স্টাফ রিপোর্টার: শুভ সকালে আনন্দের সংবাদ নিয়ে যাত্রার আয়োজন, আর কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানেই স্বজনদের আহাজারি আর লাশ কাটা ঘরের নিরবতাÑখুলনা অঞ্চলের মহাসড়কগুলোতে নিত্যদিনের দৃশ্যপট এখন এমনই নির্মম। একের পর এক বেপরোয়া ওভারটেকিং, অন্ধ বাঁক (ব্লাইন্ড কার্ভ), দিকচিহ্নের অভাব এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই বিভাগে তৈরি হয়েছে এক আতঙ্কের মৃত্যুফাঁদ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ৯ মাসেই সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে ঝরে গেছে ৪৩৩টি প্রাণ। আহত হয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ কিংবা হাসপাতালে যন্ত্রণাদায়ক দিন কাটাচ্ছেন প্রায় সাড়ে পাঁচশর বেশি মানুষ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিভাগের ব্যস্ততম মহাসড়কগুলোর বাঁকগুলোতে দূর থেকে বোঝার মতো কোনো ফলক না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে মর্মান্তিক সব অঘটন। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগের ১০টি জেলায় মোট ৪৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিআরটিএ-র খুলনা বিভাগীয় পরিচালক প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৩ জন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৫৯৪ জন। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মৃত্যুর এই মিছিলে সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে মোটরবাইক দুর্ঘটনা ও বেপরোয়া দূরপাল্লার গাড়ি। জেলাভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যশোর জেলায়। বিআরটিএ-র তথ্যমতে, যশোরে ৯৫টি দুর্ঘটনায় ৯০ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হন। মৃত্যুর তালিকায় এর পরেই রয়েছে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ। অন্যদিকে বিভাগের প্রধান শহর খুলনাসহ বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও চুয়াডাঙ্গাতেও সড়ক দুর্ঘটনা থেমে নেই। যশোর জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ৯৫, নিহতের সংখ্যা ৯০, আহতের সংখ্যা ৯৫, কুষ্টিয়া জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ৭৫, নিহতের সংখ্যা ৮০, আহতের সংখ্যা ৪২, ঝিনাইদহ জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ৬২, নিহতের সংখ্যা ৫৪, আহতের সংখ্যা ১০১, চুয়াডাঙ্গা জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ৪২, নিহতের সংখ্যা ৩২, আহতের সংখ্যা ৬১, মাগুরা জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ৪১, নিহতের সংখ্যা ৩৬, আহতের সংখ্যা ৩৭, বাগেরহাট জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩৮, নিহতের সংখ্যা ৪২, আহতের সংখ্যা ৩২, সাতক্ষীরা জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩৬, নিহতের সংখ্যা ৩২, আহতের সংখ্যা ১৮, খুলনা জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ২৬, নিহতের সংখ্যা ২৮, আহতের সংখ্যা ৩৩, নড়াইল জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ২৪, নিহতের সংখ্যা ২১, আহতের সংখ্যা ৪২, মেহেরপুর জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ২১, নিহতের সংখ্যা ১৮, আহতের সংখ্যা ৩৩। সর্বমোট দুর্ঘটনার সংখ্যা ৪৫৯, নিহতের সংখ্যা ৪৩৩, আহতের সংখ্যা ৫৯৪। সড়কে মৃত্যুর পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি হৃদয়বিদারক তা নিয়ে বেঁচে থাকা স্বজনদের কষ্ট। এই ৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক ঘটনাটি ঘটে গত ১২ মার্চ খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায়।খুলনার কয়রা থেকে নতুন বধূ নিয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে মোংলার শেলাবুনিয়ায় ফিরছিল বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস। বিয়ের সানাইয়ের শব্দ আর হাসিখুশি পরিবেশ নিমেষেই মিশে যায় রক্ত ও লাশের স্তূপে। মোংলামুখী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলে বর-কনেসহ মোট ১৪ জন প্রাণ হারান। যার মধ্যে একই পরিবারের সদস্য ছিলেন ৯ জন। আনন্দের বিয়েবাড়ি এক মুহূর্তেই রূপ নেয় মহাশ্মশানে। এই একক ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি গোটা দেশের মানুষকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছিল এবং সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চিত্রটি আরও একবার উন্মোচিত করেছিল। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সড়কের জ্যামিতিক ত্রুটি ও সড়ক ব্যবস্থাপনাগত নানাবিধ অবহেলার চিত্র। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক এবং যশোরসহ বিভাগের অধিকাংশ জেলার সড়ক-মহাসড়কজুড়ে রয়েছে অসংখ্য বিপজ্জনক বাঁক ও মোড়। বিআরটিএ-র তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের অন্তত ছয়টি জেলার মহাসড়কে ১১টি অতি-ঝুঁকিপূর্ণ রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে সীমান্ত ঘেঁষা যশোর জেলা। যশোরের ছয়টি প্রধান সড়কে মোট ২৮টি বিপজ্জনক বাঁক ও মোড় রয়েছে, যা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলো হলো: যশোর-নওয়াপাড়া সড়ক, যশোর-ভাঙ্গুড়া সড়ক, যশোর-খাজুরা সড়ক, যশোর-বেনাপোল সড়ক, যশোর-কেশবপুর সড়ক, যশোর-বারোবাজার সড়ক। এই সবকটি বাঁকের মূল সমস্যা হলো পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড বা দিকচিহ্নের অভাব। কোনো কোনো স্থানে সতর্কীকরণ ফলক থাকলেও দুই পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গজিয়ে ওঠা ঘন গাছগাছালির ডালপালায় তা ঢেকে থাকে। ফলে দূর থেকে চালকদের পক্ষে সামনের বাঁক বা বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়িটি দেখা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্ধ বাঁকে এসে হঠাৎ বেপরোয়া ওভারটেক করার চেষ্টা করায় মুখোমুখি সংঘর্ষের শিকার হয় অধিকাংশ যানবাহন। খুলনাঞ্চলের সার্বিক সড়ক পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে কথা বলেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর খুলনা মহানগর শাখার উপদেষ্টা ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অধ্যাপক ড. মো. সামিউল হক। তিনি বলেন, "প্রতিটি প্রাণই অমূল্য। সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কেবল সরকারি বা একক কোনো উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। প্রথমত, চালকদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ও পেশাদার প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। মহাসড়কে বেপরোয়া গতি আর অননুমোদিত ওভারটেকিং শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পুলিশি টহল ও আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি।"
৯ মাসে সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগে ৪৩৩ জন নিহত
মহাসড়কে বেপরোয়া গতি ও অন্ধ বাঁকের ফাঁদ
স্টাফ রিপোর্টার: শুভ সকালে আনন্দের সংবাদ নিয়ে যাত্রার আয়োজন, আর কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানেই স্বজনদের আহাজারি আর লাশ কাটা ঘরের নিরবতাÑখুলনা অঞ্চলের মহাসড়কগুলোতে নিত্যদিনের দৃশ্যপট এখন এমনই নির্মম। একের পর এক বেপরোয়া ওভারটেকিং, অন্ধ বাঁক (ব্লাইন্ড কার্ভ), দিকচিহ্নের অভাব এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই বিভাগে তৈরি হয়েছে এক আতঙ্কের মৃত্যুফাঁদ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ৯ মাসেই সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে ঝরে গেছে ৪৩৩টি প্রাণ। আহত হয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ কিংবা হাসপাতালে যন্ত্রণাদায়ক দিন কাটাচ্ছেন প্রায় সাড়ে পাঁচশর বেশি মানুষ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিভাগের ব্যস্ততম মহাসড়কগুলোর বাঁকগুলোতে দূর থেকে বোঝার মতো কোনো ফলক না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে মর্মান্তিক সব অঘটন। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগের ১০টি জেলায় মোট ৪৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিআরটিএ-র খুলনা বিভাগীয় পরিচালক প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৩ জন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৫৯৪ জন। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মৃত্যুর এই মিছিলে সবচেয়ে শীর্ষে রয়েছে মোটরবাইক দুর্ঘটনা ও বেপরোয়া দূরপাল্লার গাড়ি। জেলাভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যশোর জেলায়। বিআরটিএ-র তথ্যমতে, যশোরে ৯৫টি দুর্ঘটনায় ৯০ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হন। মৃত্যুর তালিকায় এর পরেই রয়েছে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ। অন্যদিকে বিভাগের প্রধান শহর খুলনাসহ বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও চুয়াডাঙ্গাতেও সড়ক দুর্ঘটনা থেমে নেই। যশোর জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ৯৫, নিহতের সংখ্যা ৯০, আহতের সংখ্যা ৯৫, কুষ্টিয়া জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ৭৫, নিহতের সংখ্যা ৮০, আহতের সংখ্যা ৪২, ঝিনাইদহ জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ৬২, নিহতের সংখ্যা ৫৪, আহতের সংখ্যা ১০১, চুয়াডাঙ্গা জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ৪২, নিহতের সংখ্যা ৩২, আহতের সংখ্যা ৬১, মাগুরা জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ৪১, নিহতের সংখ্যা ৩৬, আহতের সংখ্যা ৩৭, বাগেরহাট জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩৮, নিহতের সংখ্যা ৪২, আহতের সংখ্যা ৩২, সাতক্ষীরা জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩৬, নিহতের সংখ্যা ৩২, আহতের সংখ্যা ১৮, খুলনা জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ২৬, নিহতের সংখ্যা ২৮, আহতের সংখ্যা ৩৩, নড়াইল জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ২৪, নিহতের সংখ্যা ২১, আহতের সংখ্যা ৪২, মেহেরপুর জেলা দুর্ঘটনার সংখ্যা ২১, নিহতের সংখ্যা ১৮, আহতের সংখ্যা ৩৩। সর্বমোট দুর্ঘটনার সংখ্যা ৪৫৯, নিহতের সংখ্যা ৪৩৩, আহতের সংখ্যা ৫৯৪। সড়কে মৃত্যুর পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি হৃদয়বিদারক তা নিয়ে বেঁচে থাকা স্বজনদের কষ্ট। এই ৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক ঘটনাটি ঘটে গত ১২ মার্চ খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায়।খুলনার কয়রা থেকে নতুন বধূ নিয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে মোংলার শেলাবুনিয়ায় ফিরছিল বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস। বিয়ের সানাইয়ের শব্দ আর হাসিখুশি পরিবেশ নিমেষেই মিশে যায় রক্ত ও লাশের স্তূপে। মোংলামুখী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলে বর-কনেসহ মোট ১৪ জন প্রাণ হারান। যার মধ্যে একই পরিবারের সদস্য ছিলেন ৯ জন। আনন্দের বিয়েবাড়ি এক মুহূর্তেই রূপ নেয় মহাশ্মশানে। এই একক ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি গোটা দেশের মানুষকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছিল এবং সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চিত্রটি আরও একবার উন্মোচিত করেছিল। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সড়কের জ্যামিতিক ত্রুটি ও সড়ক ব্যবস্থাপনাগত নানাবিধ অবহেলার চিত্র। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক এবং যশোরসহ বিভাগের অধিকাংশ জেলার সড়ক-মহাসড়কজুড়ে রয়েছে অসংখ্য বিপজ্জনক বাঁক ও মোড়। বিআরটিএ-র তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের অন্তত ছয়টি জেলার মহাসড়কে ১১টি অতি-ঝুঁকিপূর্ণ রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে সীমান্ত ঘেঁষা যশোর জেলা। যশোরের ছয়টি প্রধান সড়কে মোট ২৮টি বিপজ্জনক বাঁক ও মোড় রয়েছে, যা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলো হলো: যশোর-নওয়াপাড়া সড়ক, যশোর-ভাঙ্গুড়া সড়ক, যশোর-খাজুরা সড়ক, যশোর-বেনাপোল সড়ক, যশোর-কেশবপুর সড়ক, যশোর-বারোবাজার সড়ক। এই সবকটি বাঁকের মূল সমস্যা হলো পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড বা দিকচিহ্নের অভাব। কোনো কোনো স্থানে সতর্কীকরণ ফলক থাকলেও দুই পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গজিয়ে ওঠা ঘন গাছগাছালির ডালপালায় তা ঢেকে থাকে। ফলে দূর থেকে চালকদের পক্ষে সামনের বাঁক বা বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়িটি দেখা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্ধ বাঁকে এসে হঠাৎ বেপরোয়া ওভারটেক করার চেষ্টা করায় মুখোমুখি সংঘর্ষের শিকার হয় অধিকাংশ যানবাহন। খুলনাঞ্চলের সার্বিক সড়ক পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে কথা বলেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর খুলনা মহানগর শাখার উপদেষ্টা ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অধ্যাপক ড. মো. সামিউল হক। তিনি বলেন, "প্রতিটি প্রাণই অমূল্য। সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কেবল সরকারি বা একক কোনো উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। প্রথমত, চালকদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ও পেশাদার প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। মহাসড়কে বেপরোয়া গতি আর অননুমোদিত ওভারটেকিং শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পুলিশি টহল ও আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি।"
৯ মাসে সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৩
মহাসড়কে বেপরোয়া গতি ও অন্ধ বাঁকের ফাঁদ




