ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ পাঁচ আসামিকে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মঙ্গলবার সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
প্রসিকিউটর মইনুল করিম জানান, পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়েও খুঁজে পায়নি। এ কারণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাঁদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তৎপর হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৩ জুলাই শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সমাবেশে জামাল উদ্দিন ও সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন এবং তাঁদের স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল তাঁর লেখায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামালের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনের বিষয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে বৈঠক এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা, নির্দেশনা ও অংশগ্রহণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে সানজিদা আহমেদ তন্বিসহ প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাব ও ইডেন কলেজ এলাকায় গুলিতে কয়েকজন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হত্যা চেষ্টা, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণের মধ্য দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
মামলার আসামি সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আ.ক.ম. জামাল উদ্দিন ও তানভীর হাসান সৈকত বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্য আসামিরা পলাতক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ পাঁচজনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ
জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ পাঁচজনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ




