আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরাঃ সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার লবণাক্ত পতিত জমি ও তালার নিম্ন এলাকার জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষে সফলতা এসেছে। ফলে উৎকৃষ্টমানের তেলের চাহিদা পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এতে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক। তালা পাটকেলঘাটার কপোতাক্ষ পাড়ে ভারশার মাঠগুলোতে দূর থেকে দেখলে মনে হবে, বিশাল আকারের হলুদগালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। কাছে গেলে চোখে পড়ে হাজারো সূর্যমুখী ফুল। বাতাসে দোল খেয়ে ফুলগুলো যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। চলতি মৌসুমে জেলাতে ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে যা যে কোন বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার ও বীজে প্রণোদনা দেয়ায় সাধারণ কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২৭ হেক্টর, কলারোয়ায় উপজেলায় ২২ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৬৩ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৭ হেক্টর, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৩৪ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ১৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ৬০ হেক্টর। তবে গেল বছর জেলায় এ ফসলটি চাষ হয়েছিল ১০৯ হেক্টর জমিতে। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলায় সুর্যমুখির আবাদ বেড়েছে ১১৯ হেক্টর পরিমান।
সরুলিয়া ইউনিয়নের ভারশা গ্রামে ও উপজেলার বিভিন্ন সূর্যমুখী চাষ করা জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটে থাকা সূর্যমুখী ফুলের সমাহারে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছিরা ছুটছেন এক ফুল থেকে অন্য ফুলে তাতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের জমি। এটি যেন ফসলি জমি নয়, এ এক দৃষ্টিনন্দন বাগান।
ভারশা গ্রামের সূর্যমুখি চাষি মো: আকবর হোসেন জানান, সূর্যমুখী ফুল চাষের লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়। মূলত ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ চাষ করা হচ্ছে। তাই অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি জানান, সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয়। তেল উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের।
সাতক্ষীরা সদর কৃষি কর্মকর্তা মনির জানান, সূর্যমুখী চাষের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ‘কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে সার, বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে সূর্যমুখীর আবাদ ভালো হলে কৃষিক্ষেত্রে তা নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।’
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, উৎপাদন বাড়াতে চলতি রবি মৌসুমে জেলাতে ৬০০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে জন প্রতি এক কেজি করে টিএসএফ জাতের সুর্যমুখি বীজ দেয়া হয়েছে। সঙ্গে দুই প্রকার ১০+১০=২০ কেজি করে সারও দেয়া হয়েছে এসব কৃষককে। বীজ ও সার মিলে মোট ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এসব সুর্যমুখি চাষীদের।
আবু সাইদ বিশ্বাস
সাতক্ষীরা
১৯/২/২৬
০১৭১২৩৩৩২৯৯
