Category: হোম পেজ লীড নিউজ

  • যুদ্ধে ইরানের নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র ফাঁদে পড়ল

    যুদ্ধে ইরানের নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র ফাঁদে পড়ল

    ডেস্ক রিপোর্ট: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে যৌথ অভিযান শুরু করে, তখন তাদের মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের শাসনব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন আনা। কাগজে-কলমে এই লক্ষ্য হয়তো এখনো আছে। তবে ওয়াশিংটন থেকে আসা সাম্প্রতিক বার্তাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগের অবস্থান থেকে কিছুটা হলেও সরে এসে তাদের এখন নতুন করে হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে। মাঠের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, এই অভিযান ইরানের শাসনব্যবস্থায় ধস নামানোর জন্য যে ধরনের জনরোষ বা অস্থিরতা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা ঘটেনি। উল্টো চার দিনের মাথায় যুদ্ধ নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়ার বদলে ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থাও বেশ স্থিতিশীলই আছে। শুধু তা–ই নয়, শত্রুপক্ষের বিভিন্ন অবস্থানে পাল্টা আঘাতও হেনে যাচ্ছে দেশটি। এই পরিস্থিতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আগের হিসাব নতুন করে মেলাতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন এবং তেহরানের আলোচনার প্রস্তাব মানার সম্ভাবনা নিয়ে তাদের আগের সব অনুমান এখন প্রশ্নের মুখে। আর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানও আলোচনার কোনো সম্ভাবনা দেখছে না। এদিকে আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতায় একদমই সাড়া দিচ্ছে না ইরান। পাশাপাশি যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা আছে, তাদেরও প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে দেশটি। বিষয়টি নিছক জেদ বা আদর্শিক অনমনীয়তা নয়, এটি তেহরানের একটি সুচিন্তিত রণকৌশলেরই প্রতিফলন। তেহরান মনে করছে, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া কোনো সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি শত্রুপক্ষকে ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার সুযোগ করে দেবে। ইরানের ড্রোন হামলার পর বাহরাইনের মানামায় একটি বহুতল ভবনে আগুনে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ড্রোন হামলার পর বাহরাইনের মানামায় একটি বহুতল ভবনে আগুনে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। দুটি বাস্তবমুখী পরিস্থিতি এই উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে। প্রথমত, খোদ মার্কিন প্রশাসনই স্বীকার করেছে যে এই যুদ্ধ স্বল্পস্থায়ী বা সীমিত না-ও হতে পারে। পেন্টাগনে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, ‘অতিরিক্ত প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।’ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অবশ্য শঙ্কা দূর করার চেষ্টা করে বলেছেন, ‘এটি ইরাক নয়, এটি অন্তহীন কোনো যুদ্ধও নয়।’ তবে একটি ‘অন্তহীন’ পরিস্থিতির সম্ভাবনা অস্বীকার করার এ প্রবণতাই প্রমাণ করে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিষয়টি এখন জন-আলোচনার অংশে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কণ্ঠেও একই সুর। এই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সেই যৌথ প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে, যার মাধ্যমে তারা ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্রশমিত করতে চায়। কারণ, তাদের অভিযানের প্রাথমিক সেই ‘শক অ্যান্ড অউ’ (আকস্মিক ও প্রচণ্ড আঘাত) পর্যায়টি প্রত্যাশিত কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেনি। তা ছাড়া ইসরায়েল যে ইরানে হামলা চালাবে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান যে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চড়াও হবে’—মার্কিন প্রশাসন তা আগে থেকেই জানত বলে স্বীকার করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই স্বীকারোক্তির পর তিনি অভিযানের পরিধি কমানোর বদলে বরং এর লক্ষ্য আরও বিস্তৃত করেছেন। রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে এবং সেই লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, আমরা ঠিক ততটুকুই করব।’
    ইরানে ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন’ বা শাসন পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে হেগসেথ যে মন্তব্য করেছিলেন, রুবিওর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নতুন করে গুরুত্বারোপ সেই একই বিষয়কে সামনে আনছে। এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের প্রাথমিক কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের পথ থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছে। কৌশলগত সাফল্যের ফুলঝুরি কিংবা যুদ্ধের গতি বজায় রাখতে ক্ষয়ক্ষতির অতিরঞ্জিত পরিসংখ্যান প্রচার করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতির এই বিশাল ব্যবধান নতুন কোনো প্রস্থানের পথ খোঁজার চাপ তৈরি করেছে। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে শেষ পর্যন্ত স্থল অভিযানের প্রয়োজন পড়বে।
    এই পটভূমিতে ইরানের বিরোধী পক্ষ এবং কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি ওয়াশিংটনের পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। রুবিও যখন বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে স্থল অভিযানের অবস্থানে নেই। তবে প্রেসিডেন্টের হাতে বিকল্প রয়েছে। তিনি কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছেন না,’ তখন এটিই ইঙ্গিত দেয় যে শুরুর দিকের কৌশলগত ঘাটতি পুষিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ঝুঁকি নিতে এবং সম্ভবত দীর্ঘস্থায়ী একটি যুদ্ধে জড়াতে প্রস্তুত হচ্ছে।
    এ কাঠামোটি যেমন ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ভুল হিসাব-নিকাশের ফসল, তেমনি এটি ইরানের নিজস্ব কৌশলগত পরিবর্তনেরও ফলাফল।
    ইসরায়েলের ওপর মাঝেমধ্যে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পরিবর্তে ইরান এখন তাদের রক্ষণব্যূহকে ক্লান্ত করে দেওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের এই কৌশল যেমন অভাবিত ছিল, তেমনি চমকপ্রদ ছিল খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো সেই শুরুর দিককার ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূলের হামলাটিও। ইরানের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তেহরান সম্ভবত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সরাসরি সমর্থন থাকায় কেবল ইসরায়েলের ওপর ক্ষয়ক্ষতি চালিয়ে কোনো চূড়ান্ত রাজনৈতিক ফাটল ধরানো সম্ভব নয়। এর পরিবর্তে, তারা এখন এমন এক কৌশল বেছে নিয়েছে, যার লক্ষ্য হলো পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের ব্যয় ও ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া।
    তবে এই রণকৌশল তেহরানের জন্যও বেশ কিছু বড় সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। খবর পাওয়া গেছে, দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা নিশ্চিত করতে এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন নিজেদের অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ করছেন। দেশটির একজন সামরিক কর্মকর্তা বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে অকপটে বলেন, ‘হামলার প্রথম ধাক্কার পর নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আঞ্চলিক সামরিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে মূল কেন্দ্রের সংযোগ তখন ভেঙে পড়েছিল।’
    ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আগে থেকে ব্রিফিং পাওয়া ইউনিটগুলো নিজ নিজ এলাকায় নিজস্ব উদ্যোগে কাজ শুরু করেছিল। দ্বিতীয় দিন সকালের মধ্যে আবার সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় এবং আমরা তার ফল পেতে শুরু করি। তবে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মধ্যে এখনো বেশ কিছু গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।’ ওই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, ‘বহুস্তরীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা সবকিছু আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছি। আমাদের যে সক্ষমতা রয়েছে, তাতে এই অঞ্চলে কয়েক মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমরা আমাদের নেতাকে হারিয়ে সবচেয়ে বড় মূল্যটি চুকিয়েছি; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধের মূল্য দিতে হবে আরও অনেক বেশি। তাদের লক্ষ্য ছিল সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট। তবে তারা যে সামরিক সম্পদগুলোকে অবজ্ঞা করেছিল বা খেয়াল করেনি, সেগুলো দিয়েই আমরা অন্তত আরও দুই মাস এই মাত্রার প্রতিরোধ বজায় রাখতে পারব। আমাদের মজুত এবং পরিকল্পনা এখনো অটুট।’
