স্টাফ রিপোটার: গত কয়েক সপ্তাহে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোর শিশু ওয়ার্ডে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত এক মাসে আক্রান্তের হার গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরাতে এবং ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতে এই প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া এবং পুষ্টিহীনতাই এই সংক্রমণের প্রধান কারণ। প্রধান উপসর্গ ও ঝুঁকি: স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে নিচের লক্ষণগুলোর দিকে নজর দিতে বলেছেন:* তীব্র জ্বর এবং শরীর ম্যাজম্যাজ করা।* নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া।* শরীরে ছোট ছোট লালচে দানার মতো র্যাশ ওঠা।* কাশি এবং শ্বাসকষ্ট।বিশেষজ্ঞের মতামত: “হাম কেবল একটি সাধারণ জ্বর নয়; সঠিক চিকিৎসা না হলে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিস্কের প্রদাহ এমনকি অন্ধত্বের কারণও হতে পারে। আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা জরুরি।” ডা. মাহফুজুর রহমান, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সরকারি পদক্ষেপ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপনার যা করণীয়: ১. আপনার শিশুর টিকার কার্ড চেক করুন এবং হামের (গজ) ডোজ পূর্ণ হয়েছে কিনা নিশ্চিত করুন। ২. আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখুন এবং প্রচুর তরল খাবার ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার দিন। ৩. গুজব এড়িয়ে চলুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করাবেন না।
