পদ্মপুকুরে অবৈধ বালু উত্তোলন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের খুটিকাটা ও চাউলখোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থান থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হলেও প্রশাসনের তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বরং স্থানীয় ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাউলখোলা এলাকার অনিল বাবুর প্রায় এক বিঘা জমি ভরাটের জন্য একই এলাকার আব্দুর রহমানের ঘের থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফুটপ্রতি ৬ টাকা চুক্তিতে পার্শ্ববর্তী আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের দিকলারাইট গ্রামের সেকেন্দার হোসেন এ কাজ করছেন। এলাকার কিছুটা সামনে ৪৫ নম্বর খুটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলসংলগ্ন খুটিকাটা গ্রামের রফিকুল ইসলামের মৎস্যঘের থেকেও একইভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফুটপ্রতি ৫ টাকা চুক্তিতে এ কাজ করছেন আশাশুনি উপজেলার কালিমাখালী এলাকার শামিম হোসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলেও স্থানীয় ভূমি অফিস এ বিষয়ে কার্যত নির্বিকার রয়েছে। গ্রামবাসী মফিজুল হোসাইন বলেন, “পদ্মপুকুর ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর মাধ্যমে ফুটপ্রতি ১ টাকা করে নায়েবকে দিয়ে বালু তোলা হয়।” স্থানীয়দের মতে, এভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে এবং ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, এতে ভূমিকম্পের সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে বেসরকারি সংস্থা লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল বলেন, মাটির নিচ থেকে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করলে বালুর স্তর ফাঁকা হয়ে যায়। এতে ভূমিধসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে ফুটপ্রতি মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পদ্মপুকুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এ টি এম আয়নুল হক। তিনি বলেন, “ওখানে কাজ চলছে—এ বিষয়ে আমি অবগত নই।” স্থানীয়রা বিষয়টি তাঁকে একাধিকবার জানিয়েছে- এমন তথ্য জানানো হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদ হোসাইন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে উপজেলা অফিসে ডেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *