ডেস্ক রিপোর্ট: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা দাবি করেছেন, বক্তব্যটি ইসলামের মৌলিক তাওহিদি বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতিকে বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে বিষয়টি স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির বক্তব্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতা থাকা প্রয়োজন। ইসলামের মৌলিক আকিদা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলাই সমগ্র বিশ্বজগতের একমাত্র স্রষ্টা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। কোনো দেব-দেবীকে সমগ্র পৃথিবীর ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামের তাওহিদি বিশ্বাসের পরিপন্থী বলে দাবি করেন তাঁরা।
হেফাজতের নেতারা আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যের ধর্মীয়, সামাজিক ও জাতীয় প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের অসতর্ক বা বিতর্কিত মন্তব্য জনপরিসরে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ইসলামও অন্য ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয় বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।
তবে অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে গিয়ে ইসলামের মৌলিক আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা।