Category: শ্যামনগর

  • দুই মাস পর সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু

    দুই মাস পর সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শুরু

    শ্যামনগর প্রতিনিধি: কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুমের কারণে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবারও কাঁকড়া আহরণ শুরু হয়েছে। বন বিভাগের অনুমতিপত্র পাওয়ার পর রবিবার (১ মার্চ) থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলের জেলেরা নৌকা নিয়ে কাঁকড়া ধরার কাজে নেমেছেন। এই নতুন মৌসুমে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞার সময়কাল প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই সময়ে অনেক জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে; কেউ বিকল্প পেশায় যুক্ত হয়েছেন, কেউ ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছেন। নতুন মৌসুম শুরু হওয়ায় আবার কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সুন্দরবন সংলগ্ন হরিনগর জেলেপাড়ায় দেখা গেছে, জেলেরা চুনকুড়ি নদীর পাড় থেকে নৌকায় কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম তোলার কাজ করছেন। নৌকার সামনের অংশে বাজার-সদাই রাখা, দোন-দড়ি মেরামত এবং নৌকার ছোটখাটো ত্রুটি সারানোর কাজ চলছে। কাঁকড়া ধরা জেলে অরুন মন্ডল বলেন, “সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরেই আমাদের পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। বিগত দুই মাস কাঁকড়া ধরা বন্ধ থাকায় ২০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে, এখন নতুন মৌসুমে তা পরিশোধের আশা।” অন্য জেলে নিত্যরঞ্জন মন্ডল বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় দরিদ্র জেলেদের চরম দুর্দিন গেছে। সরকারি কোনো ভাতার ব্যবস্থা না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে। কাঁকড়া ধরা আবার শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।” পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, বুড়িগোয়ালিনী, কদমতলা, কৈখালী ও কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের আওতায় মোট ২,৯০০ নৌকার অনুমতিপত্র রয়েছে। এর মধ্যে কাঁকড়া ধরা নৌকা ১,৬০০টি। এই এলাকায় কিছু অংশ অভয়ারণ্য ঘোষিত থাকায় সেখানে কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ। বৈধ পাস-পারমিটধারী প্রায় ১৫,০০০ জেলে কাঁকড়া আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ মসিউর রহমান জানান, “১ মার্চ থেকে অনুমতিপত্রধারীরা অভয়াশ্রম ছাড়া অন্য নদী ও খালে কাঁকড়া আহরণ করতে পারবেন। তবে কেউ বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে বনরক্ষীদের টহল জোরদার থাকবে। এছাড়া ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলারে কাঁকড়া পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।”

  • ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রকল্পে নেই শ্যামনগর

    ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রকল্পে নেই শ্যামনগর

    শ্যামনগর প্রতিনিধি: সরকার ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলট প্রকল্প দেশের ১৪টি উপজেলা ও থানায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে। তবে সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ জেলার কোনো উপজেলাই আপাতত এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ঘোষণায় ইউএনও জানান, ভবিষ্যতে প্রকল্পটি দেশের সব উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হলে শ্যামনগরেও এ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। কিন্তু বর্তমানে শ্যামনগরে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম বা তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ নিয়ে কেউ যেন গুজবে কান না দেন এবং সরকারি ঘোষণা ছাড়া কাউকে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ প্রদান না করেন। কোনো প্রকার নিবন্ধন, ফরম পূরণ বা আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে অনুরোধ জানান। ঘোষণায় সতর্ক করে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ডের নামে কারও বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন বা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্প-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য সরকারি মাধ্যমেই জানানো হবে। তাই বিভ্রান্তি এড়াতে সবাইকে সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • পদ্মপুকুরে অবৈধ বালু উত্তোলন

