সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য মুহা: ইজ্জতুল্লাহ বলেছেন, “যারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একসময় ক্ষমতা থেকেও ছিটকে পড়ে।”সরকার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “সরকার এবং রাজনৈতিক দল এক নয়। বিএনপি নেতারা মনে করতে পারেন, সরকার মানেই তাঁদের দল। কিন্তু রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রযন্ত্র ও রাজনৈতিক দল কখনো এক হতে পারে না।”তিনি বলেন, যে রাষ্ট্রে দল ও সরকার একাকার হয়ে যায়, সেখানে গণতন্ত্রের পরিবর্তে কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জবরদখল ও জুলুমের পরিবেশ তৈরি হয়। রাষ্ট্র ও সরকারকে একাকার করে ফেলা হলে আওয়ামী লীগের চেয়েও করুণ পরিণতির মুখে পড়তে পারে বর্তমান সরকার—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা আল-আমিন ট্রাস্টের কনফারেন্স রুমে জামায়াতে ইসলামীর জেলা বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এ দেশের মানুষ স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন চেয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। বরং আগের শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতাই দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যারা জন-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন, আজ ক্ষমতায় গিয়ে তারা জনগণকে ভুলে গেছেন। সরকারি বরাদ্দ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে দলীয় ভাবে ভাগ-বাঁটোয়ারা এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনসহ নানা পর্যায়ে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়ে জনগণের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। এভাবে জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলে এবং দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলতে থাকলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবারও সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান সঞ্চালনায় সময় জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির, সহকারী সেক্রেটারি, কর্মপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন উপজেলা জামায়াতের আমির-সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।