বিশেষ প্রতিনিধি, কালিগঞ্জ: কালিগঞ্জে দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ ওঠা আরবি শিক্ষক মো. মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে এবার অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই ছাত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযুক্ত মাহবুব আলম উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভি (আরবি) পদে কর্মরত। তার বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার জয়নগর গ্রামে। তিনি হযরত আলী গাজীর ছেলে। কালিগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্ণা চক্রবর্তী জানান, দশম শ্রেণির ছাত্রী আখি মনির বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তা বন্ধ করতে তারা দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ওই ছাত্রীর বাড়ি কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বালিয়াডাংগা গ্রামে যান। তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। পরে বর-কনে সেখান থেকে চলে গেছেন বলে তারা জানতে পারেন। ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করার অভিযোগে মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে জানান মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। এর আগে গত ২৫ আগস্ট শিক্ষার্থীকে নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাহবুব আলমকে নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণের দায়ে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। এদিকে, ওই ছাত্রীকে নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনায় তার বাবা আসাদুজ্জামান কালিগঞ্জ থানায় অপহরণের অভিযোগ করেছিলেন। তবে পরে তিনি অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীকে বিয়ের অভিযোগ এবং প্রশাসনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।