আবু সাইদ বিশ্বাস: সাতক্ষীরায় অবৈধভাবে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মজুত এবং বিক্রির অপরাধে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে অবৈধভাবে জ্বালানি পরিবহনের সময় ৭ হাজার লিটার পেট্রোলসহ যমুনা পেট্রোলিয়ামের লোগোযুক্ত একটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চালকসহ চারজন ডিলারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোররাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার গাভা এলাকা থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। আটক চালক মো. রিপন শেখ (৩৮)। তিনি খুলনার খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে গাভা এলাকায় একটি ট্রাক সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ট্রাকটির কাগজপত্র যাচাই করতে চাইলে চালক তা দেখাতে পারেননি। পরে অবৈধভাবে জ্বালানি পরিবহনের অভিযোগে ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয় এবং চালককে আটক করা হয়। জব্দ করা পেট্রোলের উৎস ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান, ৭ হাজার লিটার পেট্রোলসহ জব্দ করা ট্রাকটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আটক চালককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস জানান, যমুনা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছে, ওই পেট্রোল তাদের ওখান থেকে বের হয়নি। এ কারণে পেট্রোলের দাবিদার ওই চারজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সোমবার বিকেলে জব্দ করা ৭ হাজার লিটার পেট্রোলের দাবিদার চার ডিলারকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তারা হলেন- মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম, মেসার্স আলেয়া অয়েল সাপ্লাইয়ের মো. ইউনুস আলী মৃধা, মেসার্স সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের ইউসুফ আলী এবং মেসার্স এম এ জলিল এন্টারপ্রাইজের মো. জলিল। জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, এদিকে বেশী দামে তেল বিক্রির অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত সোমবার দুপুরে শহরের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা সিআরবি’র সহযোগিতায় ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পলাশপোল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে পলাশপোল শাহাজুদ্দিনের পুত্র আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে রক্ষিত ৩০ লিটার পেট্টোল ও অকটেন পাওয়া যায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, এসব পেট্টোল ৩শ থেকে ৫শ টাকা লিটারে বিক্রি করে আসছিলেন। অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ৩০ লিটার তেল জব্দ করা হয়। এছাড়া আনোয়ার হোসেনকে ৫হাজার টাকা জরিমানা এবং ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। মোবাইল কোর্ট অভিযানে পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন খোকনকে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত ও বিক্রির দায়ে আটক করা হয়। পরে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬ অনুযায়ী ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানান, অবৈধ জ্বালানি মজুত ও বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
