রাজনৈতিক নেতাদের ফেরানোর বন্দোবস্ত: সারর্জিস
স্টাফ রিপোটার: বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও রাজনৈতিক নেতাদের ফেরানোর বন্দোবস্ত করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি হতে নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাসের নিয়ম বাতিল করার সিন্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৪ সালের প্রবিধানমালা সংশোধন করে কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা হচ্ছে। এতে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা আগের নিয়মে ফেরানো হচ্ছে। অর্থাৎ, ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি হতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হবে না। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটিতে বিদ্যুৎ শাহী সদস্য, দাতা সদস্য, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের যুক্ত করার বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে। এ পদগুলোতে মূলত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা কিংবা তাদের অনুসারীরাই থাকেন। ফলে অঘোষিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে আবারও রাজনৈতিক নেতাদের বসানোর নির্দেশনা এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সভাপতি হওয়ার সুযোগ থাকছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।’শিগগির এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হবে বলেও জানা গেছে। ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগে সংসদ সদস্যদের ক্ষমতাও আর থাকছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, ইউএনও, ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার হয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানের কাছে যাবে তিনজনের নামের তালিকা। সেখান থেকে একজন হবেন কমিটির প্রধান বা সভাপতি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষাবোর্ড। ২০২৪ সালের মে মাসের আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি হতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হতো না। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪ সালের মে মাসে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪’ প্রণয়ন করে। ওই প্রবিধানমালায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যোগ্যতা বিষয়ে বলা হয়েছিল, এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ কোনো ব্যক্তি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচিত হতে পারবেন না। এরপর উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট প্রবিধানমালা সংশোধন করে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস নির্ধারণ করে গেজেট জারি করে। সেই নিয়ম বাতিল করে ২০২৪ সালের আগের নিয়মে ফিরলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত এনসিপির সাংগঠনিক বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে হলে অন্তত স্নাতক (অনার্স) ডিগ্রি থাকতে হবে। কিন্তু পরে সেই শর্ত বাতিল করে সভাপতির পদে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। তার মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যোগ্যতার মানদণ্ড তুলে দেওয়া হলে শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। অতীতে আওয়ামী লীগ শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও গুণগত মান নষ্ট করে স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করেছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, একই ধরনের পথে হাঁটলে জনগণ ভবিষ্যতে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। মুখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বলা হলেও বাস্তবে যোগ্যতা ও মানের প্রশ্ন উপেক্ষা করা হলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে যোগ্য ও দক্ষ মানুষকে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে অথবা দলের কর্মীদেরই যোগ্য করে তুলতে হবে। তবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কৌশল বা অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
Category: হোম পেজ লীড নিউজ
-

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিতে সভাপতি হতে লাগবে না শিক্ষাগত যোগ্যতা
-

সাতক্ষীরায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ভূমিকম্প ও অগ্নি বিষয়ক মহড়া, র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাতক্ষীরা কালেক্টরেট চত্বরে জেলা প্রশাসনের আয়োজন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে কর্মসূচি পালিত হয়। জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার সভাপতিত্বে অগ্নি বিষয়ক মহড়া ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোছা: শাহানাজ বেগম, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির ও উপাধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল ইসলাম মুকুল, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন, ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাইফুজ্জামানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা। অগ্নি মহড়া ও আলোচনা শেষে শহরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস, সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের যুব সদস্য এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা আগাম প্রস্তুতির গুরুত্ব এবং তরুণ প্রজন্মকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
-

পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনা দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে: উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল
মোঃ হারুন উর রশীদ: সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সহায়তার কার্যক্রম জোরদার করতে ‘যাকাত’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) বিকাল ২টায় কালিগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা জামায়াতে আমীর মাওলানা আব্দুল ওহাব সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জামায়াতে সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুর রউফের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সিটি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। তিনি তার প্রবন্ধে যাকাত ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের বাস্তবসম্মত দিক ও সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনা দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতে নায়েবে আমীর নাসির ও বাইতুল মাল সেক্রেটারি আবু রাসেল আশকারী। সেমিনারে উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা যাকাত ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসে সামাজিক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
-

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি: এমপি গাজী নজরুল ইসলাম
সাইফুল ইসলাম, শ্যামনগর: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও দুর্যোগ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। “দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব” প্রতিপাদ্যে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির শুরুতে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে শেষ হয়। এরপর উপজেলা হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ শ্যামনগর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ রাশেদ হোসাইন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। প্রধান অতিথি গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় শ্যামনগর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় সাতক্ষীরায় উপকূলীয় বোর্ড স্থাপন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সবুজ বেষ্টনী তৈরী, পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ ও সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, নদী ড্রেজিং ও খাল খননের মাধ্যমে মিষ্টি পানির আধার তৈরি, দুর্যোগসহ কর্মসূজন প্রকল্প ও দরিদ্র পরিবারের জন্য ঘর বরাদ্দ প্রকল্প পুনরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর থানার ওসি (তদন্ত) পিয়ার উদ্দীন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খান, শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মাষ্টার আব্দুল ওয়াহেদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুল মজিদ, সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফা, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য জি এম সোলায়মান কবির, উপজেলা প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি গাজী আল ইমরান এবং ছাত্র প্রতিনিধি মাসুম বিল্লাহসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের চৌকস সদস্যদের পরিচালনায় দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
-

ঈদের কেনাকাটায় সরগরম সাতক্ষীরা: ফারসি ও সারারা ড্রেসে তরুণীদের উন্মাদনা
স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার মার্কেট ও বিপণি বিতানগুলো উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। শহরের বিভিন্ন মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণীদের পছন্দের ফারসি ও সারারা ড্রেস ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা উন্মাদনা। নতুন ডিজাইন ও রঙের সমাহারে সাজানো দোকানগুলোতে তরুণীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বিপণিবিতানগুলোতে নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের পদচারণা বাড়ছে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অনেকে। তীব্র গরম উপেক্ষা করেও ক্রেতা ও বিক্রেতারা কেনাকাটায় ব্যস্ত।
রোববার (৮ মার্চ) শহরের আসাদুল চেয়ারম্যান মার্কেটে দেখা গেছে, দোকানজুড়ে সাজানো হয়েছে বাহারি পোশাকের পসরা। তৈরি পোশাকের দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পছন্দের পোশাক কিনতে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। পাশাপাশি কসমেটিকস, জুতা ও ফ্যাশন সামগ্রীর দোকানেও ছিল চোখে পড়ার মতো ব্যস্ততা।
ক্রেতা মারিয়াম শান্তা বলেন, “ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মাকে সঙ্গে নিয়ে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। মার্কেটে অনেক ভিড়, তবে পোশাকের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। তবুও ঈদের আনন্দের জন্য কিনতেই হচ্ছে।”
শহরের ‘নিউ ফ্যাশন কিং’ দোকানের বিক্রেতা সাব্বির আহমেদ জানান, এবারের ঈদে ফারসি ও সারারা ড্রেসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এসব পোশাকের দাম ১,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে। সুতির ড্রেসের দাম ৮০০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো। বিশেষ করে ইফতারের পর ক্রেতাদের সমাগম আরও বেড়ে যায়।”
সাতক্ষীরা জেলা বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জি এম সোহরাব হোসেন জানান, এবারের ঈদকে ঘিরে মার্কেটে ক্রেতার উপস্থিতি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। পাকিস্তানি থ্রি-পিস ও দেশীয় শাড়ির বিক্রিও ভালো হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ তৈরি করেছে ‘ফারসি’ নামের নতুন ডিজাইনের পোশাক।
তিনি আরও বলেন, মার্কেটগুলোতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় রয়েছে। ফলে ক্রেতারা স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারছেন।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সাতক্ষীরার মার্কেটগুলোতে বাড়ছে মানুষের ঢল। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের শেষ সপ্তাহে বেচাকেনা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাদের মতে, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সাতক্ষীরার মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি অনেক বেশি, যা শহরের প্রাণচাঞ্চল্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। -

সাতক্ষীরায় বিশিষ্টজনদের নিয়ে জামায়াতের ইফতার মাহফিল মিলন মেলায় পরিণত
স্টাফ রিপোর্টার: বিশিষ্টজনদের নিয়ে সাতক্ষীরা জামায়াতের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপক, সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক রোজাদার অংশ নেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমানেন সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহা: ইজ্জত উল্লাহ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারী সাতক্ষীরা ২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য সাতক্ষীরা- ৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহবায়ক এইচ এম রহমাতুল্লাহ পলাশ, জমিয়েতে আহলে হাদীসের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ গজনফর, আহলে হাদীস আন্দোলনের জেলা সভাপতি আলতাফ হোসেনসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রমজান কেবল রোজা রাখার মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাস। সমাজে নৈতিকতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হলে রমজানের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। ঐক্য ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সাতক্ষীরাকে একটি নিরাপদ ও সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। বক্তরা আরো বলেন, পবিত্র মাহে রমজান আমাদেরকে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পথে চলার শিক্ষা দেয়। সমাজে ন্যায়বিচার, শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রমজানের শিক্ষা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র হওয়া উচিত। সমাজের অন্যায় দূর করতে হলে তাকওয়াবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা জরুরি। শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মুসলিম উম্মাহ’র ঐক্যবদ্ধ শান্তি ও সমৃদ্ধিসহ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন জামায়াতের অন্যতম নেতা মাওলানা আব্দুল বারী।
-

ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল ভারতে গ্রেপ্তার
ডেস্ক রিপোর্ট: ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ। গতকাল রোববার দেশটির পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যরা বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এরপর আদালতে নিলে আদালত তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠায়। সিআইডি প্রধান জানান, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতের বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) সদস্যরা গতকাল রোববার তাদের গ্রেপ্তার করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। এক সংবাদি বিজ্ঞপ্তিতে এসটিএফ বলেছে, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটনের পর ভারতে পালিয়ে আসা দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন এবং সুযোগ বুঝে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন বলে পুলিশের কাছে বিশ্বস্ত তথ্য ছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ৭ ও ৮ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে বনগাঁও এলাকা থেকে ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পটুয়াখালীর বাসিন্দা রাহুল ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং ঢাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন (৩৪)। বিজ্ঞপ্তিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বলেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। হত্যার পর তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর ভারতের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান শেষে সম্প্রতি পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশ্যে বনগাঁয় জড়ো হয়েছিলেন। এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল রোববার গ্রেপ্তারকৃতদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন শহীদ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওইদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। ২৩ ডিসেম্বর আদালত ব্যাংক ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন। সেদিনই ফয়সালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। প্রাথমিকভাবে পাওয়া এ তথ্যের ভিত্তিতে ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসংক্রান্ত পৃথক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে সিআইডি।
-

জ্বালানি তেল পাচার রোধে সাতক্ষীরা সীমান্তে রেড এর্লাট
আবু সাইদ বিশ্বাস: সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল পাচার রোধে সাতক্ষীরা সীমান্তে জনবল বৃদ্ধি, টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (৬ মার্চ) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কঠোর বিধি-নিষেধের পাশাপাশি সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। ৫টি গ্রুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। সূত্র মতে বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়েছে। এর আওতায় ভোমরা, ঝাওডাঙ্গা, কাঁকডাঙ্গা, তলুইগাছা, সদর সুলতানপূরসহ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব রুট দিয়ে অতীতে ডিজেল ও পেট্রোল পাচারের চেষ্টা হয়েছিল, সেসব পয়েন্টে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ভোমরা স্থলবন্দর গেট দিয়ে ভারতে প্রবেশকারী দেশীয় ও ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকেও কড়াকড়িভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবল বৃদ্ধি, বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন পরিবহন ও চলাচলের ওপরও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনোভাবেই যেন সীমান্ত পথে জ্বালানি তেল পাচার হতে না পারে সে বিষয়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষায় বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখবে এবং পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এদিকে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ তেল নেওয়া যাবে ২ লিটার ও প্রাইভেটকারে ১০ লিটার তা নির্ধারন করে দিয়েছে সরকার। শুক্রবার (৬ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে মোটরবাইক সর্বোচ্চ ২ লিটার ও প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল/অকটেন কিনতে পারবে। এতে বলা হয়, দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট নিরসণ এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জানানো যাচ্ছে যে, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় জ্বালানি তেলের ব্যবহার অপরিহার্য। দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যবস্থাপনা মাঝেমধ্যে বাধগ্রস্ত/বিলম্বিত হয়। চলমান বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম/সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হওয়ায় ভোক্তা/গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা লক্ষ্যে করা যাচ্ছে। এই অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ডিলাররা বিগত সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তাছাড়া কিছু কিছু ভোক্তা ডিলার/ফিলিং স্টেশন থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুদ করার চেষ্টা করছেন মর্মে খবর প্রকাশ হচ্ছে, যা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি সহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের জনগণের ভয়/আতঙ্ক হ্রাস করার লক্ষ্যে জানানো যাচ্ছে যে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বিদেশ হতে আমদানি কার্যক্রম/সূচি নির্ধারিত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে পার্সেল দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের সাময়িকভাবে প্রধান স্থাপনা হতে সারাদেশের সব ডিপোতে নিয়মিতভাবে রেল ওয়াগণ/ট্যাংকারের মাধ্যমে প্রেরণ করা হচ্ছে। আশাকরা যাচ্ছে যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের বাফার স্টক (পর্যাপ্ত মজুদ) গড়ে উঠবে। জনগণের চাহিদা মোতাবেক জ্বালানি তেল সরবরাহ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ/বিপিসি কর্তৃক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিটি বাইক ২ লিটার, প্রাইভেটকার ১০ লিটার, জিপ/মাইক্রোবাস ২০-২৫ লিটার, পিকাপ/লোকাল বাস (ডিজেল) ৭০-৮০ লিটার ও দূরপাল্লার ট্রাক/বাস (ডিজেল) সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল কিনতে পারবে।
জ্বালানি তেল সরবরাহ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলী: ১. ফিলিং স্টেশন হতে জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় ভোক্তাকে আবশ্যিকভাবে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ প্রদান করতে হবে। ২. ফিলিং স্টেশন হতে প্রতিবার জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় পূর্ববর্তী ক্রয় রশিদ/বিলের মূল কপি জমা প্রদান করতে হবে। ৩. ডিলাররা উপরোক্ত বরাদ্দ ও নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রয় রশিদ গ্রহণ করে ভোক্তা প্রান্তে জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে। ৪. ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি তেলের মজুদ ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রদান করে জ্বালানি তেল উত্তোলন করবে। ৫. তেল বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের জ্বালানি তেল সরবরাহ দেয়ার পূর্বে বর্তমান বরাদ্দের আলোকে মজুদ ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করবে। কোনভাবেই বরাদ্দের বেশি সরবরাহ করা যাবে না। -

