বিশেষ প্রতিনিধি, কালিগঞ্জ: শ্যামনগরে বাড়ির সামনে থেকে চুরি হওয়া একটি ইজিবাইক জিপিএস ট্র্যাকার প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মুজাহিদ (৩৫) ও উজ্জ্বল হোসেন (৪৫) নামে দুইজনকে ইজিবাইকসহ আটক করা হলেও পরে তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের জাহাজঘাটা এলাকায় রাশিদুল ইসলামের বাড়ির সামনে থেকে ইজিবাইকটি চুরি হয়। সকালে বিষয়টি জানতে পেরে ইজিবাইকে স্থাপিত জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে সেটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। জিপিএসের অবস্থান অনুসরণ করে ইজিবাইক চালক শেখ আবু হাসান, কাজী ইসলামসহ কয়েকজন চালক আশাশুনি এলাকায় যান। সেখানে অভিযান চালিয়ে মুজাহিদ নামে এক যুবককে চুরি হওয়া ইজিবাইকসহ আটক করা হয়। পরে তাকে ভূরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে না নিয়ে যেয়ে মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসা হলে জিজ্ঞাসাবাদে আরও সহযোগীর নাম জানানোর দাবি করা হয়। এরপর ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে শেখ উজ্জ্বল হোসেনকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসা হয়। তবে পুলিশি প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়ল বলেন, আটক দুইজনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রহিমকে জানানো হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রহিম বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি তাকে ওসি সাহেবকে জানাতে বলেছিলাম। এরপর বিষয়টি সম্পর্কে আমি আর অবগত নই। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর রহমান চোর আটকের বিষয়টি আমি অবগত নই। এদিকে, চুরি যাওয়া ইজিবাইক জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে চুরি যাওয়া ইজিবাইক উদ্ধারের পর দুইজনকে আটকের দাবি থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এনিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অবগত নয় বলায় পুরো ঘটনাটি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।