ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আজ নির্ধারিত হতে যাচ্ছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নীতিগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। নির্বাহী ক্ষমতা তাঁর হাতে থাকলেও আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কংগ্রেসের সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর তদন্ত ও নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে। অন্যদিকে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ অনুমোদন আরও কঠিন হবে।

তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেই প্রেসিডেন্টের পদ বা নির্বাহী ক্ষমতা হারাবেন না ট্রাম্প। বরং আগামী দুই বছর বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করে তাঁকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ফলে এবারের নির্বাচন কংগ্রেসের আসনসংখ্যার লড়াইয়ের পাশাপাশি ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনের কর্মসূচির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ২১৮টি আসন। বিভিন্ন জনমত জরিপের পূর্বাভাসে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ২৩৭ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও রিপাবলিকানদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার কথা উঠে এসেছে জরিপ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে।

তবে ডেমোক্র্যাটদের জন্য পরিস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন। নির্বাচনের আগের এক মাসে যারা ভোটের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন, তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থন ৯ শতাংশ পয়েন্ট বেশি বলে একটি জরিপে উঠে এসেছে। ফলে শেষ মুহূর্তের ভোটের হিসাব নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনেও দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র উঠে এসেছে জরিপে। ডেমোক্র্যাটিক দলের স্টেট আইনপ্রণেতা জেমস টালারিকো রিপাবলিকান প্রার্থী ও স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের চেয়ে সাত শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে টালারিকোর সমর্থন ৫০ শতাংশ এবং প্যাক্সটনের ৪৩ শতাংশ। জরিপে প্যাক্সটনের ভাবমর্যাদা নেতিবাচক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মেইন অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন এগিয়ে রয়েছেন বলে জরিপে দেখা গেছে। নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের সর্বশেষ রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স এবার ডেমোক্র্যাটিক দলের সাবেক স্টেট সিনেটর জ্যাকসনের মুখোমুখি হয়েছেন। সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে জ্যাকসনের সমর্থন ৫১ শতাংশ, আর কলিন্সের ৪৫ শতাংশ।

তবে মেইনের নির্বাচনী ইতিহাসে জরিপের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলের অমিলের নজির রয়েছে। ছয় বছর আগে নির্বাচনের আগে প্রকাশিত প্রায় সব জনমত জরিপে কলিন্সকে পিছিয়ে থাকতে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই এবারের জরিপের ফলকেও চূড়ান্ত নির্বাচনী চিত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

মেইন ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থীদের প্রতি ভোটারদের ইতিবাচক মনোভাবের কথা উঠে এসেছে জরিপে। অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ভাবমর্যাদা নির্বাচনী প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

এদিকে, মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সাইয়েদ নির্বাচনের আগের দিন প্রকাশিত জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে তাঁর প্রচারণায় রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এল সাইয়েদের কাছে পরাজিত সাবেক কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স ১ নভেম্বর রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। এ ঘটনায় মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।

২ নভেম্বর ইস্টার্ন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নির্বাচনী সমাবেশে এল সাইয়েদ সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর সঙ্গে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। এল সাইয়েদের প্রচারণা শিবিরের দাবি, স্টিভেন্সের সমর্থন প্রত্যাহারের পর এক দিনেই তাঁর নির্বাচনী তহবিলে ২৪ লাখ ডলার জমা পড়েছে।

সর্বশেষ প্রকাশিত কয়েকটি জরিপে এল সাইয়েদের সমর্থন ৪৯ থেকে ৫১ শতাংশের মধ্যে এবং রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সমর্থন ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশের মধ্যে ছিল। স্টিভেন্সের অবস্থান পরিবর্তন ডেমোক্র্যাটদের ভোটের ঐক্যে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

মিশিগানে ইতোমধ্যে ২৩ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ফলে মঙ্গলবারের চূড়ান্ত ভোটে অবশিষ্ট ভোটারদের অংশগ্রহণ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের সমর্থন ও কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে আগামী দুই বছর প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে।