Author: Kaium Raj

  • লিডার্সের উদ্যোগে শ্যামনগরে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তন ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত।

    লিডার্সের উদ্যোগে শ্যামনগরে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তন ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত।

    আবু সুফিয়ান :

    সাতক্ষীরার শ্যামনগরে লবণাক্ততা, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহনশীল, স্মার্ট ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। লিডার্স এর “ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাট লোকাল লেভেল (কল) ” প্রকল্পের উদ্যোগে শ্যামনগর উপজেলার ১ নং ভুরুলিয়া ইউনিয়নের দেউলিয়া গ্রামে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তন উপলক্ষে এক প্রাণবন্ত, অংশগ্রহণমূলক ও তথ্যসমৃদ্ধ কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জলবায়ু সহনশীল কৃষি, জৈব কৃষি প্রযুক্তি ও সাসটেইনেবল খাদ্য উৎপাদনের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তোলে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃগাজীয়ার রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব মহিউদ্দিন । বিশেষ অতিথি জনাবা, আইরুননেছাদ, নারী উদ্যোক্তা এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ ক্লাইমেট জাস্টিস গ্রুপের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন

    মাঠ দিবসে জলবায়ু সহনশীল, লবণাক্ততা ও খরা সহিঞ্চু কৃষি প্রযুক্তি, স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনা, পানি সাশ্রয়ী চাষাবাদ এবং সাসটেইনেবল কৃষি উন্নয়ন নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কমলা সুন্দরী মিষ্টি আলুর সম্ভাবনা ও পুষ্টিগুণ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান চাষে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কৃষাক মোঃ মশিউর রহমান । তিনি জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেলেও ব্রি-৯৯ জাতের ধান কৃষকদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠছে।

    এসময় বায়োফর্টিফাইড জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-১০২ ধান নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন রেক্সোনা পারভীন । অন্যদিকে সবজি চাষ, জৈব সার ব্যবহার, পারিবারিক পুষ্টি বাগান ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য দেন মাসুদ রানা । বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জৈব কৃষি প্রযুক্তি, পানি সংরক্ষণ, বহুমুখী ফসল চাষ এবং আধুনিক স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা ও খরার ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের লবণসহনশীল ধান, ভুট্টা, সূর্যমুখীসহ বিকল্প ফসল চাষে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি পানি সাশ্রয়ী এডব্লিউডি (AWD) পদ্ধতি, খাল ও পুকুর খনন এবং টেকসই কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।” তিনি কৃষিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে জলবায়ু সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব, মোঃ মহিউদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি-৯৯ ধান কর্তনের উদ্বোধন করেন এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অনুপ কুমার মন্ডল এবং সার্বিক সহোযোগিতা করেন মোঃ,কানিজুর রহমান, সালমা খাতুন কল প্রকল্প, লিডার্স।

    মাঠ দিবসে বিপুল সংখ্যক কৃষক কৃষানীর অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে স্মার্ট, জৈব ও সাসটেইনেবল কৃষি প্রযুক্তির বিস্তারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে আয়োজকরা জানান। কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল GAIN⁠ এবং বাস্তবায়নে ছিল LEDARS⁠।

  • শ্যামনগরে বিশ্ব পানি দিবস পালিত

    শ্যামনগরে বিশ্ব পানি দিবস পালিত

    এবিএম কাইয়ুম রাজ : “পানির প্রবাহ যেখানে, সমতার হাসি সেখানে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে বিশ্ব পানি দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে গাবুরা ইউনিয়নের হরিসখালী ঘাটে রূপান্তর গোফরইমপ্যাক্ট কর্মসূচি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ আয়োজনে র‍্যালি, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগিতা করে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ভয়েস অব সিটিজেন্সের সভাপতি খাইরুল আলম মিলন, হরিসখালী ঘাটের সদস্যবৃন্দ, মোটর শ্রমিক প্রতিনিধি, স্থানীয় যুবসমাজ, নারী নেত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির কর্মীরা। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নদী-নালা ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে পানি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই পানির অপচয় রোধ, নিরাপদ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পানি সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

  • কমিউনিটি তথ্য সংগ্রহে ‘আবির্ভাব’ টিমের মাঠ কার্যক্রম জোরদার

    কমিউনিটি তথ্য সংগ্রহে ‘আবির্ভাব’ টিমের মাঠ কার্যক্রম জোরদার

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর জেলে পাড়ায় দুর্যোগকালীন প্রয়োজন নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ‘আবির্ভাব’ টিম। সোমবার সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে টিমের সদস্যরা সরাসরি স্থানীয় জেলে ও তাদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার প্রভাবসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা, ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে লিপিবদ্ধ করা হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, স্যানিটেশন, নিরাপদ পানির সংকট এবং জরুরি খাদ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের ঘাটতি তাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া নারী ও কিশোরীদের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবও প্রকট আকার ধারণ করে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ‘আবির্ভাব’-এর কো-ফাউন্ডার এস এম জান্নাতুল নাঈমসহ সুজয় চক্রবর্তী, জেবা তাসনিয়া, হাসনা হেনা ও খালিদ হোসেন। তারা জানান, মাঠ পর্যায়ের এই তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি কার্যকর ও প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ‘আবির্ভাব’ টিম জানায়, উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগকালীন সময়ে নারী ও শিশুদের জন্য পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও প্রয়োজনভিত্তিক কিট নিশ্চিত করতে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

  • লবণাক্ত পানির প্রভাব ও সুপেয় পানির সংকট

    লবণাক্ত পানির প্রভাব ও সুপেয় পানির সংকট

    এবিএম কাইয়ুম রাজ: উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলায় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে লবণাক্ত পানির প্রভাব, যা স্থানীয় মানুষের জীবনে নীরব দুর্যোগ হিসেবে আঘাত হানছে। নদ-নদী, খাল-বিল থেকে শুরু করে পুকুর এমনকি ভূগর্ভস্থ পানিও দিন দিন লবণাক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানবজীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই হয়ে উঠেছে কঠিন সংগ্রাম। স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুম এলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। এ সময় নদীতে লবণাক্ত পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং তা আশপাশের জলাধার ও মাটির নিচের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অধিকাংশ নলকূপের পানি লবণাক্ত হয়ে যায়। অনেক স্থানে নলকূপ থাকলেও সেই পানি পানযোগ্য নয়। বাধ্য হয়ে মানুষকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামেই একই চিত্র দেখা যায়। কোথাও কোথাও একটি মাত্র মিঠা পানির উৎসের ওপর নির্ভর করে পুরো গ্রাম। ফলে ভোর থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নারী ও শিশুদের। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। কৈখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমাদের এখানে সুপেয় পানির খুব অভাব। প্রতিদিন অনেক দূরে গিয়ে পানি আনতে হয়। অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পানি পাই না। তখন বাধ্য হয়ে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হয়। এতে আমাদের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।”এদিকে, অনেক পরিবার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে বছরের কিছু সময় পার করার চেষ্টা করে। কিন্তু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সেই পানি বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই পানির সংকটে ভুগতে হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, চর্মরোগ, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক ও কিডনি জটিলতার মতো নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে এসব রোগের প্রকোপ বেশি। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা সচেতন মহল ও গণমাধ্যম কর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে দৈনিক সংগ্রামের উপজেলা সংবাদদাতা হুসাইন বিন আফতাব বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নতুন কিছু নয়, তবে এটি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন খুবই জরুরি।”এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় কিছু গভীর নলকূপ স্থাপন ও পানি সরবরাহ প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অনেক স্থানে স্থাপিত নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে বা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে লবণাক্ততা ক্রমশ অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রবেশ করছে। এতে করে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টেকসই সমাধানের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা, পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ স্থাপন, আধুনিক পানি পরিশোধন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারাৃ। সবমিলিয়ে, শ্যামনগরের মানুষের জন্য সুপেয় পানির সংকট এখন একটি বড় মানবিক ও পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে। এই নীরব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • সুন্দরবন হেয়ার উইগ প্রতিষ্ঠানের মতবিনিময় ও সম্মাননা প্রদান

    সুন্দরবন হেয়ার উইগ প্রতিষ্ঠানের মতবিনিময় ও সম্মাননা প্রদান

    নূরনগর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগরে সুন্দরবন হেয়ার উইগ প্রতিষ্ঠানের সফলতার চার বছর পূর্তি উপলক্ষে কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় নূরনগরের তানভীর কনভেনশন সেন্টারে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের উপস্থিতিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে মো. খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সুশান্ত কুমার মন্ডলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আমিনূর রহমান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দি গ্রানাডা একাডেমি, মানিকগঞ্জের শিক্ষক মো. মহসীন কবির এবং ইউনিয়ন মিডিয়া প্রধান আবু হাসান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. সালাহউদ্দীন, মুহাম্মাদ আল মাসুদ সাঈদী, আব্দুল মালেকসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের গত চার বছরের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং কর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

  • ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলাই কি অপরাধ খামেনি হত্যার প্রতিবাদে শ্যামনগরের নূরনগরে বিক্ষোভ

    ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলাই কি অপরাধ খামেনি হত্যার প্রতিবাদে শ্যামনগরের নূরনগরে বিক্ষোভ

    এবিএম কাইয়ুম রাজ:

    ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী হোসাইনি খামেনি হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগরে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (৬ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে নূরনগর শিয়া মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য ও স্থানীয় মুসল্লিদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় শিয়া মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

    সমাবেশে নূরনগর শিয়া মসজিদের সভাপতি সার্জেন্ট শেখ রওশান আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা সাজিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় আয়াতুল্লাহ খামেনিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ ঘটনায় তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জবাব দাবি করেন এবং বিষয়টি জাতিসংঘের মাধ্যমে তদন্তের আহ্বান জানান।

    তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এমন ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্টদের একদিন জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

    সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন আদর্শ সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শেখ হাবিবুল আলম, গ্রাম ডাক্তার আলহাজ্ব শেখ আইয়ুব আলী, শেখ নেসার আলি, নূরনগর মানবতার কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ আল মামুন, শেখ মহতাব হোসেন, শেখ জুলফিকার আলি, নূর মোহাম্মদ, আমির হোসেন ও আমিনুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

  • উপকূলীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গ্যাদন খেলা হারিয়ে যাচ্ছে

    উপকূলীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গ্যাদন খেলা হারিয়ে যাচ্ছে

    আবু সুফিয়ান, উপকূলীয় অঞ্চল প্রতিনিধি:

    উপকূলীয় বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলা গ্যাদন খেলা এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামবাংলার শিশু-কিশোরদের আনন্দের অন্যতম উৎস ছিল এই ঐতিহ্যবাহী খেলা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, প্রযুক্তির বিস্তার এবং খেলার মাঠ কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে এর চর্চা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

    গ্রামের প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাদন খেলা শুধু বিনোদনের মাধ্যমই ছিল না; এটি ছিল এক ধরনের শারীরিক ব্যায়ামও। নিয়মিত খেলাধুলার কারণে শিশু-কিশোররা শারীরিকভাবে সুস্থ ও সবল থাকত এবং নানা ধরনের রোগবালাই থেকেও অনেকটা দূরে থাকত।

    স্থানীয়দের মতে, গ্যাদন খেলাটির ইতিহাস বেশ পুরোনো। গ্রামবাংলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় শিশু-কিশোররা দল বেঁধে এই খেলায় অংশ নিত। খেলাটির মাধ্যমে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে উঠত।

    তবে বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। অনেক এলাকায় খেলার মাঠের অভাব দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি স্মার্টফোন ও আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে শিশু-কিশোররা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কেউ কেউ মোবাইল গেম কিংবা অন্যান্য অনলাইন বিনোদনের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। ফলে গ্যাদন খেলার মতো গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এই পরিবর্তন শুধু একটি খেলার বিলুপ্তিই নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। তাদের মতে, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম, আর সেই খেলাধুলা যদি নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া থেকে শুরু হয়, তবে তা সমাজ ও সংস্কৃতির জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