    প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধের দ্বিতীয় দিন থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির বোঝা চাপিয়ে দিতে শুরু করে। যদিও ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’-এর বাগাড়ম্বর একেবারে উবে যায়নি, তবে এর ওপর আগের সেই জোর এখন অনেকটাই স্তিমিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অবস্থান এবং বিশ্বজুড়ে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর তেহরানে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে উড়ে যাচ্ছে পাখি।
    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর তেহরানে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে উড়ে যাচ্ছে পাখি।
    এই সহ্যক্ষমতার পরীক্ষার প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অন্তত ছয়টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের উপর্যুপরি হামলা ওই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব উপসাগরীয় দেশ মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি পরিচালনা করছে, তারা এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
    ধারণা করা হচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের কিছু নির্দিষ্ট মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তারা জরুরি সহায়তা চেয়েছে।
    ইরান এই সংঘাতকে কেবল ইসরায়েল-ইরান অক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না, বরং তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের স্থায়িত্বের পরীক্ষা নিচ্ছে।
    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমিরাত ও কাতারের নেতাদের সাম্প্রতিক আলোচনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। খবর বেরিয়েছে, আমিরাত জানিয়েছে যে তারা ক্ষুব্ধ, কারণ ইরানের ওপর হামলার জন্য তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার না করা সত্ত্বেও তাদের হামলার শিকার হতে হয়েছে। পুতিন আমিরাতের এই অসন্তোষের বার্তাটি তেহরানের কাছে পৌঁছে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
    এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর নেটওয়ার্ক ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোকে তেহরান এই কঠোর বার্তা দিচ্ছে, ইরান যদি যুদ্ধের এই পর্যায়টি পার করে দিতে পারে, তবে ভবিষ্যতে তারা ওই দেশগুলোর ওপর আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
    ইরানের এই নতুন রণকৌশল মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ভিতকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। একই সঙ্গে এটি ইউরোপের কাছে ওয়াশিংটনের সেই চিরচেনা বার্তাটিকেও জটিল করে তুলছে, যেখানে তারা দাবি করে আসছিল যে বৈশ্বিক নিরাপত্তায় মার্কিন উপস্থিতি অপরিহার্য।
    ইরানের ‘যুদ্ধব্যয় চাপিয়ে দেওয়া’ কৌশলের সবচেয়ে বিপজ্জনক হাতিয়ার হিসেবে রয়ে গেছে জ্বালানি খাত এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে- ইরানের এমন হুমকিতে বিশ্ববাজার ও বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার এবং কাতার বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিয়েছে।
    যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জ্বালানি তেলের দাম নাগালের মধ্যে রাখা একটি বড় অগ্রাধিকার। কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন ওয়াশিংটনের সেই অগ্রাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। তেহরানের রণকৌশলটি অত্যন্ত সোজাসাপ্টা—যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সীমিত থাকলেও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা এবং নৌ-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটিয়ে তারা ওয়াশিংটনের ওপর এক বিশাল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে চায়।
    যুদ্ধের এই ব্যয় যত বাড়বে, আলোচনার টেবিলে ইরানের দর–কষাকষির সক্ষমতাও ততটাই শক্তিশালী হবে; যদি সংঘাতটি রাষ্ট্রকেন্দ্রিক থাকে এবং অনিয়ন্ত্রিত কোনো গোষ্ঠী সংঘাতের দিকে মোড় না নেয়।

  • রমজান জীবন গঠনের সময়: এমপি আব্দুল খালেক

    রমজান জীবন গঠনের সময়: এমপি আব্দুল খালেক

    দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, আল্লাহর সবচেয়ে বড় নিয়ামতের মধ্যে অন্যতম হলো কুরআনুল কারিম। পবিত্র রমজান মাসেই মহান আল্লাহ মানবজাতির হেদায়াতের জন্য মহাগ্রন্থ কুরআন নাজিল করেছেন। কোন কাজ করা যাবে আর কোনটা করা যাবে না- তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা আল কুরআনে রয়েছে। হালাল ও হারামের পার্থক্যও নির্ধারণ করে দিয়েছে এই মহাগ্রন্থ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে কুরআনুল কারিমকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান না করা গেলে প্রকৃত সম্মান প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই রমজানের মর্যাদা বজায় রেখে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। বুধবার (৪ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র দেবহাটা সদর ইউনিয়ন শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণসংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত-এর সহকারী সেক্রেটারি আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম, দেবহাটা উপজেলা জামায়াত-এর আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম ও সেক্রেটারি এইচ.এম. ইমদাদুল হক। এছাড়াও উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলওয়ার হোসেন, দেবহাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তালেব বুলবুল, দেবহাটা দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু সাঈদ গাজীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

  • জনপদের উন্নয়ন ও ইনসাফ কায়েমে আপনাদের পাশে থাকবো: এমপি রবিউল বাশার

    জনপদের উন্নয়ন ও ইনসাফ কায়েমে আপনাদের পাশে থাকবো: এমপি রবিউল বাশার

    আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুর ইউনিয়নে সাতক্ষীরা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশারকে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বুধবার (৩ মার্চ) অনুষ্ঠানে শেখপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, রামনগর বাজার ফুটবল মাঠ এবং দক্ষিণ দরগাহপুর ৯নং ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। দিনশেষে খড়িয়াটি কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশাল সংবর্ধনা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সংবর্ধনা পরবর্তী আলোচনা সভায় এমপি রবিউল বাশার বলেন, “আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, এটি আমার পবিত্র দায়িত্ব। জনপদের উন্নয়ন ও ইনসাফ কায়েমে আমি সর্বদা আপনার পাশে থাকবো।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি উপজেলা জামায়াত ও ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয় এবং নবনির্বাচিত এমপি সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন।

  • ধনীদের সম্পদের ওপর আল্লাহ দরিদ্রদের অধিকার নির্ধারণ করেছেন: এমপি ইজ্জত উল্লাহ

    ধনীদের সম্পদের ওপর আল্লাহ দরিদ্রদের অধিকার নির্ধারণ করেছেন: এমপি ইজ্জত উল্লাহ

    কলারোয়া ব্যুরো: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা-এ দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে ‘যাকাত শীর্ষক সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে মরহুম আছির উদ্দিন শায়েদা অডিটোরিয়ামে কলারোয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর ও সিটি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। প্রবন্ধে তিনি যাকাত ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থা দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ কামারুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সামটা ছিদ্দিক্বীয়া ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মুহাঃ আসাদুজ্জামান ফারুকী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোঃ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “যাকাত কোনো অনুগ্রহ নয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ধনীদের কাছ থেকে আদায় করে অভাবগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। ধনীদের সম্পদের ওপর আল্লাহ বিত্তহীনদের অধিকার নির্ধারণ করেছেন, যা আদায় করা বিত্তবানদের দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সিয়াম ফরজ করেছেন তাকওয়া অর্জনের জন্য, আর রমজান মাস হলো তাকওয়া অর্জনের মূল সময়। রমজান থেকে শিক্ষা নিয়ে তাকওয়াভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে আপোষহীনভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সফল ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে। বিপ্লব সফল হলে রাষ্ট্রের কাছে যাকাত আদায় ও বণ্টনের দায়িত্ব ন্যস্ত হবে এবং সরকারিভাবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় তা পরিচালিত হবে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ ব্যবস্থা কায়েম না থাকায় দলটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে যাকাত আদায় ও বণ্টন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কুরআনে নির্ধারিত আটটি খাত বিবেচনায় রেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে যাকাত বণ্টন করা হচ্ছে। সাহেবে নিসাব ব্যক্তিদের এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এসময় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামী-এর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ ওসমান গনী, শূরা সদস্য মাওলানা মোঃ ওমর আলী, খুলনা বিএল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর প্রভাষক হাফিজুর রহমান এবং সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ রুহুল কুদ্দুস। সেমিনারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

  • সাতক্ষীরার মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: এমপি আব্দুল খালেক

    সাতক্ষীরার মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: এমপি আব্দুল খালেক

    স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের নজির স্থাপন করেছেন। পরিদর্শন শেষে তিনি হাসপাতাল চত্বরে নিজ হাতে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদেরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এ কার্যক্রমে যুক্ত হন। এ সময় উপস্থিত সবার প্রতি হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সেবাবান্ধব রাখার আহ্বান জানান তিনি। এর আগে সকাল ১০টায় হাসপাতালের সভাকক্ষে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এমপি। পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. কাজী আরিফ আহমেদ, উপ-পরিচালক মো. মেজবাহুর রহমান, সহকারী পরিচালক ডা. অজয় কুমার সাহা ও জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সুমন কুমার দাস প্রমুখ। এছাড়া জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমির নুরুল হুদা, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, অধ্যাপক ওমর ফারুক, শহর আমির জাহিদুল ইসলাম, সদর আমীর মাওলানা মোশারফ হোসেন, শহর সেক্রেটারী খোরশেদ আলম, সদর সেক্রেটারী মাওলানা হাবিবুর রহমান, সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাবেক সভাপতি আল মামুনসহ নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য দেন। সভায় চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন ধরে বিকল ডায়ালাইসিস মেশিন, অচল আইসিইউ বেড, জনবল ও চিকিৎসক সংকট, শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন আবাসিক হল নির্মাণ এবং মর্গ স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, সাতক্ষীরার মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। একে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করতে যা যা প্রয়োজন, তা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব। তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরার সব সংসদ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দেশের অন্যতম আদর্শ হাসপাতালে রূপান্তর করা। পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

  • সমাজের অসঙ্গতি, অপরাধ ও অনিয়ম তুলে ধরার দায়িত্ব সাংবাদিকদেরই: অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ

    সমাজের অসঙ্গতি, অপরাধ ও অনিয়ম তুলে ধরার দায়িত্ব সাংবাদিকদেরই: অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ

    তালা প্রতিনিধি: তালা-কলারোয়ার মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে চায়। সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত উদ্যোগেই এলাকার উন্নয়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ১২টায় তালা উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে তালা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “চাঁদাবাজি, হয়রানি ও মিথ্যা মামলা থেকে মানুষ মুক্তি চায়। আমরা সবাই মিলে তালাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে চাই।” তিনি সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে বলেন, একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে তাঁদের ভূমিকা অপরিসীম। সমাজের অসঙ্গতি, অপরাধ ও অনিয়ম তুলে ধরার দায়িত্ব সাংবাদিকদেরই। তিনি আরও বলেন, সংবাদ পরিবেশনে সত্যনিষ্ঠ থাকতে হবে। অসত্য, অতিরঞ্জিত বা ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশে নিরুৎসাহিত করে তিনি বলেন, “আপনারা আমার বিরুদ্ধেও লিখতে পারবেন, তবে আমার বক্তব্যটিও নেবেন। এতে আমিও সংশোধনের সুযোগ পাব।” তালা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মফিদুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সরদার ইয়াছিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. মাহমুদুল হক, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি গাজী সুজায়েত আলী, তালা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ডা. আফতাব উদ্দীন, উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হাকিম এবং ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম ফারুক প্রমুখ। এর আগে সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সংসদ সদস্য। এর আগে একই স্থানে সংবাদিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক সংগ্রামের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি আবু সাইদ বিশ্বাস। বিকেলে তিনি তালা উপজেলা জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে উপজেলা মডেল মসজিদে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

