ঢাকাSunday , 3 May 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. আশাশুনি
  3. ই-পেপার
  4. কলারোয়া
  5. কালিগঞ্জ
  6. কৃষি
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. জুলাই শহীদ
  10. তালা
  11. দেবহাটা
  12. পরিবেশ ও জলবায়ু
  13. ফিচার
  14. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাতক্ষীরায় হ্রাস পাচ্ছে পাটের আবাদ

news_admin
May 3, 2026 10:47 pm
Link Copied!

আবু সাইদ বিশ্বাস: অধিক তাপমাত্রা, কড়া রোদ্রোজ্জ¦ল ও অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টিসহ লবণাক্তার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে পাট চাষ ঝুঁকিপূণ হয়ে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে জমিতে সাগরের লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশের ফলে লবণাক্ত জমির পরিমাণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। গত তিন বছরে শুধু সাতক্ষীরা জেলাতে পাটের আবাদ হ্রাস পেয়েছে এক হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। এছাড়া নায্য দাম না পেয়ে চাষিরা পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, লবণাক্ততাজনিত কারণে পাট বীজের অংকুরোদগম মারাত্মকভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হয়। এসব কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে পাট চাষ করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেজ্ঞরা বলছে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ১৮ জেলায় পরিকল্পিতভাবে কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা গেলে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনের চিত্র বদলে যাবে। এরই মধ্যে সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে লবণাক্তসহিষ্ণু পাটের চাষ কৃষকদের মাঝে আগ্রহ থাকলেও প্রচারণার অভাবে তা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে না। প্রতি বছর খরিফ-১ মৌসুমে এই বিশাল পরিমাণ জমি পতিত পড়ে থাকে। এই পতিত জমিতেই গত পাঁচ বছর ধরে বিজেআরআই উদ্ভাবিত লবণসহিষ্ণু দেশি পাট-৮ চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে কৃষকরা। পাট বিশেজ্ঞরা বলছে, লবণসহিষ্ণু দেশি পাট-৮ এখন উপকূলীয় অঞ্চলের চাষীদের নতুন স্বপ্ন দেখাতে পারে। এক ফসলী জমিতে এখন দুটি ফসল আবাদ করতে পারবে চাষিরা। ফলে পাট চাষে উপকূলের গুরুত্ব বাড়বে কয়েক গুণ। সরকারি হিসাব মতে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের আয়তন এ দেশের মোট আয়তনের প্রায় ২০% এবং এ অঞ্চলে দেশের প্রায় ৩০% আবাদযোগ্য জমি রয়েছে যার পরিমাণ প্রায় ২৬.৫০ লাখ হেক্টর। উপকূলীয় অঞ্চলে মোট লবণাক্ত জমির পরিমাণ প্রায় ১০.৬০ লাখ হেক্টর। এ পরিস্থিতিতে লবণাক্ততা সমস্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে বিবেচনায় রেখে উপকূলীয় অঞ্চলে পাট চাষ সম্প্রসারণের জন্য বিশেষ কিছু কৌশল অনুসরণ করলে লবণাক্ত অঞ্চলে একদিকে যেমন পাট চাষ সম্প্রসারিত হবে তেমনি ওই অঞ্চলের শস্য নিবিড়তাও বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। গবেষণার রির্পোটে বলছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি জেলার ৬টি উপজেলায় পাটের আঁশ ও বীজ ফসল উৎপাদনের উপর একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে বলা হয় বিভিন্ন এলাকায় পাটের বীজ বপনের সময় পরিবর্তন করে জমিতে লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বেই শুষ্ক মৌসুমে স্বাদু পানি দ্বারা সেচ দিয়ে জমি তৈরি করে যদি বীজ বপন করা যায় তবে বীজের অংকুরোদগম স্বাভাবিক লবণাক্ততা অবস্থার তুলনায় প্রায় ২০% বৃদ্ধি পায় এবং তুলনামূলকভাবে পাটের ভালো ফলন পাওয়া যায়। কারণ দেরিতে বীজ বপন করলে পাট ফসল অধিক মাত্রার লবণাক্ততার ঝুঁকিতে পড়ে ও বীজের অংকুরোদগম মারাত্মকভাবে ক্ষতি” গ্রস্থ হয়। এর ফলে পাটের ফলন প্রায় ৫০% কমে যায়। বাংলাদেশে ১৯৭০-৭১ অর্থবছরে ৯ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়ে ছিল। বিগত ২০২৪-২৫অর্থবছরে দেশে পাটের আবাদের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ২০হাজার হেক্টর জমিতে। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, চলতি মৌসুুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ১১ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ৫০২০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৩ হাজার ২৫৫, তালায় ৩ হাজার ১১০, দেবহাটায় ২০, কালীগঞ্জে ১০১, আশাশুনিতে ৯৫ এবং শ্যামনগর উপজেলায় ৯ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধাণ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৪৩ হাজার হেক্টর কম আবাদ হয়েছে। সূত্রটি আরো জানায়, গত ২০২৩-২৪ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ১২ হাজার ৮২০ হেক্টর। জেলায় এবার দেড় লাখ বেল্ট পাট উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গেল তিন বছরের মধ্যে জেলাতে পাটের আবাদ কমেছে এক হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। এছাড়া ৩ মে পর্যন্ত জেলাতে পাটের আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৫৩৮ হেক্টর জমিতে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে এখনো পাট আবাদ হচ্ছে। বাকি সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে যাবে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নারানজাল গ্রামের পাটচাষী পলাশ হোসেন জানান, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় চলতি মৌসুমে পাট উৎপাদনে খরচ বেশি পড়ছে। গত বছর বিঘাপ্রতি ১৫-১৬ হাজার টাকার মতো খরচ হলেও চলতি বছর ১৯-২০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। সেখানে একই জমির পাট বিক্রি করতে হচ্ছে ১৪-১৫ হাজার টাকা।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, পাট একটি লাভজনক ফসল। নতুন জাতের লবণসহিষ্ণু দেশি পাট-৮ চাষের মধ্য দিয়ে উপকূলের অর্থনীতিতে পাট খাতে একটি বিপ্লব সাধিত হচ্ছে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্রমশ আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত জমিতে অধিক সংখ্যক প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবস আয়োজন ইত্যাদির মাধ্যমে লবণাক্তসহিষ্ণু পাটের চাষাবাদ প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় করে তুলতে কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানিয়েছেন, দেশে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির আলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ পরিকল্পনায় উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত মানসম্পন্ন পাট ও পাটবীজের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি, আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, সামগ্রিকভাবে উল্লিখিত উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান উন্নয়ন, বাজারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং কৃষক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাটখাতকে একটি টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তর করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।