ডেস্ক রিপোর্ট: নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাস ও ট্রাকের চালকও নিহত হয়েছেন।
বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শামীম হোসেন জানান, আরপি পরিবহনের বাসটি বরগুনা থেকে যাত্রী নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে, পঞ্চগড় থেকে বালু নিয়ে একটি ট্রাক ঝিনাইদহের দিকে যাচ্ছিল। সরকারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে যানবাহন দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
তিনি বলেন, ট্রাকটি মহাসড়কের বাম পাশের লেন দিয়ে চলছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতগতিতে চলা বাসটি অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় ট্রাকটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও কয়েকজন মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল, বড়াইগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত অন্যদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
নিহতদের মধ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে মো. সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার ছায়াপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদ আলী গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাসফিয়া (৮), একই এলাকার আজাহার হাওলাদারের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৫), ঝিনাইদহের বরাতলা উপজেলার বরানগর গ্রামের কালাম (৩৫), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জহর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৪০), ডুবি সাহাবুর গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে সালাম মোল্লা (৪৫), একই গ্রামের ইউনুসের ছেলে সোহাগ (৩০), আরব আলী ফকিরের ছেলে আবদুস সামাদ (৭০) এবং কাজিরহাট গ্রামের রাজ্জাকের ছেলে শাহিন (৩৫) রয়েছেন। কালাম পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। নিহতদের মধ্যে আরও কয়েকজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম জানান, নিহতদের মধ্যে একজন সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন।
দুর্ঘটনার সময় বাসে থাকা যাত্রী আবদুস সালাম বলেন, বাসটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী ছিলেন। সব আসন পূর্ণ থাকায় অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে যেতে হচ্ছিল। যাত্রীদের ভিড়ে বাসের ভেতরে পা রাখারও জায়গা ছিল না। তাঁর ভাষ্য, বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল এবং চালক মাঝেমধ্যে জোরে ব্রেক করছিলেন। এতে যাত্রীরা আসন থেকে ছিটকে পড়ছিলেন।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার এবং পুলিশ সুপার শরিফুল হক। তাঁরা দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
হুইপ দুলু বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি তিনি সমবেদনা জানাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা রোধে পাবনা-বনপাড়া মহাসড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি
এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নাটোর জেলা প্রশাসন। কমিটিকে সরেজমিনে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।