  • কুরআন বুঝে পড়ে দ্বীন কায়েমে এগিয়ে আসতে হবে: এমপি ইজ্জত উল্লাহ

    কুরআন বুঝে পড়ে দ্বীন কায়েমে এগিয়ে আসতে হবে: এমপি ইজ্জত উল্লাহ

    কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহকে সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। হেলাতলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. হযরত আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো. ইমামুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মো. কামারুজ্জামান, সাবেক আমীর মাওলানা মো. ওমর আলী, মাওলানা আব্দুল হামিদ, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সরদার আবু তালেব, উপজেলা যুব বিভাগের সহ-সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান রোমেল, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, আব্দুল কাদের, জাবিদ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি বলেন, “রমজান কুরআন নাজিলের মাস এবং ইসলামের বিজয়ের মাস। এই মাস আমাদের আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও ঈমানি শক্তি সঞ্চয়ের মাস। কোরআনকে শুধু তিলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর মর্মবাণী অনুধাবন করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আল্লাহর জমিনে দ্বীন কায়েম সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠন, দুর্নীতি ও অন্যায় পরিহার এবং ইসলামী আদর্শে পরিচালিত জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। পরে ইফতারের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

  • আমরা গতানুগতিক কোনো বিরোধী দল হতে চাই না: জামায়াত আমির

    আমরা গতানুগতিক কোনো বিরোধী দল হতে চাই না: জামায়াত আমির

    ডেস্ক রিপোর্ট: বর্তমান সরকার ও সংসদের কাছে জনগণের বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা গতানুগতিক কোনো বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখতে চাই না। আমরা চাই এ সংসদ হোক অর্থবহ এবং জনগণের সমস্ত চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্রবিন্দু। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ কখনো এক চাকায় চলে না, এটি সচল রাখতে সরকারি ও বিরোধী দল, উভয় চাকারই প্রয়োজন। সরকারি দল সামনের চাকা হলে বিরোধী দল হবে পেছনের চাকা। আমরা অতীতের মতো ‘ডামি’ বিরোধী দল হতে চাই না। সরকারের সঠিক পদক্ষেপে আমাদের সমর্থন থাকবে, তবে কোনো অসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিলে আমরা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ দেব। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই না সংসদের একটি সেকেন্ডও কারো চরিত্র হননের পেছনে নষ্ট হোক। বরং এটি হওয়া উচিত জাতীয় সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। সংবিধানে যেসব ‘কালো আইন’ রয়ে গেছে, সেগুলো দূর করে একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে দাঁড়ানোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিকে জাতির জন্য একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আজকের এই দিনে বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে একটি সাজানো রায়ে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এলে তৎকালীন সরকার নির্বিচারে গুলি চালিয়ে একদিনে ৭০ জন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে ১৬৪ জনকে হত্যা করেছিল। এই ক্ষত আমাদের মন থেকে কোনোদিন মুছবে না। তিনি সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, ২৪ এর ফ্যাসিবাদ যেভাবে বিদায় নেবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি। আমাদের সিংহশাবক ছাত্ররা এবং জুলাই যোদ্ধারা এ অসাধ্য সাধন করেছে। যারা শহীদ হয়েছেন আল্লাহ তাদের কবুল করুন এবং যারা আহত ও পঙ্গু অবস্থায় আছেন, জাতি তাদের চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। বক্তব্যে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ২০১৩ সালের সেই হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি সিঙ্গাপুরে ছিলেন। ফিরে এসে তিনি এটিকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে হরতাল ঘোষণা করেছিলেন। জেলে থেকে আমরা তার সেই সাহসী ভূমিকা দেখেছি। আমরা দোয়া করি আল্লাহ তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রমজান আমাদের তাকওয়া বা খোদাভীতির শিক্ষা দেয়। যার অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে, তার হাতে কখনো জনগণের আমানতের খেয়ানত হতে পারে না। আমরা যেন এই শিক্ষা ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে ধারণ করতে পারি। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতারা, বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • গুণীজনদের দিকনির্দেশনায় আলোকিত সমাজ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

    গুণীজনদের দিকনির্দেশনায় আলোকিত সমাজ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

