গাজী নূরুল আমিন, কৈখালী: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় চলতি মৌসুমে ইরি (বোরো) ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে পরিস্থিতি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় কৃষক সোহরাব আলী, আতিয়ার সরদার, মিজানুর রহমান, সিদ্দিক মোড়ল, নজরুল ইসলাম, আব্দুস সামাদ ও ইব্রাহিম তরফদার জানান, কয়েক মাস ধরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে পর্যাপ্ত পানি নেই। এতে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জমির মাটি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে এবং ধানের গাছ হলুদ হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। কৃষকদের ভাষ্য, কৈখালী ইউনিয়নে পাতালের পানিও লবণাক্ত। ফলে সেই পানি দিয়ে সেচ দিলে ধানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেক কৃষক সেচ দিতে পারছেন না, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে সেচ দিলেও ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। এদিকে এই ইউনিয়নে ধানের পাশাপাশি তরমুজ, সরিষা ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়ে থাকে। কৈখালীর তরমুজ দেশের বিভিন্ন জেলা ও শহরে সরবরাহ করা হয় এবং এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরমুজ চাষি মোস্তফা জাহান, আব্দুল আজিজ মোড়ল ও ফজের আলীসহ কয়েকজন কৃষক জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া এবং সেচের পানিতে লবণাক্ততা থাকার কারণে তরমুজসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, এ সময়ে বৃষ্টি হলে ধান ও তরমুজের ফলন ভালো হতো। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক কৃষক পাম্পের মাধ্যমে পানি তুলে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। তবে সেই পানিতেও লবণাক্ততা থাকায় ধান, তরমুজ ও অন্যান্য ফসল ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্রুত বৃষ্টি না হলে শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি কৈখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমির ইরি ধান, তরমুজ, সরিষা ও সবজি চাষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকরা দ্রুত বৃষ্টির আশায় দিন গুনছেন এবং কৃষি বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছেন।
