপস্থিতি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। পাকিস্তানি থ্রি-পিস ও দেশীয় শাড়ির বিক্রিও ভালো হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ তৈরি করেছে ‘ফারসি’ নামের নতুন ডিজাইনের পোশাক।
তিনি আরও বলেন, মার্কেটগুলোতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় রয়েছে। ফলে ক্রেতারা স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারছেন।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সাতক্ষীরার মার্কেটগুলোতে বাড়ছে মানুষের ঢল। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের শেষ সপ্তাহে বেচাকেনা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাদের মতে, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সাতক্ষীরার মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি অনেক বেশি, যা শহরের প্রাণচাঞ্চল্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
