আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে লড়াই করছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তবে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন, শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক অসন্তোষ তাঁর রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে এবার তরুণদের কাছে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছেন তিনি।
ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর প্রপৌত্র এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নাতি রাহুল। তাঁর বাবা রাজীব গান্ধীও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে দীর্ঘদিন ধরেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। তবে ৫৬ বছর বয়সে এসে মোদির নেতৃত্বকেন্দ্রিক রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে নতুন করে নিজের রাজনৈতিক পরিসর তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি।
রাহুলের বক্তব্য, ভারতের নাগরিকদের অধিকার ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষা বাতিল এবং পরবর্তী ছাত্র আন্দোলনের সময় তাঁর এ বক্তব্য গুরুত্ব পায়। ওই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাও সামনে আসে। এর কয়েক সপ্তাহ পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাহুলের সমালোচনাও নতুন করে আলোচনায় আসে।
লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নীরজা চৌধুরীর মতে, সরকারের প্রতি মানুষের অসন্তোষ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনার অভাব রাহুলের বক্তব্যকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কারণে রাহুল এখন কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। তবে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তিনি কংগ্রেসকে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ের পথে নিতে পারবেন কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। এর মধ্য দিয়ে বিজেপির দীর্ঘদিনের ক্ষমতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক পথচলা সহজ ছিল না। এক দশকের বেশি সময় ধরে তাঁর দল কংগ্রেস নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির কাছে একের পর এক নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। একসময় তাঁর বাবা রাজীব গান্ধীর দখলে থাকা আসনেও পরাজয়ের মুখে পড়েন রাহুল। তাঁর মা সোনিয়া গান্ধীও দীর্ঘদিন কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি বদলাতে দেশজুড়ে দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেন রাহুল। ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ নামের ওই কর্মসূচিতে তিনি প্রায় ২ হাজার ৫০০ মাইল পথ পাড়ি দেন। ১৩৬ দিন ধরে চলা এ যাত্রার অন্যতম লক্ষ্য ছিল অভিজাত ও সাধার
ভারতে রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি এবার সুদিনের অপেক্ষায়
ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে লড়াই করছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী




