ডেস্ক রিপোর্ট: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের বাঁশাখালী নদীর তীরে চালু হয়েছে ভাসমান হাসপাতাল। সৌদি অনুদানে এবং বাংলাদেশ সরকারের পরিচালনায় তিন মাসব্যাপী এ কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে হাসপাতালটির কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডা. সায়েম, অ্যাডমিন শাহ আলম, প্রজেক্ট ম্যানেজার ফিরোজ আক্তার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা বুলবুল হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি মো. আলতাফ হোসেন, গড়ইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম কেরু, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. কামরুল ইসলাম এবং জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উদ্বোধনের পরপরই হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী তিন মাস হাসপাতালটি বাঁশাখালী নদীতে অবস্থান করবে। এ সময় এলাকার দরিদ্র ও প্রান্তিক রোগীদের বিনা মূল্যে অথবা নামমাত্র খরচে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।

হাসপাতালটিতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নদীবেষ্টিত ও দুর্গম হওয়ায় গড়ইখালীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা গ্রহণ দীর্ঘদিন ধরে কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে বর্ষাকালে ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় উপজেলা বা শহরের হাসপাতালে পৌঁছাতে তাঁদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। ভাসমান হাসপাতালটি নদীর তীরে নোঙর করায় স্থানীয় বাসিন্দারা সহজেই হেঁটে বা নৌকায় সেখানে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তিন মাসের এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ করে নারী, শিশু ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতেও হাসপাতালটি ভূমিকা রাখবে।

সম্পাদনা নোট: মূল লেখায় চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে নাকি নামমাত্র খরচে দেওয়া হবে—দুই ধরনের তথ্য রয়েছে। তাই প্রতিবেদনে উভয় সম্ভাবনাই রাখা হয়েছে। হাসপাতাল পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।