॥ আব্দুর রাজ্জাক রানা ॥
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এবং ঐতিহ্যবাহী জনপদ সাতক্ষীরা কেবল ইতিহাস ও সংস্কৃতিতেই সমৃদ্ধ নয়, বরং মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও এর রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। এই অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ, অধিকার এবং উন্নয়নের প্রত্যাশাকে মূলধারায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের অবদান অপরিসীম। এই প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দক্ষিণ বাংলার নির্ভীক মুখপত্র ‘দৈনিক আলোর পরশ’ ২১ বছর সফলভাবে পেরিয়ে ২২তম বর্ষে পদার্পণ করেছে।
দৈনিক আলোর পরশ এর পথচলার দুই দশক ও জনপদের দর্পণ :
যেকোনো মফস্বল বা স্থানীয় পত্রিকার দীর্ঘমেয়াদী পথচলা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। রাজধানী কেন্দ্রিক গণমাধ্যমের ভিড়ে নিয়মিত একটি পত্রিকা প্রকাশ করা এবং তা টিকিয়ে রাখা সাহসিকতার কাজ। ‘দৈনিক আলোর পরশ’ সেই চ্যালেঞ্জিং কাজটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে করে চলেছে। "সত্যের পথে সবার আগে সবসময়" এই স্লোগানকে ধারণ করে পত্রিকাটি সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা, সুপেয় পানির সংকট, লবণাক্ততা, উপকূলীয় বাঁধ ভাঙন এবং কৃষি ও মৎস্য খাতের সম্ভাবনা ও সংকটের কথা পত্রিকাটি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। এর নির্বাহী সম্পাদক অধ্যাপক ওবায়দুলাহ-এর তত্ত্বাবধানে পত্রিকাটি মফস্বল সাংবাদিকতায় এক অনন্য মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন :
২১ বছর পেরিয়ে ২২তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে পত্রিকাটির পক্ষ থেকে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর ২০২৫ (বা বর্তমান বর্ষপঞ্জির আলোকে ৩ নভেম্বর ২০২৬) তারিখে সন্ধ্যা ৬টায় দৈনিক আলোর পরশ অফিসে এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনে স্থানীয় গুণীজন, সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণ দক্ষিণ বাংলার এই গণমাধ্যমটির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।
সাতক্ষীরার সাংবাদিকতার ঐতিহ্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপট:
সাতক্ষীরার সাংবাদিকতার ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। মূলধারার পাশাপাশি এ অঞ্চলের সাংবাদিকরা পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। উপকূলীয় এলাকার নানাবিধ প্রতিকূলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের চাপ মোকাবিলা করে সত্য প্রকাশ করা সহজ নয়। তা সত্ত্বেও সাতক্ষীরার সাংবাদিকরা সবসময় সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। স্থানীয় সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সুন্দরবন, সাতক্ষীরার বিখ্যাত আম ও চিংড়ি শিল্পের সম্ভাবনা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এখানকার সংবাদকর্মীদের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই।
একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার। দীর্ঘ ২১ বছরের পথপরিক্রমা পেরিয়ে ২২তম বর্ষে পদার্পণ করায় ‘দৈনিক আলোর পরশ’ প্রমাণ করেছে যে বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতাই জনকল্যাণের মূল চাবিকাঠি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভলগ্নে আমরা পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি এবং সেই সাথে সাতক্ষীরার সকল সংবাদকর্মীর পেশাদার ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। ভবিষ্যতেও এই পত্রিকাটি দক্ষিণ বাংলার মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের পক্ষে নির্ভীকভাবে কাজ চালিয়ে যাবে—এটাই সকলের প্রত্যাশা।#
লেখক:
সাধারণ সম্পাদক
মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা




