ঢাকাSunday , 22 February 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. আশাশুনি
  3. ই-পেপার
  4. কলারোয়া
  5. কালিগঞ্জ
  6. কৃষি
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. তালা
  10. দেবহাটা
  11. পরিবেশ ও জলবায়ু
  12. ফিচার
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. রাজনীতি

মৃত্যুর মুখে ‘আইবুড়ি নদী’: দখলের পায়তারা!

news_admin
February 22, 2026 10:35 pm
Link Copied!

সুলতান শাহাজান: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘আইবুড়ি নদী’ আজ দখল ও নাব্য সংকটে মৃতপ্রায়। প্রভাবশালী দখলদারদের অবৈধ ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ ও নেট-পাটা দিয়ে বাঁধ দেওয়ার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক দখলের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর বিভিন্ন অংশে মাটি ফেলে পাড় সংকুচিত করা হয়েছে। কোথাও টিনশেড ঘর, কোথাও স্থায়ী স্থাপনা গড়ে উঠেছে। নদীর জলভাগে অবৈধ ঘের সম্প্রসারণেরও অভিযোগ রয়েছে। ফলে নদী ক্রমেই সরু খালে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, একসময় আইবুড়ি নদীতে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হতো, প্রচুর মাছ ধরা যেত এবং নৌকাই ছিল যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। নৌকা বাইচের মতো উৎসবও আয়োজন হতো। কিন্তু এখন শুকনো মৌসুমে নদীতে হাঁস চরানোর মতোও পানি থাকে না। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে নদীর প্রবাহ আটকে দেওয়ায় পলি জমে নাব্যতা কমে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি দ্রুত নামতে না পেরে দুই তীর প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। স্থানীয় আব্দুল গফুর বলেন, “অবৈধ দখল আর ভরাটের কারণে নদীটি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন নদী দখল হয়ে সরু হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রশাসন যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়, কয়েক বছরের মধ্যে নদীর অস্তিত্ব থাকবে না।” রহিমা খাতুন অভিযোগ করেন, “নদী দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। আমরা শুধু দেখেই যাচ্ছি নদীটা কীভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।” পরিবেশ সচেতনরা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে নদী ও খাল প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এগুলো দখল ও ভরাট হলে জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও পরিবেশগত ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক বলেন, “আমি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি অবগত হলাম। দ্রুত নদী দখলের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে স্থানীয়রা প্রশ্ন করছেন, তদন্ত ও আশ্বাসের বাইরে বাস্তব পদক্ষেপ কবে দেখা যাবে। এলাকাবাসীর জোর দাবি, সরকারি উদ্যোগে দ্রুত নদী খনন করে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নেট-পাটা অপসারণ এবং নদী খননের মাধ্যমে আইবুড়ি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় শ্যামনগরের এই ঐতিহ্যবাহী নদী অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।