ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরো আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় শাহাদাত বরণকারী সদস্যদের পরিবার ও নিকটাত্মীয়, পিলখানায় চাকরিরত সেইসব সেনা অফিসাররা দুঃসহ স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন। বুধবার বিকেলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধানরা, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক এ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। তারেক রহমান বলেন, মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ৯০ এর গণ-আন্দোলন এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাত বরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদাত বরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। আমি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারগুলোর সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। ২৫ ফেব্রুয়ারি; জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান। ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পরে শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে। তারেক রহমান বলেন, আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য। সরকারপ্রধান বলেন, আমি দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করেছি— গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে। তারেক রহমান আরো বলেন, আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত। ১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন। সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংগুলোকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়। দীর্ঘ সংগ্রামের পর এখন জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরো আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরো আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একইসঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি। তারেক রহমান বলেন, মাহে রমজান আমাদের সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি তিনি যেন শহীদদের আত্মাকে শান্তিতে রাখেন, তাঁদের পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন এবং আমাদের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ পিলখানায় নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ উধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানও ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সাথে ইফতার করেন।
Category: হোম পেজ লীড নিউজ
-

জামায়াত হারেনি-হারানো হয়েছে : মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি
শাহ জাহান আলী মিটন: সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী’র উদ্যোগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে মোজাফফর গার্ডেনে “দায়িত্বশীলদের সম্মানে ইফতার মাহফিল” অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন’র সভাপতিত্বে এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান-এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, “সকলেই একসাথে হয়ে আমাদের মোকাবেলা করেছে। নির্বাচন ভালো হলেও ফলাফলের কারচুপি হয়েছে। জামায়াত হারেনি, বরং হারানো হয়েছে জামায়াতকে। আমরা আশাবাদী, ইনশাল্লাহ, যে আবেগ ও উচ্ছ্বাস আমরা এই গণজোয়ারে দেখেছি, তা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না। আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা আল্লাহ দান করবেন। আমরা যেন পার্লামেন্টে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারি এবং দেশ ও জাতির আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে সক্ষম হই।” এছাড়া তিনি রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং বলেন, “রমজান আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং সমাজে ন্যায়-নীতির চর্চার মাস।” তিনি সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করেন এবং উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, প্রভাষক ওমর ফারুক, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওঃ আব্দুল বারী, মাওঃ শাহাদাত হোসেন, শহর আমীর জাহিদুল ইসলাম, শহর সেক্রেটারি খোরশেদ আলম,সদর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাস্টার হাবিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আলাউদ্দিন, অধ্যাপক শহিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুস সবুর, মাওলানা মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।
-

একটি নিরাপদ ও শান্তিপ্রিয় তালা-কলারোয়া গড়ে তুলতে চাই: এমপি ইজ্জত উল্লাহ
তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসন থেকে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নিজ নির্বাচনী এলাকায় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করেছেন। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের রাজাপুর, হরিহর নগর ও বালিয়া এবং জালালপুর ইউনিয়নের শ্রীমন্তকাটী ও জেঠুয়া বাজার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে অক্লান্ত পরিশ্রম ও ভোটের মাধ্যমে তাকে বিজয়ী করায় তিনি সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। এমপি ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার এ বিজয়। আমি চাই একটি নিরাপদ, শান্তিপ্রিয় ও স্মার্ট তালা-কলারোয়া গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা।” সফরকালে তিনি সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যা শোনেন এবং ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তারপর তিনি তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ, ডাক্তার ও সকল স্টাফের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি কর্তৃপক্ষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন। এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং রোগীদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেন। এমপি আরও জানান, তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মানোন্নয়ন ও দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিকালে তিনি তালা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের আয়োজনে জে এন এ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে তার সঙ্গে ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা নায়েব আমির ডাঃ মাহামুদুল হক, জেলা জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ডাঃ আপ্তাব উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওঃ মফিদুল্লাহ, সহ সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, উপজেলা সহ সেক্রেটারি মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, যুব জামাত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি জামালুন বান্না, তালা কলেজ ছাত্র শিবির সভাপতি মুরাদুল হক, তালা ইউনিয়ন সভাপতি মুজিবর রহমান, খলিলনগর ইউনিয়ন সভাপতি মাঃ আকবর হোসেন, সাবেক ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা গাজী হারুনার রশিদ, মাওঃ আঃ রহিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
-

যাকাত ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চালু হলে রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে: মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি
স্টাফ রিপোর্টার: দুর্নীতি, দুঃশাসন, টেন্ডার ও চাঁদাবাজমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে যাকাত ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা রাষ্ট্রে চালু করার আহবান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা সদর ২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, সুদ ভিত্তিক অর্থনীতির কারণেই আমাদের জাতীয় অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত। এতে পুঁজিপতির পুঁজি বাড়ছে; দরিদ্ররা হয়ে পড়ছেন আরো হতদরিদ্র। দুর্নীতিও বাড়ছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। তাই দেশের অর্থনৈতিক সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে দেশকে দুর্নীতি ও বেকারত্বমুক্ত করতে যাকাত ও কর্জে হাসানাভিত্তিক ইসলামী অর্থনীতি চালুর কোন বিকল্প নেই। আর তা করতে পারলেই দারিদ্র, দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটকে বঙ্গপোসাগরে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত “রমজান ও যাকাত ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রয়ারি) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আমীর জাহিদুল ইসলাম। পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা, সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, কর্মপরিষদ সদস্য এড. আজিজুল ইসলাম, ঝাউডাঙ্গা ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী, মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান। ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নের্তৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবি, সামাজিক সংগঠন ও পেশাজীবি ফোরামের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে বেকার, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের রাষ্ট্রের যাকাত তহবিল থেকে কর্জে হাসানা; প্রয়োজনে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। যাতে তারা অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে পারেন। আর এভাবে পাঁচ বছর কাজ করা হলে দেশে যাকাত নেওয়ার মত কোন লোক থাকবে না। দেশ পুরোপুরি দারিদ্রমুক্ত হবে। তিনি সে স্বপ্নের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে জামায়াতে পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
-

৬ সিটি করপোরেশনের বিএনপির দলীয় প্রশাসক নিয়োগ
স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব নিয়োগ কার্যকর থাকবে। আগের প্রশাসকদের সরিয়ে এসব পদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তবে এবার আমলাদের পরিবর্তে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। নতুন দায়িত্ব পাওয়া ছয়জনই বিএনপির প্রভাবশালী ও জ্যেষ্ঠ নেতা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি আবদুস সালাম। তিনি একসময় অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদেও রয়েছেন।
আবদুস সালাম ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হননি। তবে এই নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়াকে ডিএসসিসির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের অক্টোবরের শেষে তাকে সরিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসানকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখন মাহমুদুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন আবদুস সালাম।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন প্রশাসক করা হয়েছে শফিকুল ইসলাম খানকে। তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এবং এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শফিকুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন। ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ এজাজকে এক বছরের জন্য প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই মাসের শুরুতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন তার জায়গায় এলেন শফিকুল ইসলাম খান।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান শওকত হোসেনের বাবা গিয়াসউদ্দিন সরকার, চাচা সোহরাব উদ্দিন সরকার এবং দাদা জবেদ আলী সরকারও কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ছিলেন। শওকত হোসেন নিজেও টানা ১০ বছর কাশিমপুর ইউপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অপসারণের পর অন্তর্বর্তী সরকার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। এখন তার স্থলাভিষিক্ত হলেন শওকত হোসেন সরকার।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নতুন প্রশাসক নিযুক্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি আলোচিত সাত খুনের মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকার আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে নাসিক প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। এখন সেই স্থলাভিষিক্ত হলেন সাখাওয়াত হোসেন খান।
সিলেট সিটি করপোরেশন: সিলেট সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব ছিলেন। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বিসিবির পরিচালক ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি সিলেটের সবকটি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগকৃত প্রশাসক খান মো. রেজা-উন-নবীর স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।
খুলনা সিটি করপোরেশন: খুলনা সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক পদে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এর আগে, দীর্ঘ ২৮ বছর খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এর মধ্যে ১৬ বছর সাধারণ সম্পাদক এবং ১২ বছর ছিলেন সভাপতি। সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে ধানের শীষে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করলেও জিততে পারেননি। জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের কাছে হারেন তিনি। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জোটের ভরাডুবির মধ্যেও খুলনা-২ আসনে জয় পেয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোখতার আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। -

অনিয়মের অভিযোগ পেলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এমপি ইজ্জত উল্লাহ
স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। তিনি বলেন, “সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কলারোয়াকে শান্তি-শৃঙ্খলার মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অনিয়মের অভিযোগ পেলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস হবে না বলে সতর্ক করে বলেন, অপরাধ, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিরাজুস সালেহীন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম, পুলিশের এএসপি মো. ইমরান, কলারোয়া থানার ওসি এইচ. এম. শাহিন, নির্বাচন অফিসার অনুজ গাইন, বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, যান চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যের মনিটরিংসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভা শেষে সবাইকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
-

ধনীদের সম্পদের উপর আল্লাহ বিত্তহীনদের অধিকার দিয়েছেন: মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি
আবু সাইদ বিশ্বাস: মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি বলেছেন, ধনীদের সম্পদের উপর আল্লাহ বিত্তহীনদের অধিকার দিয়েছেন। তাই যাদের সম্পদে নিসাব পরিমাণ রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে নিজ সম্পদের হিসাব থেকে যাকাত আদায় করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার (২৩ ফেব্রয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা সদর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত “সিয়াম ও যাকাত” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সফল ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখে। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রের কাছেই যাকাত আদায় ও বণ্টনের দায়িত্ব ন্যস্ত হবে এবং সরকারই সুষ্ঠুভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবে। তখন প্রকৃত পাওনাদাররা তাদের প্রাপ্য বুঝে পাবেন। তিনি রমজানের শুরুতেই ফরজ বিধান যাকাত ও ওশর আদায়ের মাধ্যমে সকলকে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক আরও বলেন, যাকাত কোনো অনুগ্রহ নয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যাকাতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, ধনীদের কাছ থেকে তা আদায় করে অভাবগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। বিত্তবানদের এই হক যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। যাকাতভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্যেই আর্তমানবতার অর্থনৈতিক মুক্তি নিহিত রয়েছে। সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। তিনি বলেন, যাকাত একটি ফরজ ইবাদত এবং এটি গরিব-দুঃখীদের ন্যায্য অধিকার। পবিত্র কুরআনে সালাতের পাশাপাশি যাকাতের কথাও বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের জন্য যাকাত আদায় করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে সরকারি বা সাংগঠনিকভাবে যাকাত আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সদর জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ, ঝাউডাঙ্গা ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী এবং সদর জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা শাহাদাৎ হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
-

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাতক্ষীরায় ক্রেতারদের নাভিশ্বাস
স্টাফ রিপোর্টার: রমজানের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ক্রেতাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতিতে সাতক্ষীরার সাধারণ ক্রেতারদের নাভিশ্বাস উঠছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও পেঁয়াজ, রসুন, খেজুর, ডাল, মশলা ও সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে খিরা, শসা, গাজর, লেবুর দাম কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। সরেজমিনে সুলতানপুর বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পেঁয়াজের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, নতুন রসুন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং ভালো মানের টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০০-২২০ টাকা, দেশি মুরগি ৬২০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা, এবং ডিমের দাম আগের মতোই প্রতি ডজন ১১০ টাকা। বাজার পর্যবেক্ষকরা অভিযোগ করছেন, সরকারি সংস্থার তদারকির অভাবে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন। রমজানের পূর্বে চিনি, ডাল ও ছোলা আমদানির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় যথেষ্ট বেড়েছে। কারসাজি রুখতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও বাজারে এর তেমন কোন কোন প্রভাব পড়ছে না। রবিবার (২২ ফেব্রয়ারি) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ হোসেনের নেতৃত্বে কদমতলা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয় এবং মেসার্স আহাদ স্টোর ও ইসলাম স্টোরে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরদিকে, সাতক্ষীরা সদরের কাথন্ডা ও বাদামতলা বাজারে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাভিল হোসেন তামীম ও সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় দোকানে মূল্য তালিকা সংরক্ষণ না করা এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রয়ের অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় চারটি মামলায় জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের সঠিকভাবে মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন করা হয়। এদিকে একই দিনে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারেও ফল ও মুদি দোকানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অনিয়মের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজান মাসজুড়ে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস জানিয়েছেন, রমজান জুড়ে জেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তৎপর থাকবেন প্রশাসন। -

জামায়াতে ইসলামীকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে: এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক
ফিরোজ হোসেন: সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, এই নির্বাচনে মানুষের আশা ছিলো গোটা বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করা যাবে। তিনি বলেন, “রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফলাফল একধারায় যাচ্ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে অনেকের ধারণা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের পরাজিত করা হয়েছে। তবুও আমরা ঝড় দেখেছি, তুফান দেখেছি, ব্যথা দেখেছি, এতে করে মানুষকে ইসলাম থেকে সরানো কখনও সম্ভব হবে না। আজ হোক, কাল হোক বাংলাদেশের মাটিতে ইসলাম কায়েম হবে, কুরআন কায়েম হবে, ইনশাআল্লাহ।” শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে আগরদাড়ী ইউনিয়নের ধলবাড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক আরও বলেন, “আমার নির্বাচিত মানে জামায়াতে ইসলামী’র জয়, আমার জয় মানে সাতক্ষীরা জনগণের জয়। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন কোন রিয়া, চাওয়া বা খ্যাতি আমাকে স্পর্শ করতে না পারে। খালেস মনে আল্লাহর দিনের জন্য, জনগণের জন্য সাতক্ষীরা গড়ে তুলতে পারি, সেই তৌফিক দান করুন।” আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মশাররফ হোসেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যাপক ওমর ফারুক, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহাদাত হোসেন, সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের আমীর মো. জাহিদুল ইসলাম, শহর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাবেক সভাপতি আল মামুন ও সেক্রেটারি নুর নবী। এ সময় দোয়া অনুষ্ঠানে সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান। এরআগে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ার) বিকাল সাড়ে ৫টায় সাতক্ষীরা খুলনা রোড মোড় সংলগ্ন আসিফ চত্ত্বরে সাতক্ষীরা পৌর ও সদর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। এসময় সাতক্ষীরা সদর ২ আসনের আসন পরিচালক ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় সাতক্ষীরা-২ সদর আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য জননেতা মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, আজকে সাতক্ষীরা বাসি যারা আমাদেরকে ভোট দিয়েছেন আর যারা দেন নাই সকলেই আমরা আজকে একাকার। সাতক্ষীরার সম্পূর্ণ জনতার দায়িত্ব আমাদের উপরে। আমরা মিলে মিশে থাকবো, ঐক্যবদ্ধ থাকবো, সকলে মিলে মিশে আমরা সাতক্ষীরাকে গড়ে তুলবো। সাতক্ষীরা আমাদের, এই সুন্দর সাতক্ষীরাকে গড়ার জন্য আমরা যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলাম, সাতক্ষীরার লক্ষ লক্ষ জনগণ তারা যে আমাদের নির্বাচিত করেছেন, আমরা সেই ওয়াদা রক্ষায় যেন এগিয়ে যেতে পারি রব্বুল আলামিন যে আমাদের সেই সহযোগীতা দান করেন। উল্লেখ্য, নির্বাচন পরবর্তী শপথ গ্রহণের পর শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় নির্বাচনী এলাকায় শুভাগমন উপলক্ষে তার নির্বাচনী এলাকার জন মানুষের পক্ষ থেকে মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা সহ সম্বর্ধনা প্রদান করা হয়। পাটকেল ঘাটা হারুনর রশীদ কলেজ মাঠ হতে শোভা যাত্রা সহকারে বিনের পোতা হয়ে নারকেল তলা মোড় দিয়ে পোস্ট অফিস মোড় হয়ে কলেজ রোড দিয়ে জেলা জামায়াত অফিস, হয়ে পৌরসভা দীঘির পাড় হয়ে নিউ মার্কেট দিয়ে খুলনা রোড মোড়ে সংক্ষিপ্ত পথসভায় অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
-

মৃত্যুর মুখে ‘আইবুড়ি নদী’: দখলের পায়তারা!
সুলতান শাহাজান: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘আইবুড়ি নদী’ আজ দখল ও নাব্য সংকটে মৃতপ্রায়। প্রভাবশালী দখলদারদের অবৈধ ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ ও নেট-পাটা দিয়ে বাঁধ দেওয়ার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক দখলের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর বিভিন্ন অংশে মাটি ফেলে পাড় সংকুচিত করা হয়েছে। কোথাও টিনশেড ঘর, কোথাও স্থায়ী স্থাপনা গড়ে উঠেছে। নদীর জলভাগে অবৈধ ঘের সম্প্রসারণেরও অভিযোগ রয়েছে। ফলে নদী ক্রমেই সরু খালে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, একসময় আইবুড়ি নদীতে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হতো, প্রচুর মাছ ধরা যেত এবং নৌকাই ছিল যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। নৌকা বাইচের মতো উৎসবও আয়োজন হতো। কিন্তু এখন শুকনো মৌসুমে নদীতে হাঁস চরানোর মতোও পানি থাকে না। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে নদীর প্রবাহ আটকে দেওয়ায় পলি জমে নাব্যতা কমে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি দ্রুত নামতে না পেরে দুই তীর প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। স্থানীয় আব্দুল গফুর বলেন, “অবৈধ দখল আর ভরাটের কারণে নদীটি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন নদী দখল হয়ে সরু হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রশাসন যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়, কয়েক বছরের মধ্যে নদীর অস্তিত্ব থাকবে না।” রহিমা খাতুন অভিযোগ করেন, “নদী দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। আমরা শুধু দেখেই যাচ্ছি নদীটা কীভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।” পরিবেশ সচেতনরা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে নদী ও খাল প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এগুলো দখল ও ভরাট হলে জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও পরিবেশগত ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক বলেন, “আমি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি অবগত হলাম। দ্রুত নদী দখলের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে স্থানীয়রা প্রশ্ন করছেন, তদন্ত ও আশ্বাসের বাইরে বাস্তব পদক্ষেপ কবে দেখা যাবে। এলাকাবাসীর জোর দাবি, সরকারি উদ্যোগে দ্রুত নদী খনন করে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নেট-পাটা অপসারণ এবং নদী খননের মাধ্যমে আইবুড়ি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় শ্যামনগরের এই ঐতিহ্যবাহী নদী অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
