ঢাকাSunday , 29 March 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. আশাশুনি
  3. ই-পেপার
  4. কলারোয়া
  5. কালিগঞ্জ
  6. কৃষি
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. তালা
  10. দেবহাটা
  11. পরিবেশ ও জলবায়ু
  12. ফিচার
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লবণাক্ত পানির প্রভাব ও সুপেয় পানির সংকট

Kaium Raj
March 29, 2026 12:51 pm
Link Copied!

এবিএম কাইয়ুম রাজ: উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলায় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে লবণাক্ত পানির প্রভাব, যা স্থানীয় মানুষের জীবনে নীরব দুর্যোগ হিসেবে আঘাত হানছে। নদ-নদী, খাল-বিল থেকে শুরু করে পুকুর এমনকি ভূগর্ভস্থ পানিও দিন দিন লবণাক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানবজীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই হয়ে উঠেছে কঠিন সংগ্রাম। স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুম এলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। এ সময় নদীতে লবণাক্ত পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং তা আশপাশের জলাধার ও মাটির নিচের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অধিকাংশ নলকূপের পানি লবণাক্ত হয়ে যায়। অনেক স্থানে নলকূপ থাকলেও সেই পানি পানযোগ্য নয়। বাধ্য হয়ে মানুষকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামেই একই চিত্র দেখা যায়। কোথাও কোথাও একটি মাত্র মিঠা পানির উৎসের ওপর নির্ভর করে পুরো গ্রাম। ফলে ভোর থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নারী ও শিশুদের। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। কৈখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমাদের এখানে সুপেয় পানির খুব অভাব। প্রতিদিন অনেক দূরে গিয়ে পানি আনতে হয়। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পানি পাই না। তখন বাধ্য হয়ে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হয়। এতে আমাদের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।”এদিকে, অনেক পরিবার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে বছরের কিছু সময় পার করার চেষ্টা করে। কিন্তু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সেই পানি বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই পানির সংকটে ভুগতে হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, চর্মরোগ, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক ও কিডনি জটিলতার মতো নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে এসব রোগের প্রকোপ বেশি। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সচেতন মহল ও গণমাধ্যম কর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে দৈনিক সংগ্রামের উপজেলা সংবাদদাতা হুসাইন বিন আফতাব বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নতুন কিছু নয়, তবে এটি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন খুবই জরুরি।”এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় কিছু গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানি সরবরাহ প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অনেক স্থানে স্থাপিত নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে বা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে লবণাক্ততা ক্রমশ অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রবেশ করছে। এতে করে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টেকসই সমাধানের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ স্থাপন, আধুনিক পানি পরিশোধন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারাৃ। সবমিলিয়ে, শ্যামনগরের মানুষের জন্য সুপেয় পানির সংকট এখন একটি বড় মানবিক ও পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে। এই নীরব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।