নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভা বৈঠকে পে স্কেলের প্রস্তাব উঠতে পারে। অনুমোদন মিললে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারের ভেতরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতিও রয়েছে। সবকিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা।

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে এই কমিটি নতুন কাঠামোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন।

নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে সচিব কমিটি মূল বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশের মধ্যে রাখার সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মূল বেতন কার্যকর এবং পরবর্তী অর্থবছর থেকে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয়ের প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন কাঠামোর সুবিধা কার্যকর করার ঘোষণা আগেই দেওয়া হলেও তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। নবম বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, তাদের জন্য নতুন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। নিজেদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে যাচ্ছে সরকার।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জনপ্রশাসন-নিট খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বরাদ্দ বেড়েছে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই বাড়তি অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে।

বর্তমান অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। প্রায় ১১ বছর ধরে একই কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতনকাঠামোর দাবি জোরালো হয়। গত ১১ জুন বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মন্ত্রিসভা এ প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পথ খুলবে। তবে চূড়ান্ত বেতনহার, ভাতা ও বাস্তবায়নের সময়সূচি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।