    এ অবস্থায় উপকূলীয় অঞ্চলের তরুণদের প্রতি গ্যাদন খেলা পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় উৎসব, গ্রামীণ মেলা কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গ্যাদন খেলার প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে এই খেলাকে আবারও পরিচিত করে তোলার দাবি উঠেছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হলে গ্যাদন খেলা শুধু একটি গ্রামীণ খেলাই নয়, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আবারও নতুন প্রজন্মের মাঝে স্থান করে নিতে পারবে।

  • মুমিন মুসলমানের দায়িত্ব মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা – শ্যামনগরের নূরনগরে যুব সমাবেশ ও ইফতার মাহফিল

    মুমিন মুসলমানের দায়িত্ব মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা – শ্যামনগরের নূরনগরে যুব সমাবেশ ও ইফতার মাহফিল

    নূরনগর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি:

    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইউনিয়ন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে যুব সমাবেশ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেল ৩টায় নূরনগর তানভীর কনভেনশন সেন্টারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

    নূরনগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ডা. আলহাজ্ব মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এবং যুব বিভাগের সভাপতি হাসানুর বান্নার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, মুমিন মুসলমানের দায়িত্ব হলো মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করা। একই সঙ্গে অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে নিজে বিরত থাকা এবং অন্যদেরও বিরত রাখার চেষ্টা করা।

    তিনি আরও বলেন, কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে এবং হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার মাধ্যমে আল্লাহর আজাব থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি সাঈদী হাসান বুলবুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুল হান্নান, সেক্রেটারি আলহাজ্ব লিয়াকত হোসেন বাবু, সহকারী সেক্রেটারি গাজী আশরাফুল আলম, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন, ইউনিয়ন মিডিয়া প্রধান আবু হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

  • বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্দ্যোগে ইফতার মাহফিল

    বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্দ্যোগে ইফতার মাহফিল

    বুড়িগোয়ালিনী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি:

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ০৯ নং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন শাখার আয়োজনে ০৫ মার্চ ( ১৫ ই) রমজান) বৃহস্পতিবার কলবাড়ী বরষা রিসোটে অনুষ্ঠিত হয় ইফতার মাহফিল।

    বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসান রানা

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাশিদুল ইসলাম, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী আব্দুল্লাহ আল মামুন, শ্যামনগর পৌর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত, বু্ড়িগোয়ালিনী ইউ/পি সদস্য মোঃ মোঃ রবিউল ইসলাম

    বক্তব্যে কালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন শাখার সেক্রেটারি জনাব মোঃ মাষ্টার আব্দুল‍্যাহ আল মামুন ইসলামী ছাত্র শিবিরকে সকল কাজে সঠিক সময়ে সাহসীকতার সাথে এগিয়ে যাওঋআর নিদেশনা দেন আরো বলেন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের সার্থে কাজ করতে হবে।

    সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী ফাহাদ বিন আব্দুর রউফ।

  • দোয়ার প্রতিদান, কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রবীণ ব্যক্তির দোরগোড়ায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম

    দোয়ার প্রতিদান, কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রবীণ ব্যক্তির দোরগোড়ায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম

    কৈখালী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি:

    সাতক্ষীরা-৪ আসনের শ্যামনগর উপজেলার মাননীয় এমপি মহোদয় সম্প্রতি ৫নং কৈখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে এক প্রবীণ ব্যক্তির খোঁজখবর নিতে সৌজন্য সাক্ষাতে যান। তিনি বৃদ্ধ ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন, কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া কামনা করেন।

    এ সময় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এমপি মহোদয় বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি এই প্রবীণ ব্যক্তির কাছেই দোয়া নিতে এসেছিলেন। মোনাজাতের মুহূর্তে বৃদ্ধ ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বারবার বলেছিলেন,

    “আপনি প্রথম বিভাগে জয়ী হবেন, ইনশাআল্লাহ।”

    তিনি আরও বলেন, “সাধারণ মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার বিজয়ের মূল শক্তি। আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের আন্তরিক দোয়ায় আমি জয়লাভ করেছি।”

    এ সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। তারা এমপি মহোদয়ের এ মানবিক ও কৃতজ্ঞতাপূর্ণ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়নে তাঁর ধারাবাহিক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।