    পদ্মপুকুরে অবৈধ বালু উত্তোলন

    শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের খুটিকাটা ও চাউলখোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থান থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হলেও প্রশাসনের তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বরং স্থানীয় ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাউলখোলা এলাকার অনিল বাবুর প্রায় এক বিঘা জমি ভরাটের জন্য একই এলাকার আব্দুর রহমানের ঘের থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফুটপ্রতি ৬ টাকা চুক্তিতে পার্শ্ববর্তী আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের দিকলারাইট গ্রামের সেকেন্দার হোসেন এ কাজ করছেন। এলাকার কিছুটা সামনে ৪৫ নম্বর খুটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলসংলগ্ন খুটিকাটা গ্রামের রফিকুল ইসলামের মৎস্যঘের থেকেও একইভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফুটপ্রতি ৫ টাকা চুক্তিতে এ কাজ করছেন আশাশুনি উপজেলার কালিমাখালী এলাকার শামিম হোসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলেও স্থানীয় ভূমি অফিস এ বিষয়ে কার্যত নির্বিকার রয়েছে। গ্রামবাসী মফিজুল হোসাইন বলেন, “পদ্মপুকুর ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর মাধ্যমে ফুটপ্রতি ১ টাকা করে নায়েবকে দিয়ে বালু তোলা হয়।” স্থানীয়দের মতে, এভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে এবং ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, এতে ভূমিকম্পের সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে বেসরকারি সংস্থা লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল বলেন, মাটির নিচ থেকে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করলে বালুর স্তর ফাঁকা হয়ে যায়। এতে ভূমিধসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে ফুটপ্রতি মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পদ্মপুকুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এ টি এম আয়নুল হক। তিনি বলেন, “ওখানে কাজ চলছে—এ বিষয়ে আমি অবগত নই।” স্থানীয়রা বিষয়টি তাঁকে একাধিকবার জানিয়েছে- এমন তথ্য জানানো হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদ হোসাইন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে উপজেলা অফিসে ডেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

  • শ্যামনগরে তিন ভাটা মালিককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

    শ্যামনগরে তিন ভাটা মালিককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

    নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে জমি থেকে মাটি উত্তোলন করায় তিনটি ভাটা মালিককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট- এর নেতৃত্বে ইট ভাটায় অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই জরিমানা করা হয়। জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার রামজীবনপুর এলাকার মেসার্স আশা ব্রিকস, নাটুয়ারবে-এলাকার মেসার্স মোস্তফা ব্রিকস ও ইসমাইলপুর এলাকার মেসার্স এবি ব্রিকস এর মালিকগণ তাদের ভাটায় ইট বানানোর জন্য পার্শ্ববর্তী জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে আসছিলো। বিষয়টি জানতে পেরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাভিল হোসেন তামীম উল্লিখিত তিনটি ভাটায় পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০” এর ৭(ক) এবং ১৫ (১) ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মেসার্স মোস্তফা ব্রিকস ও মেসার্স আশা ব্রিকস এর মালিকের প্রত্যেককে ৪ লাখ করে মোট ৮ লাখ ও মেসার্স এবি ব্রিকস এর মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। ইট ভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাভিল হোসেন তামীমের সাথে পরিবেশ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
    পরিবেশ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে। এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তির অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পার্কিং-এর নির্ধারিত স্থানের বাইরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং করে জনদূভোগ সৃষ্টির জন্য ৩ জন চালককে এবং রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে মেডিকেল টেস্ট করতে যেতে বলায় এক জন দালালকে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় জরিমানা করা হয়।

  • বৃত্তি পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য পেয়ে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নওয়াবেকী মাদ্রাসা 

    বৃত্তি পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য পেয়ে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নওয়াবেকী মাদ্রাসা 

    অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, শ্যামনগর ‌

    শ্যামনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নওয়াবেঁকী বিড়ালাক্ষী কাদেরিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা চলতি বছরের বৃত্তি পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য অর্জন করে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করেছে। দাখিল অষ্টম শ্রেণি থেকে অংশগ্রহণকারী ১০ জন শিক্ষার্থীর সবাই বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৩ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৭ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

    এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অঙ্গসংগঠন এন বি প্রি-ক্যাডেট একাডেমি-এর পঞ্চম শ্রেণি থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের মধ্যে ৬ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৮ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

    প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত ক্লাস মনিটরিং, মডেল টেস্ট ও বিশেষ কোচিং ব্যবস্থার ফলেই এ কৃতিত্ব অর্জন সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও নিবিড় তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি অভিভাবকদের সক্রিয় সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    উল্লেখযোগ্য এ সাফল্যে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

    প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং এন বি প্রি-ক্যাডেট একাডেমির পরিচালক পৃথক বার্তায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এই সাফল্য শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, এটি সমগ্র প্রতিষ্ঠানের গৌরব। শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।”

    প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখে আরও বড় সাফল্য অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।

  • অস্তিত্ব সংকটে আইবুড়ি নদী পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন

    অস্তিত্ব সংকটে আইবুড়ি নদী পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন

    শ্যামনগর প্রতিনিধি: নাব্যতা হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আইবুড়ি নদী। এতে প্রায় ২০ হাজার বিঘা কৃষিজমি এবং নদীতীরবর্তী অন্তত ৭০০ পরিবারের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পুনঃখননের দাবিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) শ্যামনগরের ধুমঘাট হাটখোলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি এম. জিল্লুর রহমান। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি ডা. যোগেশ মন্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য বীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, প্রজন্ম রক্তদান সংস্থার সভাপতি আহমেদ রাজু, এসডি মিলন সংঘের শরীফ হোসেন, জেলেখালি ভাই ভাই সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাধন কুমার পরমাণ্য, শাপলা নারী উন্নয়ন সংগঠনের অল্পনা রানী মিস্ত্রি, সাইমুম যুব সংঘের সুমন হোসেন ও মধুদ্যুতি মন্ডল। এসময় সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. বিলাল হোসেন সংহতি প্রকাশ করেন। বক্তারা বলেন, নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে বাঁধ দেওয়ায় স্বাভাবিক স্রোত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে গেছে এবং পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে দুই তীরবর্তী গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। তারা আরও জানান, কৃষিপ্রধান মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম জেলেখালী ও কচুখালী গ্রামের প্রায় ৬ হাজার বিঘা এবং ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট ও দক্ষিণ শ্রীফলকাটি এলাকার প্রায় ১৪ হাজার বিঘা জমিতে ধান, সবজি ও চিংড়ি চাষ হয়। এসব এলাকার কৃষি ও জীবিকার প্রধান ভরসা ছিল আইবুড়ি নদী। বক্তারা বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষি অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
    মানববন্ধন থেকে বক্তারা সরকারি উদ্যোগে আইবুড়ি নদী পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি, জীবিকা ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

  • শ্যামনগরে সাংবাদিক কর্মশালা ও ইফতার মাহফিল

    শ্যামনগরে সাংবাদিক কর্মশালা ও ইফতার মাহফিল

    শ্যামনগর ব্যুরো: শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের আয়োজনে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শ্যামনগর সরকারি মহসিন কলেজ অডিটোরিয়ামে সাংবাদিক কর্মশালা ও গণমাধ্যম কর্মীদের সম্মানে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের কলাকৌশল, বস্তুনিষ্ঠতা, তথ্য যাচাই এবং মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বশীল রিপোর্টিং নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার শ্যামনগর উপজেলা সংবাদদাতা প্রভাষক হুসাইন বিন আফতাব, যিনি বলেন, “গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ, সাংবাদিকদের উচিত সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে জনস্বার্থে কাজ করা।” দ্বিতীয় পর্বে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমান, তিনি বলেন, “উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বস্তুনিষ্ঠ ও গঠনমূলক সমালোচনা দ্বারা সাংবাদিকরা উন্নয়নের সহযাত্রী হোন।” অনুষ্ঠানে উপকূল রক্ষা, শিক্ষা উন্নয়ন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রসঙ্গে গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়াও উপজেলা জামায়াত ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ইফতার মাহফিল শেষ হয় দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়ার মাধ্যমে।

  • ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ

    ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ

    হুসাইন বিন আফতাব: শ্যামনগরে নির্মাণাধীন সড়কের মধ্যভাগে থাকা বিদ্যুতের একটি খুঁটি অপসারণ করা হয়েছে। সোমবার উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে পোড়াকাটলা-নীলডুমুর সংযোগ সড়কের মধ্যভাগ থেকে খুঁটিটি সরিয়ে নেয়। এর আগে সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই কার্পেটিং কাজ এগিয়ে নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। জানা গেছে, উপজেলার নীলডুমুর খেয়াঘাট থেকে পোড়াকাটলা পর্যন্ত বিস্তৃত এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও শত শত যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন অবহেলিত এ সড়কে সম্প্রতি কার্পেটিং কাজ শুরু হলেও বিদ্যুতের খুঁটি মাঝখানে থাকায় চলাচলে ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা নীলকান্ত রপ্তান বলেন, “সড়ক নির্মাণের দায়িত্বে থাকা এলজিইডি ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। তবে ইউএনও’র দ্রুত হস্তক্ষেপে এখন রাস্তা পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী হয়েছে।” অন্যদিকে নীলডুমুর গ্রামের আব্দুল খালেক জানান, “রাস্তার মাঝখানে খুঁটি থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। খুঁটি অপসারণের ফলে এখন মানুষ ও যানবাহন নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি এলজিইডি ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে খুঁটিটি অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। খুঁটি অপসারণের ফলে সড়কটি এখন সম্পূর্ণভাবে চলাচলের উপযোগী হওয়ায় স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এ ধরনের জনবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • সাংবাদিকদের যুক্তিনির্ভর সমালোচনা উন্নয়নের পথকে সুগম করে: এমপি গাজী নজরুল ইসলাম

    সাংবাদিকদের যুক্তিনির্ভর সমালোচনা উন্নয়নের পথকে সুগম করে: এমপি গাজী নজরুল ইসলাম

    শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি এস এম মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সভাপতি আলহাজ্ব সামিউল আযম ইমাম মনির। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্যামনগর একটি উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ জনপদ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে এখানকার মানুষ জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি উপকূল রক্ষায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ, খাল পুনঃখনন এবং পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে জাতীয় সংসদে জোরালো দাবি উত্থাপনের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ নয়, বরং টেকসই অবকাঠামোই শ্যামনগরবাসীর প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে এবং সাংবাদিকদের যুক্তিনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা উন্নয়নের পথকে সুগম করে। উপজেলাকে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক মডেল উপজেলায় রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ, আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন এবং কৃষি ও মৎস্যখাতের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন-এর পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতের নেতা মাওলানা আব্দুল মজিদ, উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ এবং প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

  • জনসমাগমস্থল পরিষ্কার রাখা আমাদের সবার কর্তব্য: এমপি গাজী নজরুল ইসলাম

    জনসমাগমস্থল পরিষ্কার রাখা আমাদের সবার কর্তব্য: এমপি গাজী নজরুল ইসলাম

    হুসাইন বিন আফতাব, শ্যামনগর: কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে সংসদ সদস্য নিজ হাতে ঝাড়ু দিয়ে হাসপাতাল চত্বরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা সামাজিক দায়িত্বের অংশ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসহ জনসমাগমস্থল পরিষ্কার রাখা সবার কর্তব্য। তিনি সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও সড়ক এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান। এ সময় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তরিকুল ইসলামের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্যামনগর উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল জলিল, জেলা সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ, উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা মইনুদ্দিন মাহমুদ, সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। পরে সংসদ সদস্য শ্যামনগর থানা এবং নাসরুল উলুম মাদ্রাসার ইয়াতিমখানা পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।