ডেস্ক রিপোর্ট: গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক মিছিল থেকে পুলিশের একটি গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের তিন সদস্যকে মারধর করা হয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেনÑগোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফুলমিয়া এবং কনস্টেবল শওকত ও জসিম। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবীবুল্লাহ। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘জয় বাংলা’ ও ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’Ñএমন স্লোগান দিয়ে একদল যুবক মিছিল নিয়ে এগোচ্ছেন। মিছিলকারীদের হাতে হকিস্টিক, কাঠসহ বিভিন্ন ধরনের লাঠিসোঁটা ছিল। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, মিছিলের কিছুটা দূরেই পুলিশের একটি টহল গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়ির ভেতরে চালক ছিলেন এবং পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিন পুলিশ সদস্য। কিন্তু একপর্যায়ে মিছিলে থাকা যুবকেরা অতর্কিতভাবে পুলিশের গাড়িটিতে ভাঙচুর শুরু করেন। ওই সময় চালক গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। ভাঙচুরের মুখে চালক গাড়িটি চালিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে যুবকেরা ধাওয়া করে ভাঙচুর চালাতে থাকেন। এ সময় এক পুলিশ সদস্য হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। গাড়িটি কিছুটা দূরে চলে যাওয়ার পর যুবকেরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে চড়াও হন এবং তাদের মারধর করতে থাকেন। ওই সময় আক্রমণকারী যুবকদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে তাদের থামাতে চেষ্টা করতে দেখা গেলেও বাকিরা পুলিশ সদস্যদের পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে গিয়ে গাড়িতে উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ঘটনার বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ টিবিএসকে বলেন, ‘পুলিশের একটি টহল দল শহর থেকে গ্রামের দিকে গিয়েছিল। দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল। তখন চালক গাড়ির ভেতরে এবং তিন পুলিশ সদস্য বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে প্রথমে পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায়।’ পুলিশ সুপার আরও জানান, ‘হামলার মুখে চালক গাড়িটি চালিয়ে কিছুটা সরে গেলে দুই পুলিশ সদস্যকে লাঠি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করা হয়। তবে এতে তারা গুরুতর আহত হননি।’ হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে এসপি বলেন, এ ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। আটককৃতদের মধ্যে কেউ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।