ডেস্ক রিপোর্ট:আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি বন্ধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী শনিবার এ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, খুলনার মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ, গুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যকর পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
সরকারের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার সমালোচনা করে তিনি দলীয়করণ, চাঁদাবাজি এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের মতো সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সরকার গঠনের সাত-আট মাসের মধ্যেই কেন লংমার্চের মতো কর্মসূচি নিতে হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জানান, গণভোটে প্রাপ্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণসহ সাত দফা দাবিতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং দমন ও জননিরাপত্তার বিষয়ও দাবিগুলোর মধ্যে গুরুত্ব পেয়েছে।

নেতারা অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তারের পর সহজেই জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন। তাঁদের ভাষ্য, মামলা প্রস্তুত এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত উপস্থাপনে ঘাটতির কারণে আসামিরা জামিন পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে বলেও তাঁরা জানান।

খুলনা সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দায়িত্ব সরকারের। জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সরকার ব্যর্থ হলে এর দায় তাদেরই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লংমার্চের অংশ হিসেবে খুলনার শিববাড়ী মোড় ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে দুটি পথসভা আয়োজনের কথা রয়েছে। আয়োজকেরা এসব কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি আশা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।