তেল সংকটে আশঙ্কায় সাতক্ষীরাসহ দেশের পাম্পে দীর্ঘলাইন
স্টাফ রিপোর্টার: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘর্ষের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বাংলাদেশে সরাসরি প্রভাব পড়েনি, সরকারি নির্দেশনায় তেল ও গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার প্রচলিত হয়েছে। এরপরেও, সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় তেলের সংকটের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও যানজট দেখা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়া এবং ডিপো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় জেলার পাম্পগুলোর রিজার্ভ সীমিত। এরফলে অনেক ক্রেতা ট্যাঙ্ক ফুল করে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানান, জ¦ালানী তেলের কোন সংসক নেই। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও গ্রাহকের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুন। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা মতো তেল সরবরাহে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মেসার্স এবি খান ফিলিং স্টেশনের এক কর্মী জানান, “বেশিরভাগ ক্রেতাই ট্যাঙ্ক ফুল করতে চাচ্ছে। দাম বাড়তে পারে বা পরে যদি না পায়, তাই সবাই তেল নিচ্ছে।” পাম্পের অন্য কর্মীরা বলেন, “একটি বাইকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। কারণ কেউ পরিচিত হলে বেশি দিতে হবে, আর অন্যকে কম দেওয়া হলে ঝামেলা শুরু হবে। তাই সবাই সমান তেল গ্রহন করুক।” একই পাম্পে অকটেনের জন্য অপেক্ষমান এসএম আশরাফুল ইসলাম বলেন, “সাধারণত প্রয়োজনমতো তেল পাওয়া যায় না। ক্রাইসিসের ভয়ে আজ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে।”
পাম্পের বিক্রয়কর্মীরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রিজার্ভ প্রায় শেষের দিকে। তাই খোলা ড্রাম বা বোতলে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে যানবাহনভিত্তিক ক্রেতাদের। -

দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করা প্রয়োজন: এমপি ইজ্জত উল্লাহ
তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তালা উপজেলা শাখার উদ্যোগে ‘যাকাত শীর্ষক সেমিনার ও ইফতার মাহফিল-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ২টায় তালা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উপজেলা আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং মাওলানা কবিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম মুকুল এবং জেলা নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আমীর মাওলানা মফিদুল্লাহ, নায়েবে আমীর মাস্টার আব্দুল মালেক, সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, সহ-সেক্রেটারি মাওলানা মাছুম বিল্লাহসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। ইসলামের একটি বিধান মানা আর অন্যটি উপেক্ষা করা ইসলামের শিক্ষা নয়। দেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামী জীবনব্যবস্থা ও কোরআনের আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, যাকাত বিত্তশালীদের জন্য ফরজ ইবাদত। যাদের ওপর যাকাত ফরজ হয়েছে তারা যদি তা আদায় না করেন, তবে তাদের কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর করতে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করা প্রয়োজন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতির ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দলীয় কর্মীদের বিত্তশালীদের কাছ থেকে যাকাত ও ফিতরা সংগ্রহ করে দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের আহ্বান জানান তিনি। বক্তারা বলেন, যাকাত শুধু ধর্মীয় বিধান নয়; এটি সামাজিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পবিত্র রমজানের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তারা। সেমিনার শেষে উপস্থিত সকলের সম্মানে ইফতার পরিবেশন করা হয় এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ তালা উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করেন। বিকেলে তিনি তালা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মাঝিয়াড়া এলাকায় পথসভা ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। পরে ইসলামকাটী সুজনশাহা ফুটবল মাঠে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।