কলারোয়া প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বলেছেন, সরকার জুলাই চেতনার বাইরে গিয়ে ফ্যাসিবাদী আচরণ করতে চাইছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সাংবিধানিক পদসহ সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও যুবদলের লোকজনকে বসানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ না করার কারণেই সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পথেই হাঁটছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করছে না বলেই গণভোটকে অস্বীকার করছে এবং তা বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। সরকার একের পর এক জুলাই চেতনাবিরোধী পদক্ষেপ নিচ্ছে। সম্প্রতি তারা সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) হস্তক্ষেপ করেছে। সেখানে চায়ের দাওয়াত দিয়ে পিএসসি চেয়ারম্যানসহ অন্য সদস্যদের পদত্যাগের কথা বলা হচ্ছে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দলীয়করণের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আন্দোলনে নেমেছিলেন। সরকার ফ্যাসিবাদী পথে চলতে থাকলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কলারোয়া উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লংমার্চ সফল করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথি আরও উল্লেখ করেন, আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী জামায়াতসহ ১১ দলের লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবিতে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, বিরোধী দল অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে সরকার সেটিকে ‘জুলাইবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে নিজেদের দলীয়করণ ও ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিরোধী দলের ওপর দায় চাপিয়ে তাদের আন্দোলনকে দমনের চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, বিরোধী দলের আন্দোলন উপেক্ষা করে সরকার যে অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পথে এগোচ্ছে, তাতে আওয়ামী লীগকে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের শূরা সদস্য মাওলানা ওমর আলী, কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহজাহান কবিরসহ উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল নেতা-কর্মী।