ডেস্ক রিপোর্ট: জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সরকারি খাসজমিতে স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করার দাবিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সাতক্ষীরায় গঠিত হয়েছে ‘জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন ফোরাম’। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর খাদ্য ও পুষ্টির অধিকার নিশ্চিত করতে দক্ষতা উন্নয়ন, শোভন আয়, কর্মসংস্থান এবং সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানিয়েছে নবগঠিত এ ফোরাম।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সাতক্ষীরার মোজাফফর গার্ডেন অ্যান্ড রিসোর্টের স্বর্ণলতা ক্যানটিন হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দফা দাবিসংবলিত ‘জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন ঘোষণাপত্র’ উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোরামের সদস্যসচিব সোনিয়া খাতুন। সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি ফাতেমা বেগম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠন ‘স্বদেশ’-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্ত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় দুর্যোগ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা গওহার নঈম ওয়ারা, পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড নেটওয়ার্কের (প্রান) প্রধান নির্বাহী নুরুল আলম মশাররফ, সিইপিআরের প্রধান নির্বাহী গোরাঙ্গ নন্দীসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, অধিকারকর্মী ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সদস্যরা।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়ে বহু পরিবার সাতক্ষীরা শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪৭টি অনানুষ্ঠানিক বসতিতে আনুমানিক ৭ হাজার ৫৭৩টি বাস্তুচ্যুত পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—সরকারি খাসজমিতে স্থায়ী আবাসন ও আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখা; নারী, পুরুষ ও তরুণদের জন্য শ্রমবাজার উপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন, সহজ শর্তে ঋণ এবং শোভন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি; জরুরি খাদ্যসহায়তা, ন্যায্যমূল্যে খাদ্য সরবরাহ ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তি।

এ ছাড়া শিশু ও মাতৃত্বকালীন পুষ্টিসেবা, নিরাপদ খাবার পানি ও উন্নত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা; জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার নিবন্ধন, শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা ও ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ প্রদান; নগর ও জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং তথ্যভিত্তিক বাজেট প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়।

ফোরামের সভাপতি ফাতেমা বেগম বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সর্বস্ব হারিয়ে আজ আমরা নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে শহরের বসতিতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছি। আমরা কেবল কোনো ত্রাণ চাই না; নাগরিক হিসেবে নিরাপদ আবাসন, শোভন জীবিকা এবং খাদ্য-পুষ্টি আমাদের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার আদায়ে ফোরাম সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে।”

সদস্যসচিব সোনিয়া খাতুন বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪৭টি বসতিতে সাড়ে সাত হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত পরিবার সংকটের মধ্যে বসবাস করছে। তাঁদের ১১ দফা দাবির মধ্যে খাসজমিতে স্থায়ী আবাসন, উচ্ছেদ বন্ধ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়গুলো রয়েছে। এসব দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার ঘোষিত ‘অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্র ২০২১’ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার কথা জানান তিনি।