বিশেষ প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি ত্রাণ ও ফিতরার চাল আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ অপু। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী ত্রাণসামগ্রী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে বিতরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু তা নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে বিতরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তিনি অবশিষ্ট ত্রাণসামগ্রী পুনরায় পরিষদে নিয়ে আসেন। তদন্তকালে ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে ৩ বস্তা ফিতরার চাল (প্রায় ৯০ কেজি) এবং শীতকালীন ৬টি কম্বল পাওয়া যায়। তবে এসব মালামাল জব্দ না করে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের জিম্মায় রেখে যান সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট। ঈদুল ফিতরের ২১ দিন পরও ফিতরার চাল বিতরণ না হওয়া এবং গরমের মধ্যে কম্বল গুদামে পড়ে থাকার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। অভিযান চলাকালে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে পরিষদে পাওয়া যায়নি। পরে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় কক্ষের তালা খুলে মজুদ ত্রাণসামগ্রী দেখা হয়। এ সময় তদন্তের অগ্রগতি ও আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে আপত্তি জানান এবং তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এ ঘটনায় এলাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্পষ্ট অনিয়মের পরও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা বিষয়টির উচ্চতর তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
