রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় এক প্রবাসীর ভাইয়ের কাছ থেকে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

page-top-ad
তারা হলেন, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত ও বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ। এ ঘটনায় জড়িত আরো একজন পলাতক রয়েছেন।

page-top-ad
গতকাল শনিবার রাতে ও আজ রোববার সন্ধ্যায় পুলিশের একটি দল তাদের গ্রেফতার করে।

তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক বেগ। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, ভুক্তভোগী এক প্রবাসীর ভাইয়ের মামলায় ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট প্রবাসীর ভাই মো: সুমন নামে এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন। বিমানবন্দর থানার মামলা নম্বর ৪৬।

মামলায় বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফকে ১ নম্বর আসামি, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপনকে ২ নম্বর আসামি, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত ৩ নম্বর আসামি ও বিমানবন্দর সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদি উল্লেখ করেন, আমার বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়া প্রবাসী। গত ২৮ আগস্ট বড় ভাই আমার বোনের বিবাহ ও আমার পরিবারের ব্যবহারের জন্য মালয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার পাঠান।

পরে আমি ও আমার বন্ধু রোহান চৌধুরীকে সাথে নিয়ে ওইদিন রাত ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বড় ভাইয়ের পরিচিত লোকের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার ও আমার বন্ধু রোহানের কাছে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ভাড়াকৃত হায়েচ গাড়িতে উঠি।

সেখান থেকে রাত ৮টা ৫ মিনিটে বিমানবন্দর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কস্থ বলাকা ভবনের বিপরীত পাশে রাস্তায় আসামিরা বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ করি এবং আমাদের কাছে বোমা আছে। এ কথা বলে আমাদেরকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে আসামিরা আমাদের সাথে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর স্থানীয়রা আমরা দুইজনকে উদ্ধার করে।

এসময় একজন পথচারী আমাদের বাঁচানোর চেষ্টা করে এবং অপর একজন পথচারীর কৌশলে তার মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে। একপর্যায়ে আরো লোকজন আসতে দেখে আসামিরা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে জানতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবকে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।