হাফিজুল ইসলাম: সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা, মাদরা ও হিজলদী বিওপির আভিযানিক দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে এসব পণ্য জব্দ করে। বিজিবি সূত্র জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির পৃথক দুটি আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩ এস-এর ৩ ও ৪ আরবি এলাকা থেকে আনুমানিক ২০০ ও ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন কেড়াগাছি এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়। এ ছাড়া মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩ এস-এর ৯ আরবি এলাকা থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন তেতুলতলা মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় আগরবাতি উদ্ধার করে। অন্যদিকে হিজলদী বিওপির আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৫/৫ এস থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কলারোয়া থানাধীন তালশারি কুলবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ জব্দ করে। সব মিলিয়ে অভিযানে সর্বমোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের চোরাচালানী মালামাল জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, চোরাকারবারীরা শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে এসব মালামাল ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছিল। বিজিবি আরও জানায়, ভারতীয় চোরাচালানী পণ্য দেশে প্রবেশ করলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়। উদ্ধার করা মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, দেশের রাজস্ব সুরক্ষা ও স্থানীয় শিল্প বিকাশে জনস্বার্থে এ ধরনের চোরাচালানবিরোধী অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনগণও বিজিবির এ ধরনের অভিযানের প্রশংসা করে নিয়মিতভাবে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
