মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্যামনগর উপজেলা শাখা। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালনের লক্ষ্যে উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে দলীয় নেতৃবৃন্দ শ্যামনগর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা নীরবতা পালন করে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অগণিত শহীদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। তাঁদের এই আত্মদান পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনাকে শক্তিশালী করেছে। নেতারা আরও বলেন, ভাষা শহীদদের আদর্শ ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও জাতীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মাতৃভাষার সঠিক চর্চা ও সংরক্ষণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
Category: শ্যামনগর
-

নূরনগরে নির্বাচন-পরবর্তী যুবদলের মতবিনিময় সভা
আবু হাসান,নূরনগর, শ্যামনগর :
নির্বাচন-পরবর্তী ও আগামী দিনের সাংগঠনিক করণীয় নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নে নূরনগর ইউনিয়ন যুবদলের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ড থেকে আসা নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতিতে সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ নাজমুল হক এবং অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাফিজ আল আসাদ কল্লোল। এছাড়াও মো. মতলবে হোসেন, মো. মোশারফ, মমিনুল, আমিনুরসহ আরও নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নূরনগর ইউনিয়ন বিএনপির অন্যতম নেতা আবু ইউসুফ, একাধিকবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মোবারক হোসেন মন্টু, বিএনপি নেতা লাবলু ঢালী, প্রবীণ নেতা মো. নজরুল ইসলাম এবং কৃষক দলের আহ্বায়ক সরদার শাহনেওয়াজ। তাদের উপস্থিতি সভাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নূরনগর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোহা. গোলাম মাহমুদ রাজু। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম রেজা। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মো. আলমগীর হোসেন, মো. সোহাগ হোসেন, জাকির হোসেন ছোট, মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন খোকন, আজগার তরফদার, মোহাম্মদ ইব্রাহিম মোল্লা, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খোকন, মো. আসাদুর, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ মানসুর, মো. আবু হাসান, মোহাম্মদ হাবিবুর বাশার বুলবুলি, শামীম আহমেদ, ফজলুল রহমান, আমিনুর রহমান, শমসের গাজী, আশিক ইলাহী, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, আবুবক্কার, সাগর হোসেন, মো. শাহরুখ হাসান, মো. আমিনুর ইসলামসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, নূরনগর ইউনিয়ন যুবদল অতীতেও আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা রেখেছে। আগামীতেও ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তারা ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ত্যাগের মাধ্যমে মাঠের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সভার শেষে নেতৃবৃন্দ জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর অঙ্গসংগঠন হিসেবে যুবদল নূরনগর ইউনিয়নে সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় সভাটি শেষ হয়।
-

খাদ্য ও জীবিকার সংকটে শ্যামনগরের ৯৫ শতাংশ মুন্ডা জনগোষ্ঠী
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা শ্যামনগরের রমজাননগরের সুন্দরবন সংলগ্ন কালিঞ্চী নদীরপাড়ে বসে ৭৯ বছর বয়সী রনজিত মুন্ডা কাপা কাপা গলায় বলতে থাকেন, “আমাদের আসল বাড়ি রাঁচি। জমিদাররা এনে সুন্দরবন পরিষ্কার করিয়েছিল। তখন বাঙালিরা বলত ‘মুন্ডা পরিচয় দিও না, সরদার পরিচয় দিও।’ এমনি ভাবে আমরা এখানে থেকে গেলাম। এখন লবণাক্ততায় জুংড়া, কচ্ছপ, কুচিয়া, শামুক কিছুই পাওয়া যায় না। ঘরবাড়ি প্রতিবছর ঝড়ে উড়ে যায়।”রনজিত মুন্ডা বলেন, “তাঁর দাদারা সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল কেটে বসতি গড়ার কাজ করতেন। সেই সময়ের শিকড় থেকেই মুন্ডাদের এই অঞ্চলে টিকে থাকার ইতিহাস শুরু।”তার কথার মতোই বদলে গেছে পুরো মুন্ডা সমাজের জীবনচিত্র। সুন্দরবনকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই ছোট সম্প্রদায়টি জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, ঘূর্ণিঝড় ও খাদ্যসংকটের ত্রিমুখী চাপে এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে আটকে গেছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে-জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণে শ্যামনগরের মুন্ডা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবার এখন খাদ্য ও জীবিকার তীব্র সংকটে ভুগছে। গত এক দশকে অন্তত চারটি বড় ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে এই সমাজটি জীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কঠিন রূপান্তরের মুখোমুখি হয়েছে। আইলা, আম্ফান, রেমাল, নার্গিস সিত্রাংসহ প্রতিটি ঘূর্ণিঝড় মুন্ডা গ্রামগুলোকে আগের চেয়ে আরও দুর্বল করেছে। ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে, বাঁধ ভেঙেছে, পানির উৎস নোনা হয়ে গেছে। একই এলাকার দিপালী রাণী মুন্ডা বলেন, “ঘর বানাইলে ঝড় এসে নিয়ে যায়। নোনা পানি ঢুকলে খাবার ফসলও হয় না। তখন নদীতে নামতে হয়-কিন্তু আগে যে জিনিস পাওয়া যেত, এখন তার অর্ধেকও পাই না। নোনা পানির কারণে ধান, পাট, শাকসবজি কমে গেছে; মাঠে কাজও কমে গেছে। ফলে নদী-খাল-বনে নির্ভরতা বেড়েছে, কিন্তু সেখানেও জীববৈচিত্র্য কমে যাওয়ায় আগের মতো কিছু পাওয়া যায় না।” কালিঞ্চী এলাকার সবিতা রাণী মুন্ডা বলেন, “আমাদের প্রধান খাবার ছিল ইঁদুর, শামুক, জুংড়া-এখন আর পাই না। নদীতে গেলে নোনা পানি, জঙ্গলে গেলে নিষেধাজ্ঞা। তাই আমাদেরও বাঙালিদের মতো ডাল-ভর্তা খেতে হচ্ছে।” নোনা পানিতে কাজ, দীর্ঘ সময় হাঁটুকোমর ডুবিয়ে শামুক, জুংড়া সংগ্রহ-এসবের কারণে নারীরা ত্বক ও শারীরিক সমস্যায় বেশি ভোগেন। ঘর ভাঙা, জলাবদ্ধতা ও স্যানিটেশন সংকটেও তাদের জীবন আরও দুর্বিষহ। সাতক্ষীরার সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস)-এর নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের জনগোষ্ঠী পাঁচটি বিষয়ে সমস্যায় পড়ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং ভেষজ চিকিৎসা। কেউ অসুস্থ হলে প্রথমে কবিরাজের মাধ্যমে গাছ-গাছড়ার চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে প্রয়োজন হলে হাসপাতালে বা ক্লিনিকে নেওয়া হয়।” সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সায়েদুর রহমান মৃধা বলেন, “শ্যামনগরের মুন্ডা জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু ঝুঁকি, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় এবং জীবিকার সীমাবদ্ধতার কারণে বহুমুখী বঞ্চনার মধ্যে আছে-এটি সত্য।”
-

শ্যামনগরে মাছের ঘেরের পানিতে পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাছের ঘেরের পানিতে পড়ে মো. আবু দাউদ মিস্ত্রি (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের শংকরকাটি গ্রামের একটি মাছের ঘেরে এঘটনা ঘটে। পরে ওই ঘের থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত বৃদ্ধ মো. আবু দাউদ মিস্ত্রি উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের শংকরকাটি গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিন মিস্ত্রির ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দাউদ মিস্ত্রি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। সকালে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরে তার দেহ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে ঘেরের পানি থেকে বৃদ্ধেও মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত দাউদ মিস্ত্রির বড় ছেলে আব্দুল মমিন জানান, তার বাবা প্রায়ই বাড়ি থেকে একা বের হয়ে যেতেন। ধারণা করা হচ্ছে সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর অসাবধানতাবশত তিনি ঘেরের পানিতে পড়ে যান। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় ও লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ময়না তদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
-

বংশীপুরে গভীর রাতে ককটেল বিস্ফোরণ
শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণ এবং সড়কে টায়ারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং রাতভর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি ব্যানার এবং কয়েকটি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ড. ইউনুস ও জামাত বিএনপি’র অবৈধ্য পাতানো নির্বাচন বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল’। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, কারা এই ঘটনায় জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
-

শ্যামনগরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে হ্যাচারীর জমি দখলের অভিযোগ
শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বিড়ালাক্ষ্মী গ্রামে রেডিয়েন্ট হ্যাচারীর প্রায় দুই বিঘা জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা জি. এমন হাবিবুল্লাহ এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার বিকালে হাবিবুল্লাহ নিজ কর্মী-সমর্থক নিয়ে হ্যাচারীর সীমানা প্রাচীর ভেঙে জমি দখল করে এবং বাঁশ ও নাইলন দিয়ে ঘেরা বানিয়ে নেয়। হ্যাচারীর মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। হ্যাচারীর ম্যানেজার জামাল হোসেন জানান, দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত উক্ত জমি রঞ্জিলা খাতুন নামের এক নারীর জন্য বরাদ্দ ছিল। হাবিবুল্লাহর ১২-১৪ জন সহযোগী ওই জমি দখল করার সময় প্রাচীর ভেঙে নারীর যাতায়াতের সুবিধা রেখেছেন। হাবিবুল্লাহ দাবি করেন, হ্যাচারীর মালিক সফিকুর রহমান তাঁর পরিবারের কাছে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা দেনা রাখায় ওই জমি ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, “টাকা পরিশোধ করলে জমি ফিরিয়ে দেয়া হবে।” উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সোলায়মান কবির বলেন, “কেউ টাকা পেলে তার জন্য আইন আছে, কিন্তু এভাবে কারও জায়গা-জমি দখল করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।” স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় উত্তেজনা রয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
-

শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার” — গাজী নজরুল ইসলাম
শ্যামনগর প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী জনসভা কাশিমাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় কাশিমাড়ী ইউনিয়নের ঈদগাহ ময়দানে কাশিমাড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কাশিমাড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা রুহুল কুদ্দুস। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।প্রধান অতিথি সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন,“দেশকে আজ দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের রাজনীতি থেকে মুক্ত করতে হবে। জনগণ এখন শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়। এ পরিবর্তন আনতে হলে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে নির্বাচিত করতে হবে।”কাশিমাড়ীর অতীত দুর্যোগ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিগত সময়ে কাশিমাড়ীর ঘোলা ঝাপালী বাঁধ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সে সময় আমি সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাঁধ নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখি। মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকা আমার দায়িত্ব, আর এই দায়িত্ববোধ থেকেই আমি আজও মাঠে আছি।” তিনি বলেন, “আমি এমপি থাকাকালীন সময়ে কাশিমাড়ীসহ শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনসেবামূলক অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করেছি। বরাদ্দ যেন সঠিকভাবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়—সেটিই ছিল আমার প্রধান লক্ষ্য।”আগামী পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণ যদি আবারো আমাকে সংসদে পাঠায়, তাহলে কাশিমাড়ী ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, বাজার ও হাটবাজার উন্নয়ন, কৃষি ও মৎস্যখাতে আধুনিকায়ন, যুব সমাজের কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাশিমাড়ীকে একটি আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই জনপদের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দখলবাজ-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়াই হবে আমার রাজনীতির মূল অঙ্গীকার।” জনসভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের ভোটাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প শক্তি প্রয়োজন। তারা বলেন, জামায়াতে ইসলামী জনগণের কল্যাণভিত্তিক রাজনীতি করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল জলিল, মাওঃ আব্দুল মজিদ শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মঈন উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা নায়েবে আমীর ফজলুল হক, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফা, সহকারি সেক্রেটারি সাঈদ হাসান বুলবুল। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। -

ধ্বংসের পথে শ্যামনগরের নকিপুর জমিদার বাড়ি
এবিএম কাইয়ুম রাজ, বিশেষ, প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঐতিহাসিক নকিপুর জমিদার বাড়ি আজ চরম অবহেলা ও অযত্নে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই স্থাপত্য নিদর্শনটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও সংরক্ষণের অভাবে দিন দিন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে।
শ্যামনগর অঞ্চল বাংলার বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম মহারাজ প্রতাপাদিত্যর স্মৃতিবিজড়িত এলাকা হিসেবে পরিচিত। জমিদার হরিচরণ রায় বাহাদুরের শাসনামলে ১৮৮৮ সালে নির্মিত তিনতলা বিশিষ্ট নকিপুর জমিদার বাড়িটি একসময় এলাকার গৌরব ও ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল। বর্তমানে ভবনটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় কোনো রকমে টিকে আছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় প্রজারা জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে চলাচলের সময় জুতা খুলে সম্মান প্রদর্শন করতেন। অথচ আজ সেই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি অযত্নে পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত ও ভুতুড়ে ভবনে। জানালা ও দরজা হারিয়ে গেছে, দেয়ালের ফাঁকে ফাঁকে জন্ম নিয়েছে বটগাছ, ইট ও পলেস্তারা খসে পড়ছে। যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে এই জমিদার বাড়ি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে উঠতে পারত বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
জমিদার হরিচরণ রায় বাহাদুর শুধু একজন শাসকই ছিলেন না, তিনি শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় নকিপুর মাইনর স্কুল, যা বর্তমানে নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত। এছাড়াও রাস্তা, খাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। জমিদার বাড়ি সংলগ্ন দুর্গামণ্ডপ, নহবতখানা, শিবমন্দির ও পুকুরঘাট আজও তার ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
সাড়ে তিন বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই জমিদার বাড়িটির নকশা ও নির্মাণশৈলী ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। এতে ছিল শক্তিশালী সিংহদ্বার, প্রশস্ত বারান্দা, ভূগর্ভস্থ কক্ষ, সুদৃশ্য পুকুর, নহবতখানা এবং কারুকাজ খচিত কাঠের আসবাব। ১৯৫৪ সালে জমিদার পরিবার ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকে ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে যায়।
সরকারিভাবে একসময় এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া নকিপুর জমিদার বাড়ির ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভব নয়।
-

শ্যামনগরে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা: শ্যামনগর উপজেলা মিডিয়া সেন্টারের উদ্যোগে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২১ মে) দুপুর ২টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের তৃতীয় তলায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
মিডিয়া সেন্টারের পরিচালক প্রভাষক আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান। তিনি সাংবাদিকতার গুরুত্ব এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চার ওপর আলোকপাত করে বলেন, “সাংবাদিকতা হলো জাতির দর্পণ। সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে সংবাদ পরিবেশন করাই প্রকৃত সাংবাদিকের দায়িত্ব।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান এবং দেবহাটা নিউজের সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক। বক্তারা সাংবাদিকতার নৈতিকতা, তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব এবং গঠনমূলক সমালোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্যামনগর মিডিয়া সেন্টারের সভাপতি হুসাইন বিন আফতাব।
কর্মশালায় শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে অর্ধ শতাধিক গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা কর্মশালার বিভিন্ন পর্বে সংবাদ লেখার কৌশল, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নৈতিক সাংবাদিকতা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। -

পপ তারকার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি: ইরানের বিচার বিভাগ
নিউজ অনলাইন: রাষ্ট্র পরিচালিত একটি মিডিয়ায় প্রচারিত পপ তারকা তাতালুর মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের বিচার বিভাগ।
আজ সোমবার (২০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যশনাল। এর আগে, রোববার (১৯ জানুয়ারি) তাতালুর মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জামে জাম। তবে বিচার বিভাগের গণমাধ্যম অফিস এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাতালুর চূড়ান্ত রায় এখনও দেয়া হয়নি।
মিডিয়াটি দাবি করেছিল, নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে ‘তাতালু’ নামে পরিচিত বিতর্কিত গায়ক আমির হোসেন মাগসুদলুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, সম্প্রতি এই গায়ক ‘আইনি ধারায় ছাড়পত্র পাওয়ার যোগ্য’ হয়ে উঠেছেন। ফৌজদারি আদালতের নবম শাখার রায়ে প্রসিকিউটর আপত্তি জানানোর পর তার বিরুদ্ধে ওঠা একটি অভিযোগ খারিজ করা হয়। এরপর মামলা অন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
২০১৮ সাল থেকে ইস্তাম্বুলে বসবাস করছিলেন ৩৭ বছর বয়সী তাতালু। এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তুর্কি কর্তৃপক্ষ তাকে ইরানে ফেরত পাঠায়। তাকে ‘পতিতাবৃত্তি প্রচার’, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ‘প্রচার’ এবং ‘অশ্লীল বিষয়বস্তু’ প্রকাশের অভিযোগসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
২০১৭ সালে অতি-রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে টেলিভিশনে একটি বৈঠকেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। মাগসুদলু তার ট্যাটু ও পপ সঙ্গীতের জন্য ভক্তদের কাছে বেশি পরিচিত। ২০১৫ সালে তাতালু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সমর্থনে একটি গানও প্রকাশ করেন।/এএম
