স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সোনাটিকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিয়মিত গরু-ছাগল বেঁধে রাখা, গোবর ও আবর্জনা ফেলা এবং পয়োনিষ্কাশনের উন্মুক্ত ড্রেন তৈরির কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী কমতে কমতে বর্তমানে মাত্র ২৪ জনে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনিক ও পুলিশি হস্তক্ষেপ চেয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর চিঠি দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পরিদর্শন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার একাধিক পরিদর্শন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম নিয়মিত বিদ্যালয়ের সামনে গরু-ছাগল বেঁধে রাখেন। পাশাপাশি মাঠে গোবর, খড়কুটা, গাছের পাতা ও পরিত্যক্ত আসবাবপত্র ফেলে রাখেন। এমনকি তাঁর বাড়ির পয়োনিষ্কাশনের জন্য বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে উন্মুক্ত ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নোংরা হয়ে পড়ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষকরা একাধিকবার নিষেধ করলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও পরিদর্শনের সময় তাঁকে সতর্ক করলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরেজমিনে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার অনেক সচেতন অভিভাবক বিদ্যালয়টিকে ‘গরুর স্কুল’ বলে অভিহিত করেন। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে তাঁরা সন্তানদের ওই বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে আগ্রহী নন। এর প্রভাবেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে বর্তমানে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়সংলগ্ন কয়েকজন বাসিন্দার বাঁশঝাড় বিদ্যালয় ভবন ও শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। শিক্ষকরা বাঁশঝাড় অপসারণের অনুরোধ জানালেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাতে সাড়া দেননি। চিঠিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বিশ্বাস উল্লেখ করেছেন, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশি সহায়তা প্রয়োজন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামসহ অন্যদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
