বিগত প্রায় এক বছর যাবৎ সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নেই। নতুন কোন মামলা দায়ের করতে পারছে না বিচারপ্রার্থীরা। ৫ হাজারের অধিক বিচারাধীন মামলার কার্যক্রমও ঝুলে আছে। দুর-দুরন্ত থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক বিচারপ্রার্থী মানুষ আদালতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। সাতক্ষীরা ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক এর মানববন্ধনে এসব তথ্য তুলে ধরে অবিলম্বে শূন্যপদে বিচারক নিয়োগের দাবী জানানো হয়েছে। সাতক্ষীরাপর্যটন গাইড

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০ টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের জয়েন্ট কনভেনার মাধব চন্দ্র দত্ত। বক্তব্য রাখেন নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল, দ্য ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি অ্যাড. মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু, সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. সৌরভ হোসেন এবং নেটওয়ার্কের সদস্য অ্যাড. সাবিনা ইয়াসমিন লিমা প্রমুখ।

মানবন্ধনের বক্তারা আরো বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ছাড়াও সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের ২টি আদালত এবং সিভিল জজের ১টি আদালতে বিচারক নেই। সবমিলিয়ে জেলা জজশীপে ৪টি এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর ৬টি আদালত দীর্ঘ দিন বিচারক শূন্য। বক্তারা বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় ৯৮, ১০০ ধারায় প্রতিকার চাইতে পারছেন না সংশ্লিষ্ঠরা। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় জেলা লিগ্যাল এইডেও দিনের পর দিন বিচারপ্রার্থীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।

বক্তারা আরো বলেন, আদালতে বিচারক না থাকায় মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই শূন্য পদে দ্রুত বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মনিরুদ্দিন। মানববন্ধনে ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সদস্য, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।