স্টাফ রিপোর্টার: টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে পর্যটক, জেলে ও বাওয়ালিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। দীর্ঘ বিরতির পর সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি (পাস) পেয়ে উচ্ছ্বসিত উপকূলের বনজীবীরা। তবে প্রথম দিন সকাল থেকেই বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল কম। একই কারণে সুন্দরবনে যাওয়ার যাত্রাও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে চলতি মৌসুমে মাছ ধরা ও ইকোট্যুরিজমের জন্য মোট ২ হাজার ৯৩৮টি বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) নবায়ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৫৯টি পাস ইস্যু করা হয়েছে। এসব পাসের মাধ্যমে চার শতাধিক জেলে-বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন। তিনি জানান, পর্যটকদের জন্য কলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে সকাল থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় প্রথম দিনে পর্যটকদের তেমন আনাগোনা দেখা যায়নি। পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা জেলে ও পর্যটন নৌকার মাঝিরাও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অপেক্ষা করছেন। তিন মাস পর পাস পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে জেলে-বাওয়ালিদের মধ্যে। শ্যামনগরের জেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পাস বন্ধ থাকায় কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। এখন আবার পাস দেওয়া শুরু হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি থাকলেও জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনে যেতে হবে। বনে মাছ ধরেই তাদের সংসার চলে। তবে সুন্দরবনে ফেরার আনন্দের পাশাপাশি জেলে-বাওয়ালিদের মধ্যে জলদস্যু ও বনদস্যুদের নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। এক জেলে বলেন, তিন মাস পর পাস পেয়ে তারা খুশি। কিন্তু সুন্দরবনে দস্যুদের ভয় এখনো রয়েছে। জীবিকার জন্য বনে যাওয়া ছাড়া তাদের কোনো উপায় নেই। জেলেদের অভিযোগ, বিএলসি নবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত খরচের বাইরে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। এতে নিম্নআয়ের জেলে-বাওয়ালিদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পর্যটক নৌকার মাঝি আমিনুর রহমান বলেন, তিন মাস পর পাস পেয়ে তারা আনন্দিত। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নৌকা নিয়ে আপাতত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে সুন্দরবনে প্রবেশ করবেন। পর্যটক ইমরান হোসেন বলেন, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনভূমির সৌন্দর্য উপভোগ করতে তারা এসেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কাছাকাছি এসে আটকে যেতে হয়েছে। বৃষ্টি কমলে আবার যাত্রা করবেন। জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকার সময়ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথভাবে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বর্তমানে ওই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন বিভাগের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। প্রতি বছর মাছের প্রজনন মৌসুম ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের প্রবেশ বন্ধ থাকে। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে আবার খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার। ফলে জীবিকার আশায় উপকূলের হাজারো বনজীবী আবারও বনে ফিরতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্যও উন্মুক্ত হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন।