ঢাকাWednesday , 18 February 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. আশাশুনি
  3. ই-পেপার
  4. কলারোয়া
  5. কালিগঞ্জ
  6. কৃষি
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. তালা
  10. দেবহাটা
  11. পরিবেশ ও জলবায়ু
  12. ফিচার
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খাদ্য ও জীবিকার সংকটে শ্যামনগরের ৯৫ শতাংশ মুন্ডা জনগোষ্ঠী

news_admin
February 18, 2026 11:32 pm
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা শ্যামনগরের রমজাননগরের সুন্দরবন সংলগ্ন কালিঞ্চী নদীরপাড়ে বসে ৭৯ বছর বয়সী রনজিত মুন্ডা কাপা কাপা গলায় বলতে থাকেন, “আমাদের আসল বাড়ি রাঁচি। জমিদাররা এনে সুন্দরবন পরিষ্কার করিয়েছিল। তখন বাঙালিরা বলত ‘মুন্ডা পরিচয় দিও না, সরদার পরিচয় দিও।’ এমনি ভাবে আমরা এখানে থেকে গেলাম। এখন লবণাক্ততায় জুংড়া, কচ্ছপ, কুচিয়া, শামুক কিছুই পাওয়া যায় না। ঘরবাড়ি প্রতিবছর ঝড়ে উড়ে যায়।”রনজিত মুন্ডা বলেন, “তাঁর দাদারা সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল কেটে বসতি গড়ার কাজ করতেন। সেই সময়ের শিকড় থেকেই মুন্ডাদের এই অঞ্চলে টিকে থাকার ইতিহাস শুরু।”তার কথার মতোই বদলে গেছে পুরো মুন্ডা সমাজের জীবনচিত্র। সুন্দরবনকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই ছোট সম্প্রদায়টি জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, ঘূর্ণিঝড় ও খাদ্যসংকটের ত্রিমুখী চাপে এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে আটকে গেছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে-জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণে শ্যামনগরের মুন্ডা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবার এখন খাদ্য ও জীবিকার তীব্র সংকটে ভুগছে। গত এক দশকে অন্তত চারটি বড় ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে এই সমাজটি জীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কঠিন রূপান্তরের মুখোমুখি হয়েছে। আইলা, আম্ফান, রেমাল, নার্গিস সিত্রাংসহ প্রতিটি ঘূর্ণিঝড় মুন্ডা গ্রামগুলোকে আগের চেয়ে আরও দুর্বল করেছে। ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে, বাঁধ ভেঙেছে, পানির উৎস নোনা হয়ে গেছে। একই এলাকার দিপালী রাণী মুন্ডা বলেন, “ঘর বানাইলে ঝড় এসে নিয়ে যায়। নোনা পানি ঢুকলে খাবার ফসলও হয় না। তখন নদীতে নামতে হয়-কিন্তু আগে যে জিনিস পাওয়া যেত, এখন তার অর্ধেকও পাই না। নোনা পানির কারণে ধান, পাট, শাকসবজি কমে গেছে; মাঠে কাজও কমে গেছে। ফলে নদী-খাল-বনে নির্ভরতা বেড়েছে, কিন্তু সেখানেও জীববৈচিত্র্য কমে যাওয়ায় আগের মতো কিছু পাওয়া যায় না।” কালিঞ্চী এলাকার সবিতা রাণী মুন্ডা বলেন, “আমাদের প্রধান খাবার ছিল ইঁদুর, শামুক, জুংড়া-এখন আর পাই না। নদীতে গেলে নোনা পানি, জঙ্গলে গেলে নিষেধাজ্ঞা। তাই আমাদেরও বাঙালিদের মতো ডাল-ভর্তা খেতে হচ্ছে।” নোনা পানিতে কাজ, দীর্ঘ সময় হাঁটুকোমর ডুবিয়ে শামুক, জুংড়া সংগ্রহ-এসবের কারণে নারীরা ত্বক ও শারীরিক সমস্যায় বেশি ভোগেন। ঘর ভাঙা, জলাবদ্ধতা ও স্যানিটেশন সংকটেও তাদের জীবন আরও দুর্বিষহ। সাতক্ষীরার সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস)-এর নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের জনগোষ্ঠী পাঁচটি বিষয়ে সমস্যায় পড়ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং ভেষজ চিকিৎসা। কেউ অসুস্থ হলে প্রথমে কবিরাজের মাধ্যমে গাছ-গাছড়ার চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে প্রয়োজন হলে হাসপাতালে বা ক্লিনিকে নেওয়া হয়।” সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সায়েদুর রহমান মৃধা বলেন, “শ্যামনগরের মুন্ডা জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু ঝুঁকি, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় এবং জীবিকার সীমাবদ্ধতার কারণে বহুমুখী বঞ্চনার মধ্যে আছে-এটি সত্য।”