    ডেস্ক রিপোর্ট: গুণীজনদের দিকনির্দেশনায় একটি সমৃদ্ধ, নৈতিক ও আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি রাষ্ট্রে কৃতি মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, সমৃদ্ধির মানদণ্ডে সেই সমাজ তত বেশি আলোকিত হবে। রাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজনে এবং একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জ্ঞানী-গুণীদের সম্মানিত করে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। একুশ আমাদের অবিনাশী চেতনা এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিবিদগণ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, জ্ঞানী-গুণীজনরাই প্রকৃত দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করেন। তাদের মেধা ও সৃষ্টিশীলতা সমাজকে সমৃদ্ধ করে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে আজকের বাংলাদেশ, প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে আমাদের বিজ্ঞজনদের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি আরও বলেন, আমরা এবার ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পদার্পণ করছি। একুশ আমাদের অবিনাশী চেতনা এবং স্বাধিকার অর্জনের বীজমন্ত্র। একটি উদার ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের যাত্রায় আমরা দেশের বিজ্ঞজনদের দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করি। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রসত্তা তিনটি ঐতিহাসিক আলোকধারায় নির্মিত ২১, ৭১ এবং জুলাই (গণঅভ্যুত্থান)। তিনি বলেন, ২১ শিখিয়েছে অস্তিত্ব, ৭১ শিখিয়েছে মর্যাদা আর জুলাই শিখিয়েছে রাষ্ট্রকে ন্যায় ও জবাবদিহিতার আলোয় পুনর্গঠন করতে হয়। সংস্কৃতিই জাতির আত্মাকে রক্ষা করে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, একুশে পদক কেবল একটি পুরস্কার নয়, এটি একটি আদর্শ ও দায়বদ্ধতার স্মারক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৯ জন গুণী ব্যক্তিকে পদক প্রদানের মাধ্যমে এই যাত্রার সূচনা করেছিলেন। ১৯৭৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত এ পর্যন্ত ৬০৫ জন ব্যক্তি ও ৯টি প্রতিষ্ঠানকে এই পদকে ভূষিত করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট কূটনীতিক এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রপ্তরা হলেন- অভিনয় ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ফরিদা আক্তার ববিতা। চারুকলায় অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার। স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম। সংগীতে মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু। নৃত্যে অর্থী আহমেদ এবং পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার। এ ছাড়া সাংবাদিকতায় ‘একুশে পদক ২০২৬’ পেয়েছেন শফিক রেহমান। শিক্ষাক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস। সেই সঙ্গে সংগীতাঙ্গনে অবদানের জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজকে একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে এই পদক দেয়া হচ্ছে। পুরস্কার হিসেবে মনোনীত প্রত্যেকে একটি স্বর্ণপদক, সম্মাননা সনদ এবং নির্দিষ্ট অংকের অর্থ পেয়ে থাকেন। শিক্ষা, শিল্পকলা, সমাজসেবা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের কাজের মূল্যায়ন হিসেবে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

  • বৃত্তি পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য পেয়ে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নওয়াবেকী মাদ্রাসা 

    বৃত্তি পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য পেয়ে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নওয়াবেকী মাদ্রাসা 

    অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, শ্যামনগর ‌

    শ্যামনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নওয়াবেঁকী বিড়ালাক্ষী কাদেরিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা চলতি বছরের বৃত্তি পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য অর্জন করে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করেছে। দাখিল অষ্টম শ্রেণি থেকে অংশগ্রহণকারী ১০ জন শিক্ষার্থীর সবাই বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৩ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৭ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

    এছাড়া প্রতিষ্ঠানের অঙ্গসংগঠন এন বি প্রি-ক্যাডেট একাডেমি-এর পঞ্চম শ্রেণি থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের মধ্যে ৬ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৮ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

    প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত ক্লাস মনিটরিং, মডেল টেস্ট ও বিশেষ কোচিং ব্যবস্থার ফলেই এ কৃতিত্ব অর্জন সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও নিবিড় তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি অভিভাবকদের সক্রিয় সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    উল্লেখযোগ্য এ সাফল্যে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

    প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং এন বি প্রি-ক্যাডেট একাডেমির পরিচালক পৃথক বার্তায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এই সাফল্য শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, এটি সমগ্র প্রতিষ্ঠানের গৌরব। শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।”

    প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখে আরও বড় সাফল্য অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।