ঢাকাTuesday , 17 February 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. আশাশুনি
  3. ই-পেপার
  4. কলারোয়া
  5. কালিগঞ্জ
  6. কৃষি
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. তালা
  10. দেবহাটা
  11. পরিবেশ ও জলবায়ু
  12. ফিচার
  13. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  14. বিনোদন
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাতক্ষীরায় বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা: লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা

news_admin
February 17, 2026 10:08 pm
Link Copied!

আবু সাইদ বিশ্বাসঃ লবণক্ষতা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, নদী ও জলাধারে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা, গ্রীষ্মকাল না আসার আগেই লোডশেডিং থাকা সত্ত্বেও নানা কারণে সাতক্ষীরার বোরো চাষ লক্ষ্যমাত্রা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা চাষিদের। বর্তমানে বোরো আবাদের ধুম পড়েছে। প্রচণ্ড শীত, কুয়াশা, বীজতলা নষ্ট হওয়াসহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সকাল থেকে দুপুর অবধি ধান লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। প্রায় ৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৯২৩ কৃষক পরিবারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগীতায় চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছে চাষিরা।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর সাতক্ষীরা জেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৮০ হাজার ৫৬৮হেক্টর জমিতে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সদর উপজেলার ২৩ হাজার ২৮৫ হেক্টর, কলারোয়ার ১২ হাজার ৭৮০ হেক্টর, তালার ১৯ হাজার ১৫৫ হেক্টর, দেবহাটার ৬ হাজার ১২৫ হেক্টর, কালিগঞ্জের ৬ হাজার ৯৫৫ হেক্টর, আশাশুনির ৯হাজার ৬৯০ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলার ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে চলতি বোরো মৌসুমে ৩ লাখ ৪১ হাজার৪৪২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৯৭ হাজার ১১৮ মেট্রিক টন, কলারোয়ায় ৫৩ হাজার ৩৭৮মেট্রিক টন, তালায় ৮১ হাজার ৫৫৪ মেট্রিক টন, দেবহাটায় ২৬ হাজার ৭৪১মেট্রিক টন, কালিগঞ্জে ২৮ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন, আশাশুনিতে ৪২ হাজার ৪০১ মেট্রিক টন ও শ্যামনগরে ১১হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকার ঘের থেকে মাছ ধরার পর পানি শুকিয়ে বোরা ধানের আবাদ করছেন কৃষকরা। গেল প্রায় দেড় দশক মিঠাপানি ও সল্প লবণাক্ত পানির মাছের ঘেরে ধানের আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন তারা। একই সাথে উৎপাদন হচ্ছে বাড়তি ধান। বিশেষ করে জলাবদ্ধ এলাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এই চাষ পদ্ধতি। মাছের ঘেরে ধানের ফলন হয় প্রায় দ্বিগুণ। বাড়তি কোন চাষের প্রয়োজন হয় না। সার ও সেচ খরচও অনেক কম। বর্তমানে মাছের চেয়ে ধানের দাম বেশি হওয়ায় ধান আবাদে ভালো লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। এছাড়া মাছের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ঘেরের পাড়ে সবজির আবাদ করছেন তারা।
পানি সেচের সংকট না হলে লোকসান কাটিয়ে ওঠা যাবে উল্লেখ করে শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুতের লোডশেডিং না দেওয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কয়েকজন চাষী। শ্যামনগর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক দিলীপ তরফদার জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে ২৮ ধান লাগিয়েছেন। প্রয়োজনের সময় অর্থাৎ শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট না হলে ভাল ফলন পাওয়া যাবে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার সাতটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলীয় মিঠা পানির ঘেরের উপর বোরো ধান চাষ করা হয়। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ঘেরের মাছ উঠিয়ে সেখানে চলে বোরো ধানের চাষ। জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, কুয়াশায় বোরো ধানের পাতার কোনো ক্ষতি হবে না। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এবারও ছাড়িয়ে যাবে।
আবু সাইদ বিশ্বাস
সাতক্ষীরা
১৭/২/২৬