ডেস্ক রিপোর্ট: সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ খুলনায় পৌঁছানোর আগেই নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও পথসভাস্থলে ব্যাপক জনসমাগম দেখা গেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) লংমার্চকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমবেত হন বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ। দীর্ঘ গাড়িবহর ও মানুষের উপস্থিতিতে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ লংমার্চের আয়োজন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া লংমার্চের গাড়িবহর পদ্মা সেতু, ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটের কাটাখালী হয়ে খুলনায় প্রবেশ করে।
খুলনা মহানগরীর শিববাড়ী মোড়ের বাবরী চত্বরে নির্ধারিত পথসভাস্থলে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মিছিল নিয়ে সমবেত হতে থাকেন। একপর্যায়ে পুরো এলাকা জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে। স্লোগানে মুখরিত হয় আশপাশের সড়ক। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন ফেস্টুন, ব্যানার ও জাতীয় পতাকা।
লংমার্চে প্রধান অতিথি হিসেবে রয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারাও কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
পথসভায় বক্তারা বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এ লংমার্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁরা সরকারের প্রতি অবিলম্বে সাত দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুলনা অঞ্চলে লংমার্চ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য ১৭টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি কমানো ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁরা কাজ করছেন।
বাবরী চত্বরের পথসভা শেষে ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে আরেকটি পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে লংমার্চটি যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে। কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।




