ডেস্ক রিপোর্ট:ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বলপ্রয়োগ, দলীয়করণ ও নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আসনটিতে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব উপনির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও তথ্যের সঙ্গে ওই বক্তব্যের অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগও তোলেন জামায়াতের এই নেতা।
গোলাম পরওয়ার জানান, নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা একাধিকবার ঠাকুরগাঁও সফর করেছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের কাছে নয় দফা লিখিত অভিযোগ ও তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়েছিল। পরে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকেও হামিদুর রহমান আজাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে অভিযোগ ও দাবি জানায়। কিন্তু কমিশন আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এক নারী ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ভোটারের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। বিশেষ করে চাকরিজীবীদের রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় দুপুর ২টার আগেই প্রচারণা চালানো, রঙিন পোস্টার ও ধানের শীষের রঙিন প্রতীক ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের ব্যাজ বা পরিচয়পত্র ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপত্তি তোলার পর হাতে নাম লিখে পরিচয়পত্রের মতো ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি মুড়ি বইয়ে আগেই ২২টি সিল ও স্বাক্ষর করা ছিল। জামায়াতের পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত শুরু থেকেই নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ায় তাদের ওপর জনগণের আস্থা কম। ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি উপনির্বাচনেই যদি অনিয়মের অভিযোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না।
সংবাদ সম্মেলনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকারসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




